দাঁতের যত্নে ব্যবহৃত টুথপেস্টে কি মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক? জানুন গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য
Published: August 2, 2026

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা আমাদের নিয়মিত অভ্যাসের একটি অংশ। মুখ ও দাঁতের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্রাশ করার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই অতি পরিচিত টুথপেস্ট নিয়েই বর্তমানে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। (সম্প্রতি) দেশের বাজারে প্রচলিত কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
এই তথ্য জানার পর কি হঠাৎ করেই টুথপেস্ট ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া উচিত, নাকি পুরো বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার? চলুন, গবেষণাটির মূল তথ্য, এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি একনজরে জেনে নেওয়া যাক।
গবেষণায় কী উঠে এসেছে?
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) টুথপেস্ট নিয়ে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা প্রকাশ করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ পরিচালিত এই পরীক্ষায় বাজারের মোট ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এর মধ্যে ২৬টি টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি কিছু আমদানিকৃত টুথপেস্টেও এর প্রমাণ মিলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে প্রায় ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পরীক্ষित ৩৪টি নমুনার মধ্যে ৮টি টুথপেস্টে সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত পাওয়া গেছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক আসলে কী?
সাধারণত ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকৃতির প্লাস্টিক কণাকেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এতই সূক্ষ্ম হতে পারে যে খালি চোখে অনেক সময় তা দেখাই যায় না। উৎস ও গঠনের ওপর ভিত্তি করে এগুলো দুই ধরনের হতে পারে:
প্রাথমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক (Primary): কোনো নির্দিষ্ট পণ্যে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই অত্যন্ত ক্ষুদ্র দানা বা কণা হিসেবে কৃত্রিমভাবে এগুলো তৈরি করা হয়।
মাধ্যমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক (Secondary): বড় আকারের প্লাস্টিক সামগ্রী (যেমন: বোতল, পলিথিন, ব্যাগ) রোদ, তাপ ও দীর্ঘমেয়াদি ঘর্ষণের মাধ্যমে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় রূপ নেয়।
টুথপেস্টে কীভাবে মিশতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক?
টুথপেস্টে এই কণাগুলোর উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও সুনির্দিষ্ট ল্যাব টেস্ট ছাড়া এর সঠিক উৎস নিশ্চিত করা কঠিন। তবে গবেষকদের মতে, কয়েকটি প্রধান সম্ভাব্য কারণ এর পেছনে থাকতে পারে:
ইচ্ছাকৃত সংযোজন (Microbeads): অতীতে অনেক কোম্পানি দাঁত মৃদু ঘষে পরিষ্কার করতে এবং চকচকে ভাব আনতে পেস্টে প্লাস্টিক বিডস ব্যবহার করত। অনেক উন্নত দেশ এটি নিষিদ্ধ করলেও সব জায়গায় এর ব্যবহার বন্ধ হয়নি।
সিনথেটিক পলিমার: টুথপেস্টের নির্দিষ্ট ঘনত্ব বজায় রাখতে কৃত্রিম পলিমার ব্যবহার করা হয়। তবে সব পলিমার ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা নয়; এটি মূলত এর রাসায়নিক গঠন ও পানিতে দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
কারখানায় উৎপাদনকালীন দূষণ: উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় কারখানা বা পাইপলাইনের সংস্পর্শে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক কণা মিশে যেতে পারে।
প্যাকেজিং বা টিউব: দীর্ঘদিন প্লাস্টিকের বহুস্তরবিশিষ্ট টিউবের ভেতর টুথপেস্ট সংরক্ষিত থাকায় টিউবের দেয়াল থেকেও কিছু কণা পেস্টে আসতে পারে।
ল্যাবরেটরি কনট্যামিনেশন: পরীক্ষার সময় পরিবেশগত বা গবেষণাগারের বাতাসের কারণেও নমুনায় বাইরে থেকে সামান্য প্লাস্টিক কণা যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
টুথপেস্ট থেকে কীভাবে শরীরে প্রবেশ করতে পারে?
সাধারণত ব্রাশ করার পর মুখ ধুয়ে আমরা টুথপেস্ট ফেলে দিই। ফলে পুরো পেস্ট শরীরে ঢোকার সুযোগ থাকে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট মাধ্যমে এর কণা মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে:
ব্রাশ করার সময় গিলে ফেলা: অজান্তেই লালার সাথে সামান্য পরিমাণ টুথপেস্ট পেটে চলে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক, যা মানবদেহে প্লাস্টিক প্রবেশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি: শিশুরা অনেক সময় টুথপেস্টের মিষ্টি স্বাদ বা সুগন্ধের কারণে তা আনন্দের সাথেই গিলে ফেলে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক গ্রহণের মাত্রা বেশি হতে পারে।
মুখের সংবেদনশীল টিস্যু: ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট মাড়ি ও মুখের ভেতরের মিউকোসার সংস্পর্শে আসে। তবে এর মাধ্যমে ঠিক কতটুকু কণা রক্তে মিশে, তা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
খাদ্যচক্রের মাধ্যমে: কুলকুচি করা পানি ড্রেনের মাধ্যমে নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মিশে। জলজ প্রাণীরা এগুলো গ্রহণ করার পর শেষ পর্যন্ত মাছ বা অন্যান্য খাবারের মাধ্যমে তা আবার আমাদের খাদ্যতালিকায় ফিরে আসে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক: মানবস্বাস্থ্যের জন্য এটি কতটা মারাত্মক?
মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন আর কেবল সমুদ্র বা মাটিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অজান্তেই প্রতি সপ্তাহে গড়ে একটি ক্রেডিট কার্ডের সমপরিমাণ প্লাস্টিক শরীর গ্রহণ করছেন! মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান থাকলেও, প্রাথমিক ফলাফল বেশ উদ্বেগজনক:
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি: ২০২৪ সালের মার্চে New England Journal of Medicine-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রক্তনালীর ব্লকেজে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, সেসব রোগীর হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি প্লাস্টিকমুক্ত রোগীদের তুলনায় অনেক বেশি।
কোষ ও জিনগত পরিবর্তন: মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক সরাসরি শরীরের স্বাভাবিক কোষ এবং ডিএনএর গভীরে (নিউক্লিয়াসে) প্রবেশ করে জিনের স্বাভাবিক গঠন ও আচরণ বদলে দেয়, যা স্থায়ী জটিলতা তৈরি করে।
ক্যানসারের সম্ভাবনা: শরীরে জমে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং কোষের মৃত্যু (Cell Death) ঘটায়, যা কোলন ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ব্যাকটেরিয়া ও টক্সিনের বাহক: মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপরিভাগে বিপজ্জনক রোগজীবাণু বেঁচে থাকে এবং এগুলো শরীরের ভেতরে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছড়ায়। ফলে সাধারণ ইনফেকশন সারাতেও জটিলতা তৈরি হয়।
অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ধ্বংস: এটি পরিপাকতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট করে গ্যাস্ট্রিক, ফ্যাটি লিভার ও হরমোনের অসমতা তৈরি করে।
শিশুদের ক্ষেত্রে কেন অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন?
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পরীক্ষিত শিশুতোষ টুথপেস্টের বড় একটি অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। ব্র্যান্ডভিত্তিক কণার পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো:
ব্র্যান্ডের নাম | প্রতি ১০০ গ্রামে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা |
কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি) | ১৪০টি (সর্বোচ্চ) |
মেরিল বেবি স্ট্রবেরি | ৬০টি |
মেরিল বেবি অরেঞ্জ | ৪০টি |
পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ | ২০টি |
শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হওয়ার কারণ:
কম শারীরিক ওজন: শিশুদের শরীরের ওজন কম থাকায় অল্প পরিমাণ প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করলেও তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি হয়।
থুতু ফেলতে না পারা: ৫-৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা সঠিকভাবে থুতু ফেলতে না পেরে অজান্তেই পেস্ট গিলে ফেলে।
আকর্ষণীয় ফ্লেভার: ফলের সুবাস ও মিষ্টি স্বাদের কারণে শিশুরা পেস্টকে খাবার মনে করে আনন্দ নিয়ে গিলে খায়।
এখন কি টুথপেস্ট ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া উচিত?
একদমই নয়! শুধু মাইক্রোপ্লাস্টিকের আতঙ্কে টুথপেস্ট ব্যবহার বন্ধ করা চরম বোকামি হবে। এতে দাঁতের ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
যে ভুলগুলো একদম করবেন না:
আতঙ্কিত হয়ে শুধু পানি দিয়ে ব্রাশ করবেন না, এতে ব্যাকটেরিয়া দূর হয় না।
কয়লা, ছাই বা অতিরিক্ত বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না, এতে দাঁতের এনামেল স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়।
বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ ছাড়া ফ্লুরাইডযুক্ত পেস্ট এড়িয়ে চলবেন না।
যা করা উচিত:
মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি বা মানসম্মত পেস্ট বেছে নিন।
ব্রাশ করার পর খুব ভালোভাবে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলুন যাতে পেস্ট পেটে না যায়।
শিশুদের ক্ষেত্রে সবসময় আপনার উপস্থিতিতে মটরশুঁটির দানার সমান পেস্ট ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
প্লাস্টিক কণা মুক্ত ৮টি টুথপেস্ট ও প্রাসঙ্গিক জরুরি তথ্য
গবেষণাগারের পরীক্ষায় নিচের নমুনাগুলোতে কোনো ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি:
প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার (Parodontax Expert Gum Care)
জেনফ্রেশ (Zenfresh)
প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি - আম (Parachute Just for Baby - Mango)
সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল (Sensodyne Fresh Gel)
কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ (Colgate MaxFresh)
ক্লোজআপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি (Closeup Red Hot Zinc Fresh Technology)
কোদোমো - অরেঞ্জ (Kodomo - Orange)
কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট (Colgate Active Salt)
টুথপেস্ট কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
প্যাকেটে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো আছে কি না তা যাচাই করুন:
প্রস্তুতকারक বা আমদানিকারকের নাম এবং যোগাযোগের ঠিকানা
ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ শেষের তারিখ
ফ্লুরাইড আছে কি না তার নিশ্চিতকরণ
ব্যবহারবিধি ও সতর্কতা
অক্ষত ও সিল করা প্যাকেজিং
⚠️ যে উপাদানগুলো এড়িয়ে চলবেন: ট্রাইক্লোসান (Triclosan), পলিইথিলিন (PE) এবং সোডিয়াম লরিল সালফেট (SLS) যুক্ত টুথপেস্ট কেনা থেকে বিরত থাকুন।
“হারবাল” বা “ন্যাচারাল” কি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?
না। “হারবাল”, “ন্যাচারাল”, “অর্গানিক” বা “কেমিক্যাল-ফ্রি” শব্দগুলো অনেক সময় কেবল বিপণনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এম. পিএম. হারবাল, ম্যাজিক হারবাল এবং মেসওয়াকের মতো প্রাকৃতিক দাবি করা টুথপেস্টেও ৪০টির মতো মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তাই শুধু মোড়কের এই শব্দগুলো না দেখে উপাদানের তালিকা ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করুন।
বিএসটিআই (BSTI)-এর অবস্থান
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)। বিএসটিআই জানিয়েছে, অনুমোদিত মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহারের জন্য ৮১টি উপাদানের নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো স্থান নেই।
জনস্বার্থ বিবেচনায় ইএসডিও (ESDO)-এর তথ্য যাচাই করতে এবং স্বাধীন পরীক্ষাগারে পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মান অমান্য করে থাকে, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা (FAQ)
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক কেন থাকে? ইচ্ছাকৃত সংযোজন, কাঁচামাল বা কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ার দূষণ, প্লাস্টিক প্যাকেজিং কিংবা ল্যাবের পরীক্ষার পরিবেশগত কারণে এটি থাকতে পারে।
ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট গিলে ফেললে কী হবে? অল্প পরিমাণে পেটে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে গিলে ফেলা এড়িয়ে চলতে হবে।
শিশুদের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকলে কী করবেন? হঠাৎ ব্রাশ বন্ধ করবেন না। মটরশুঁটির দানার সমান পেস্ট দিন, গিলে না ফেলার অভ্যাস করান এবং সবসময় সাথে থাকুন।
হারবাল টুথপেস্ট কি মাইক্রোপ্লাস্টিক-মুক্ত? না। এতে উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকতে পারে, কিন্তু তা প্লাস্টিক বা দূষণমুক্ত হওয়ার কোনো গ্যারান্টি দেয় না।
শুধু পানি দিয়ে ব্রাশ করা কি ঠিক হবে? না। শুধু পানি দিয়ে ব্রাশ করলে ক্যাভিটি ও দাঁতের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে পরিমিতভাবে মানসম্মত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
Comments
No comments yet. Be the first to comment.
Leave a comment
Please don't ask for or give personal medical advice in comments — consult a registered physician for your specific situation.


