osudhkosh

ইসিজি (ECG) কী? কেন করা হয়, কীভাবে করা হয়, খরচ ও ফলাফল

Published: August 16, 2026

Share:
ইসিজি (ECG) কী? কেন করা হয়, কীভাবে করা হয়, খরচ ও ফলাফল

হৃদরোগ নির্ণয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহৃত পরীক্ষা হলো ইসিজি (ECG - Electrocardiogram)। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ (Electrical Activity) রেকর্ড করা হয়। হৃদস্পন্দনের গতি, ছন্দ এবং বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে ইসিজি অত্যন্ত কার্যকর একটি পরীক্ষা।

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা বা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে চিকিৎসক সাধারণত প্রথমেই ইসিজি করার পরামর্শ দেন। এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ ব্যথাহীন পরীক্ষা।


ইসিজি (ECG) কী?

ইসিজি বা Electrocardiogram হলো এমন একটি পরীক্ষা, যা হৃদপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দনের সময় উৎপন্ন হওয়া বৈদ্যুতিক সংকেত (Electrical Signals) রেকর্ড করে।

পরীক্ষার সময় শরীরের বুক, হাত এবং পায়ে ছোট ছোট ইলেকট্রোড লাগানো হয়। এই ইলেকট্রোডগুলো হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ একটি গ্রাফ আকারে প্রদর্শন করে, যা দেখে চিকিৎসক হৃদযন্ত্রের অবস্থা মূল্যায়ন করেন।


কেন ইসিজি করা হয়?

চিকিৎসক বিভিন্ন কারণে ইসিজি করার পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন—

  • বুকে ব্যথার কারণ নির্ণয়

  • হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করা

  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Arrhythmia) নির্ণয়

  • হৃদস্পন্দনের গতি বেশি বা কম কিনা দেখা

  • হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ মূল্যায়ন

  • উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের প্রভাব পর্যবেক্ষণ

  • হার্টের ওষুধ বা চিকিৎসার অগ্রগতি মূল্যায়ন

  • অপারেশনের আগে হার্ট পরীক্ষা করা


ইসিজি কীভাবে করা হয়?

১. রোগীর প্রস্তুতি

বিশেষ কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। সাধারণ পোশাক পরেই পরীক্ষা করা যায়।

২. ইলেকট্রোড লাগানো

বুক, দুই হাত এবং দুই পায়ে কয়েকটি ছোট সেন্সর (Electrodes) লাগানো হয়।

৩. রেকর্ডিং

রোগীকে কয়েক মিনিট শান্তভাবে শুয়ে থাকতে বলা হয়। এ সময় হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত মেশিনে রেকর্ড হয়।

৪. রিপোর্ট

পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি গ্রাফ (ECG Tracing) পাওয়া যায়, যা কার্ডিওলজিস্ট বা চিকিৎসক বিশ্লেষণ করেন।


ইসিজি করতে কত সময় লাগে?

সাধারণত পুরো পরীক্ষাটি ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। রিপোর্টও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়।


ইসিজিতে কী কী সমস্যা ধরা পড়ে?

ইসিজির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব।

  • হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack)

  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Arrhythmia)

  • ব্র্যাডিকার্ডিয়া (হার্টবিট খুব ধীর)

  • ট্যাকিকার্ডিয়া (হার্টবিট খুব দ্রুত)

  • হার্টের ব্লক (Heart Block)

  • হৃদপিণ্ডের পেশীর ক্ষতি

  • ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কিছু পরিবর্তন

  • কিছু জন্মগত হৃদরোগের ইঙ্গিত


ইসিজির সুবিধা

  • সম্পূর্ণ ব্যথাহীন

  • নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত

  • মাত্র কয়েক মিনিটে সম্পন্ন হয়

  • কম খরচে করা যায়

  • দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যায়

  • প্রাথমিক পর্যায়ে হৃদরোগ শনাক্ত করতে সহায়ক


ইসিজির কোনো ঝুঁকি আছে কি?

সাধারণ ইসিজি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য কোনো ঝুঁকি নেই। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি পরীক্ষা এবং এতে শরীরে কোনো বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রবেশ করানো হয় না। ইলেকট্রোডগুলো শুধুমাত্র হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করে।


বাংলাদেশে ইসিজির আনুমানিক খরচ

বাংলাদেশে ইসিজির খরচ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

  • সরকারি হাসপাতাল: প্রায় ১০০–৩০০ টাকা

  • বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার: প্রায় ৩০০–৮০০ টাকা

দ্রষ্টব্য: হাসপাতাল, শহর এবং সেবার ধরন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হতে পারে।


কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের উপসর্গগুলো থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—

  • হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা

  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

  • অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন

  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

  • অতিরিক্ত ঘাম ও বুকে চাপ অনুভব করা


উপসংহার

ইসিজি (ECG) একটি সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ পরীক্ষা, যা হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হার্ট অ্যাটাক, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং অন্যান্য হৃদরোগ দ্রুত শনাক্ত করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো ইসিজি করানো উচিত।

দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য-তথ্য প্রদান করার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। আপনার শারীরিক সমস্যা বা হৃদরোগের লক্ষণ থাকলে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Share:

Comments

No comments yet. Be the first to comment.

Leave a comment

Please don't ask for or give personal medical advice in comments — consult a registered physician for your specific situation.

Never published

Published after review.

More news

ক্রিয়েটিনিন বাড়লে কী করবেন? কী খাবেন ও কী এড়াবেন

ক্রিয়েটিনিন বাড়লে কী করবেন? কী খাবেন ও কী এড়াবেন

রক্ত পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিন বেশি এসেছে? জেনে নিন ক্রিয়েটিনিন কেন বাড়ে, eGFR ও UACR কী, কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন এবং কখন কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

September 4, 2026

কোন বয়সে কত প্রেসার স্বাভাবিক? ১২০/৮০, ১৩০/৮০ নাকি ১৪০/৯০

কোন বয়সে কত প্রেসার স্বাভাবিক? ১২০/৮০, ১৩০/৮০ নাকি ১৪০/৯০

বয়স অনুযায়ী প্রেসার কত থাকা উচিত? ১২০/৮০ কি স্বাভাবিক, ১৩০/৮০ বা ১৪০/৯০ হলে কী বোঝায়? জেনে নিন রক্তচাপের সঠিক মাত্রা, উচ্চ-নিম্ন প্রেসারের লক্ষণ এবং বাড়িতে সঠিকভাবে BP মাপার নিয়ম।

September 1, 2026

Period Odour: Causes, Prevention, Hygiene Tips & When to See a Doctor

Period Odour: Causes, Prevention, Hygiene Tips & When to See a Doctor

A mild odour during menstruation is usually normal. However, a strong or persistent smell accompanied by itching, burning, unusual discharge, or pelvic pain may indicate an underlying infection. This comprehensive guide explains the causes of period odour, hygiene tips, prevention strategies, and when to seek medical attention.

August 31, 2026