osudhkosh

জেনেরিক

Alectinib

বাজারে 1টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

  • মূল উপাদান: অ্যালেকটিনিব (Alectinib) ১৫০ মিগ্রা ক্যাপসুল
  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: এএলকে (ALK)-পজিটিভ অ্যাডভান্সড নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (NSCLC)-এর ফার্স্ট-লাইন বা পরবর্তী চিকিৎসায়
  • সেবনমাত্রা: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৬০০ মিগ্রা (১৫০ মিগ্রার ৪টি ক্যাপসুল) দিনে ২ বার খাবারের সাথে
পরিচিতি

অ্যালেকটিনিব হলো একটি অত্যন্ত কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট এএলকে (ALK) এবং আরইটি (RET) টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর। এটি ফুসফুসের ক্যানসার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি রোধ করতে এবং টিউমার সঙ্কুচিত করতে ভূমিকা রাখে। এটি রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা (Blood-brain barrier) অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রেও (CNS) ক্যানসারের বিস্তার রোধ করতে পারে।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)

অ্যানাপ্লাস্টিক লিিম্ফোমা কাইনেজ (ALK)-পজিটিভ অ্যাডভান্সড নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (NSCLC) আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ফার্স্ট-লাইন একক থেরাপি হিসেবে অথবা পূর্বে ক্রিজোটিনিব (Crizotinib) দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে নির্দেশিত।

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর (Tyrosine Kinase Inhibitor - TKI)

ফার্মাকোলজি

অ্যালেকটিনিব ক্যানসার কোষের ALK টাইরোসিন কাইনেজ এনজাইমের কার্যকলাপকে অকার্যকর করে এর ডাউনস্ট্রিম সিগন্যালিং পাথওয়ে (STAT 3 এবং PI3K/AKT) বন্ধ করে এবং ক্যানসার কোষের মৃত্যু (Apoptosis) ঘটায়। এটি রক্তের মস্তিষ্ক বাধা অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে কার্যকর ঘনত্ব বজায় রাখতে পারে, যা ব্রেইন মেটাস্ট্যাসিস চিকিৎসায় দারুণ কার্যকর।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

ALK এবং RET কাইনেজের কার্যকলাপকে বাধাগ্রস্ত করে সেলুলার প্রসার বন্ধ করে এবং কোষের অ্যাপোপটোসিস বা মৃত্যু ঘটায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: ৬০০ মিগ্রা (১৫০ মিগ্রার ৪টি ক্যাপসুল) দিনে ২ বার খাবারের সাথে (দৈনিক মোট ১২০০ মিগ্রা)। গুরুতর যকৃতের জটিলতা (Child-Pugh C): ৪৫০ মিগ্রা দিনে ২ বার খাবারের সাথে (দৈনিক মোট ৯০০ মিগ্রা)। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ১৫০ মিগ্রা করে মাত্রা কমানো যেতে পারে। ৩০০ মিগ্রা দিনে ২ বার মাত্রাতেও সহ্য না হলে ওষুধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।

সেবন পদ্ধতি

ক্যাপসুল মুখে সেব্য। খাবারের সাথে সেবন করতে হবে। ক্যাপসুলগুলো চিবানো, ভাঙা বা গুঁড়ো করা যাবে না, আস্ত গিলে সেবন করতে হবে।

ডোজ মিস করলে করণীয়

পরবর্তী নির্ধারিত মাত্রার সময় ৬ ঘণ্টার বেশি বাকি থাকলে মিসড ডোজটি গ্রহণ করা যাবে। পরবর্তী ডোজের সময় কাছাকাছি হলে তা বাদ দিন। একসাথে দুটি ডোজ গ্রহণ করবেন না। সেবনের পর বমি হলেও অতিরিক্ত ডোজ না নিয়ে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত মাত্রায় সেবন করুন।

ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন

CYP3A4 এনজাইম ইনডিউসার (যেমন: রিফাম্পিসিন, ফেনোবারবিটাল) বা ইনহিবিটর (যেমন: পসাকোনাজল, কেটোকোনাজল)-এর সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সার্বিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা উচিত। গ্যাস্ট্রিক পিএইচ বৃদ্ধিকারী ওষুধের সাথে মাত্রাগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।

খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

অবশ্যই খাবারের সাথে সেবন করতে হবে, যা এর সঠিক শোষণে সাহায্য করে।

প্রতিনির্দেশনা

অ্যালেকটিনিব বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি জমা (এডিমিয়া), পেশীতে ব্যথা (Myalgia), বমি বমি ভাব, রক্তে বিলিরুবিন বৃদ্ধি, রক্তস্বল্পতা (Anemia) এবং ত্বকে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ (Fetal Harm)। প্রজননক্ষম নারীদের চিকিৎসা চলাকালীন এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৩ মাস পর্যন্ত নিশ্চিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা আবশ্যক।

Pregnancy Category: D — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

অ্যালেকটিনিব মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা জানা নেই। তাই চিকিৎসা চলাকালীন স্তন্যদান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।

সতর্কতা ও সাবধানতা

ফুসফুসের প্রদাহ (Pneumonitis/ILD), যকৃতের বিষাক্ততা (Hepatotoxicity) এবং স্লো হার্টবিট (Bradycardia)-এর লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। সূর্যালোকের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে, তাই বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন (SPF >50) ব্যবহার করা উচিত।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

মৃদু বা মাঝারি কিডনি ও লিভারের সমস্যায় মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। গুরুতর লিভারের সমস্যায় (Child-Pugh C) প্রারম্ভিক মাত্রা ৪৫০ মিগ্রা দিনে ২ বার।

ওভারডোজ

অতিরিক্ত সেবনের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিডোট নেই। লক্ষণভিত্তিক ও সহায়ক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

অ্যান্টি-নিওপ্লাস্টিক প্রিপারেশন, প্রোটিন কাইনেজ ইনহিবিটর (Anti neoplastic preparations, Protein kinase inhibitor)

সংরক্ষণ পদ্ধতি

৩০° সেলসিয়াসের নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

রাসায়নিক গঠন

C30H34N4O2

সাধারণ জিজ্ঞাসা

অ্যালেকটিনিব (Alectinib) কী ধরনের ওষুধ এবং এটি কী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
এটি একটি টারগেটেড ক্যানসার থেরাপি বা প্রোটিন টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর। এটি মূলত এএলকে (ALK)-পজিটিভ অ্যাডভান্সড নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (NSCLC) বা ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
অ্যালেকটিনিব ক্যাপসুল কীভাবে সেবন করতে হয়?
সাধারণ সেবনমাত্রা হলো ৬০০ মিগ্রা (১৫০ মিগ্রার ৪টি ক্যাপসুল) দিনে ২ বার খাবারের সাথে। ক্যাপসুলগুলো না চিবিয়ে বা না ভেঙে আস্ত গিলে খেতে হয়।
ওষুধ সেবনের সময় সূর্যালোকের বিষয়ে কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
অ্যালেকটিনিব ব্যবহারে ত্বক সূর্যালোকের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে (Photosensitivity)। তাই চিকিৎসা চলাকালীন এবং ওষুধ বন্ধের পর অন্তত ৭ দিন সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলতে হবে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
গর্ভাবস্থায় কি অ্যালেকটিনিব গ্রহণ করা যাবে?
না, গর্ভাবস্থায় এটি গ্রহণ করা নিষিদ্ধ কারণ এটি ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। প্রজননক্ষম নারীদের চিকিৎসা চলাকালীন এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৩ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।