চিকুনগুনিয়া ২০২৬: লক্ষণ, ডেঙ্গু থেকে পার্থক্য ও প্রতিরোধের গাইড
Published: September 16, 2026

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর পাশাপাশি আরেকটি এডিস মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে — চিকুনগুনিয়া। ২০২৬ সালে চট্টগ্রামে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এটিকে ডেঙ্গুকে ছাপিয়ে যাওয়া প্রাদুর্ভাব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ গবেষণায় প্রায় ১,১০০ জন চিকুনগুনিয়া রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গোড়ালি, হাঁটু, কব্জি ও হাতের অস্থিসন্ধিই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এই গবেষণায় ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে একাধিক নতুন মিউটেশনও শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে আগে পাকিস্তান, ভারত ও থাইল্যান্ডে পাওয়া ভেরিয়েন্টের সাদৃশ্য রয়েছে। আরেকটি চট্টগ্রাম-কেন্দ্রিক গবেষণায় দেখা গেছে, চিকুনগুনিয়া আক্রান্তদের প্রায় ১০ শতাংশ একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে এবং ১ শতাংশ জিকা ভাইরাসেও আক্রান্ত ছিলেন — কারণ তিনটি রোগই একই মশা, এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস দ্বারা ছড়ায়। ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এই সংক্রামক রোগগুলো পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই পরিস্থিতিতে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ, ডেঙ্গু থেকে এর পার্থক্য এবং সঠিক করণীয় জানা জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়ার ইতিহাস ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া নতুন কোনো রোগ নয় — ২০০৮ সালে রাজশাহীতে প্রথম বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, এরপর ২০১১ ও সবচেয়ে বড় আকারে ২০১৭ সালে ঢাকায় ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঘটে। ২০১৭ সালের পর কয়েক বছর রোগটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ২০২৪ সাল থেকে এটি ফিরে আসতে শুরু করে এবং ২০২৫ সালে ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (IEDCR)-এর তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে প্রায় ৭৩২ জন সন্দেহভাজন চিকুনগুনিয়া রোগীর তথ্য নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে ৪০০ জনের সংক্রমণ RT-PCR পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। একই সময়ে চট্টগ্রামে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় ২,৭০০ জন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে চট্টগ্রামে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় গবেষণায় ভাইরাসের নতুন জিনগত পরিবর্তনও শনাক্ত হয় — যা রোগের বিস্তার ও তীব্রতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
চিকুনগুনিয়া কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত (CHIKV) রোগ, যা সংক্রামিত এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার কামড়ে ছড়ায় — অর্থাৎ ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী মশাই চিকুনগুনিয়ার বাহক। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে বেশি সক্রিয় থাকে এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। একজন সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশাটি ভাইরাস বহন করে অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সরাসরি সংক্রমণ ছড়ায় না, তবে গর্ভবতী মা প্রসবকালীন সময়ে সংক্রমিত থাকলে নবজাতকের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
লক্ষণ: কতদিনে দেখা দেয়, কেমন হয়
মশার কামড়ের সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে (কখনও কখনও ২ থেকে ১২ দিন পর্যন্তও) লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- আকস্মিক ও তীব্র জ্বর (প্রায়ই ১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত)
- অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা — বিশেষ করে গোড়ালি, হাঁটু, কব্জি, হাত ও কাঁধের জোড়ায়, যা প্রায়ই খুব কষ্টদায়ক ও দুর্বল করে দেওয়ার মতো হয়
- অস্থিসন্ধিতে ফোলাভাব ও লালচেভাব
- মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা
- শরীরে ফুসকুড়ি বা র্যাশ
- ক্লান্তি, বমি বমি ভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, চিকুনগুনিয়া রোগীদের মধ্যে র্যাশ দেখা যাওয়ার হার ডেঙ্গু রোগীদের তুলনায় অনেক বেশি (একাধিক তুলনামূলক গবেষণায় প্রায় ৯৬ শতাংশ বনাম ৩৭ শতাংশ), এবং অস্থিসন্ধির ব্যথা এখানে অনেক বেশি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ডেঙ্গু নাকি চিকুনগুনিয়া? পার্থক্য বোঝার উপায়
যেহেতু বাংলাদেশে একই সময়ে দুটি রোগই ছড়াচ্ছে এবং শুরুর দিকের লক্ষণ (জ্বর, মাথাব্যথা, গায়ে ব্যথা) প্রায় একই রকম, তাই পার্থক্য বোঝা কঠিন হতে পারে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য:
- অস্থিসন্ধির ব্যথা: চিকুনগুনিয়ায় জোড়ায় ব্যথা সাধারণত অনেক বেশি তীব্র, ফোলা ও লালচেভাব সহ থাকে এবং জ্বর সেরে যাওয়ার পরও সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। ডেঙ্গুতে গায়ে-হাতে ব্যথা থাকলেও জোড়া ফোলা কম দেখা যায়।
- রক্তক্ষরণের ঝুঁকি: ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যাওয়া ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি থাকে, যেটা চিকুনগুনিয়ায় তুলনামূলক কম।
- র্যাশ: চিকুনগুনিয়ায় র্যাশ হওয়ার হার বেশি এবং এটি প্রায়ই শুরুর দিনগুলোতেই দেখা যায়।
- জ্বরের ধরন: ডেঙ্গুতে জ্বর কয়েক দিন স্থায়ী হয়ে মাঝে কমে আবার বাড়তে পারে (বাইফেজিক জ্বর), চিকুনগুনিয়ায় জ্বর সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যেই কমে আসে কিন্তু ব্যথা দীর্ঘদিন থাকে।
তবে এই পার্থক্যগুলো সবসময় স্পষ্ট থাকে না, এবং চট্টগ্রামের গবেষণা যেমন দেখিয়েছে, একই ব্যক্তি দুটি ভাইরাসে (এমনকি জিকাতেও) একসঙ্গে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই নিশ্চিতভাবে জানার একমাত্র উপায় রক্ত পরীক্ষা।
রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
জ্বর শুরুর প্রথম সপ্তাহে RT-PCR পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস সরাসরি শনাক্ত করা যায়। প্রথম সপ্তাহের পরে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলে IgM ELISA পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়। যেহেতু ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ওভারল্যাপ করে এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্ত এর ওপর নির্ভর করে (বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ বাছাইয়ে), চিকিৎসক সাধারণত একই সঙ্গে ডেঙ্গুর NS1/IgM পরীক্ষাও করার পরামর্শ দেন যাতে দুটি রোগ আলাদা করা যায়।
চিকিৎসা ও ঘরোয়া যত্ন
চিকুনগুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই — চিকিৎসা মূলত লক্ষণ উপশমের উপরই নির্ভর করে:
- বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল পান — জ্বরের সময় শরীরে পানির অভাব যেন না হয়।
- জ্বর ও ব্যথা কমাতে: ডেঙ্গু-প্রবণ এলাকায় (যেমন বাংলাদেশ) ডেঙ্গু বাতিল না হওয়া পর্যন্ত প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন-এর মতো NSAID ওষুধ ডেঙ্গু হলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। প্যাকেজে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং নির্দিষ্ট ডোজের বিষয়ে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- ডেঙ্গু বাতিল হওয়ার পর দীর্ঘস্থায়ী জোড়ার ব্যথায় চিকিৎসক প্রয়োজনে NSAID (যেমন আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন), হালকা ফিজিওথেরাপি বা প্রয়োজনে অন্য ব্যথানাশক পরামর্শ দিতে পারেন।
- প্রচুর বিশ্রাম নিলে অধিকাংশ রোগী ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মূল উপসর্গ থেকে সেরে ওঠেন, যদিও জোড়ার ব্যথা এরপরও দীর্ঘদিন থাকতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা: ক্রনিক জয়েন্ট পেইন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, চিকুনগুনিয়ার তীব্র সংক্রমণ শুরুর ১২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় পরও যদি অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, শক্তভাব বা ফোলাভাব থেকে যায়, তাকে "ক্রনিক চিকুনগুনিয়া" বলা হয়। এই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা মাসের পর মাস, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বছরের পর বছর থাকতে পারে এবং কখনও কখনও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা স্পন্ডিলোআর্থ্রাইটিসের মতো প্রদাহজনিত জোড়ার রোগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ জটিলতা তৈরি করতে পারে। এই কারণে দীর্ঘস্থায়ী জোড়ার ব্যথা হলে অবশ্যই একজন মেডিসিন বা রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ ঝুঁকিগ্রুপ: নবজাতক, বয়স্ক ও গর্ভবতী মা
নবজাতক: মা যদি প্রসবের প্রায় দুই দিন আগে থেকে দুই দিন পরের সময়সীমার মধ্যে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত থাকেন, তাহলে গর্ভকালীন সংক্রমণের মাধ্যমে নবজাতকের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। এতে জ্বর ও খিটখিটে ভাব থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের প্রদাহ, খিঁচুনি, রক্তরোগ, লিভার এনজাইম বৃদ্ধি সহ হেপাটাইটিস এবং শ্বাসযন্ত্র বা হৃদযন্ত্রের সমস্যার মতো গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এই কারণে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে থাকা গর্ভবতী মায়েদের জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের নজরদারিতে থাকা জরুরি।
বয়স্ক ব্যক্তি: ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা এবং ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। তাদের ক্ষেত্রে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভবতী মা: চিকুনগুনিয়া-প্রবণ এলাকায় বসবাসকারী বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করা গর্ভবতী নারী, বিশেষত যারা প্রসবের কাছাকাছি সময়ে আছেন, তাদের মশার কামড় থেকে সুরক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
নবজাতক ছাড়াও বয়স্ক শিশুরাও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে, এবং তাদের ক্ষেত্রে জ্বর প্রায়ই বড়দের তুলনায় বেশি তীব্র হতে দেখা যায়, যদিও জোড়ার ব্যথা তুলনামূলক কম প্রকট থাকে। শিশুর ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত খিটখিটে ভাব, খাওয়ায় অনিহা, ঘন ঘন বমি বা শরীরে র্যাশের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া দেখা গেলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুকে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা কোনো NSAID ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু নির্ধারিত মাত্রার প্যারাসিটামল ব্যবহার করা উচিত, এবং পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার (যেমন ওরস্যালাইন/ORS, ডাবের পানি, স্যুপ) দিয়ে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করতে হবে।
সুস্থ হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা
জ্বর কমে যাওয়ার পরও অস্থিসন্ধির ব্যথা দীর্ঘদিন থাকতে পারে বলে এই সময়ে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি:
- ব্যথাযুক্ত জোড়ায় হালকা স্ট্রেচিং বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি ব্যথা কমাতে ও জোড়ার নমনীয়তা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে
- অতিরিক্ত ভারী কাজ বা দীর্ঘ সময় এক অবস্থানে বসে থাকা এড়িয়ে চলা ভালো
- ব্যথা ১২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে মেডিসিন বা রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়ন করানো উচিত, যাতে অন্য কোনো প্রদাহজনিত জোড়ার রোগ (যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস) থেকে আলাদা করা যায়
- পর্যাপ্ত ঘুম, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ কমানো সার্বিক পুনরুদ্ধারে সহায়ক
কখন দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যাবেন
- তীব্র জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ (মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া)
- জোড়া অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া বা হাঁটাচলা করতে না পারা
- রক্তক্ষরণের কোনো লক্ষণ (দাঁতের মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত, শরীরে কালচে দাগ) — এক্ষেত্রে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা দ্রুত যাচাই করা জরুরি
- নবজাতক শিশুর মধ্যে জ্বর, খিটখিটে ভাব বা খিঁচুনি
- বয়স্ক বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা
- গর্ভবতী মায়ের জ্বর, বিশেষত প্রসবের কাছাকাছি সময়ে
প্রতিরোধ: এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ
চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু একই মশা দ্বারা ছড়ায়, তাই প্রতিরোধের উপায়ও একই:
- ঘরের ভেতরে-বাইরে কোথাও পরিষ্কার পানি জমতে দেবেন না — ফুলের টব, ফ্রিজের পেছনের ট্রে, ছাদের পানির ট্যাংক, ভাঙা টায়ার বা পাত্রে জমে থাকা পানি সপ্তাহে অন্তত একবার ফেলে দিন বা পরিষ্কার করুন
- দিনের বেলায়, বিশেষত সকাল ও বিকেলে মশারি ব্যবহার করুন, কারণ এডিস মশা মূলত দিনে সক্রিয় থাকে
- শরীরের অনাবৃত অংশে মশা তাড়ানোর রেপেলেন্ট ব্যবহার করুন এবং হালকা রঙের ফুল-হাতা পোশাক পরুন
- জানালা-দরজায় নেট লাগান এবং প্রয়োজনে ঘরে মশানাশক ব্যবহার করুন
- এলাকায় প্রাদুর্ভাব থাকলে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগের মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করুন
উপসংহার
চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রমাণ করছে, চিকুনগুনিয়া এখন আর ছোটখাটো বা বিরল কোনো সমস্যা নয় — এটি ডেঙ্গুর সমান্তরালে বাংলাদেশে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে, এবং ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনও ঘটছে। যেহেতু দুটি রোগের লক্ষণ প্রায় একই রকম কিন্তু চিকিৎসার সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে, তাই জ্বর হলে নিজে থেকে অনুমান না করে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা তথ্য অনুসরণে লেখা।
Frequently Asked Questions
চিকুনগুনিয়া কীভাবে ছড়ায়?
চিকুনগুনিয়া হলে লক্ষণ কতদিনে দেখা যায়?
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
চিকুনগুনিয়া নির্ণয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়?
চিকুনগুনিয়ায় কি ব্যথা কমাতে আইবুপ্রোফেন খাওয়া যাবে?
চিকুনগুনিয়ার জোড়ার ব্যথা কতদিন থাকতে পারে?
গর্ভবতী মায়েরা আক্রান্ত হলে নবজাতকের কী ঝুঁকি থাকে?
চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?
Comments
No comments yet. Be the first to comment.
Leave a comment
Please don't ask for or give personal medical advice in comments — consult a registered physician for your specific situation.


