দাদ (ছত্রাক সংক্রমণ): লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের সম্পূর্ণ গাইড
Published: November 1, 2026

বাংলাদেশের একটি হাসপাতাল-ভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, চর্মরোগ নিয়ে আসা রোগীদের মধ্যে প্রায় ৭৬% রোগীর ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ (দাদ) ধরা পড়েছে যাদের শরীরে দীর্ঘ সময় ঘাম জমে থাকত। আরেকটি বড় সমীক্ষায় ১২,৭৯৮ জন রোগীর মধ্যে ৭১% এর বেশি রোগীর ক্ষেত্রেও একই কারণ পাওয়া গেছে। গরম-আর্দ্র আবহাওয়ার বাংলাদেশে দাদ এতটাই পরিচিত যে অনেকে এটিকে সাধারণ ব্যাপার মনে করে ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছেমতো ক্রিম কিনে লাগান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দক্ষিণ এশিয়ায় (প্রথমে ভারতে, এখন আশেপাশের দেশগুলোতেও) এমন এক ধরনের ছত্রাক ছড়িয়ে পড়েছে যা সাধারণ ওষুধে সারে না — আর এর পেছনে বড় কারণ হলো ভুল ক্রিমের ব্যবহার। তাই দাদ নিয়ে সঠিক তথ্য জানা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি।
দাদ আসলে কী, এবং কেন হয়
নাম শুনে মনে হতে পারে এটি কোনো পোকা বা কৃমির সংক্রমণ, কিন্তু আসলে দাদ (ইংরেজিতে ringworm বা tinea) সম্পূর্ণভাবে একটি ছত্রাকজনিত (fungal) ত্বকের সংক্রমণ। ডার্মাটোফাইট নামের এক ধরনের ছত্রাক ত্বকের বাইরের স্তর, চুল ও নখের কেরাটিন নামক প্রোটিন খেয়ে বেঁচে থাকে এবং বংশবিস্তার করে। আক্রান্ত স্থানে এই বৃদ্ধি একটি চক্র বা বৃত্তাকার দাগের মতো দেখতে হয় বলেই এর নাম "রিং-ওয়ার্ম" হলেও, কোনো worm বা কৃমি এর সাথে সম্পর্কিত নয়।
এই সংক্রমণ ছড়ায় কয়েকভাবে:
- আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকের সরাসরি স্পর্শে
- তোয়ালে, গামছা, চিরুনি, কাপড় বা বিছানার চাদর ভাগাভাগি করে ব্যবহার করলে
- আক্রান্ত পোষা প্রাণী (বিশেষত বিড়াল, কুকুর) থেকে
- সুইমিংপুল, জিম বা গোসলখানার মেঝের মতো স্যাঁতসেঁতে, ভেজা পাবলিক জায়গায় খালি পায়ে হাঁটলে
- মাটি বা দূষিত পরিবেশের সংস্পর্শে
ত্বকের সংস্পর্শে আসার পর সাধারণত ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
দাদর বিভিন্ন ধরন
শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে তার ভিত্তিতে দাদকে কয়েকভাগে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় টিনিয়া করপোরিস (শরীরের দাদ, প্রায় ৩১%) এবং টিনিয়া ক্রুরিস (কুঁচকির দাদ, প্রায় ২৪%)।
- টিনিয়া করপোরিস: শরীরের খোলা ত্বকে (হাত, পা, বুক, পিঠ) গোলাকার, চুলকানিযুক্ত, লালচে দাগ, যার কিনারা কিছুটা উঁচু ও স্পষ্ট এবং মাঝখানটা তুলনামূলক স্বাভাবিক দেখায়।
- টিনিয়া ক্রুরিস: কুঁচকি ও ভেতরের উরুতে হয়, ঘাম জমে এমন জায়গায় বেশি হয়, পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
- টিনিয়া পেডিস (অ্যাথলেট'স ফুট): পায়ের আঙুলের মাঝে চামড়া ওঠা, লালচে ভাব ও চুলকানি; দীর্ঘ সময় স্যান্ডেল-জুতা পরে থাকা মানুষের মধ্যে সাধারণ।
- টিনিয়া ক্যাপিটিস: মাথার ত্বকের দাদ, মূলত শিশুদের মধ্যে হয়, চুল পড়া ও মাথায় গোলাকার টাক-সদৃশ দাগ তৈরি করে।
- টিনিয়া ভার্সিকলার: এটি আলাদা একটি ছত্রাকের (Malassezia) কারণে হয়, ত্বকে হালকা সাদা বা বাদামি রঙের ছোপ ছোপ দাগ তৈরি করে, যা রোদে পোড়া ত্বকে আরও স্পষ্ট হয়।
কাদের ঝুঁকি বেশি
গবেষণাগুলো থেকে স্পষ্ট কিছু ঝুঁকির কারণ পাওয়া যায়:
- দীর্ঘ সময় ঘামে ভেজা থাকা: এটিই সবচেয়ে বড় সংযোগ — একাধিক বাংলাদেশি গবেষণায় ৭০-৭৬% রোগীর ক্ষেত্রে এই কারণ পাওয়া গেছে।
- গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া — বাংলাদেশের মতো ট্রপিক্যাল অঞ্চলে এই কারণেই দাদ এত সাধারণ।
- নোংরা বা না-ধোয়া কাপড় বারবার পরা — একটি যশোরের গবেষণায় প্রায় ৬২% রোগীর পুনরায় সংক্রমণের কারণ ছিল এটি।
- অপরিচ্ছন্নতা ও গাদাগাদি করে থাকা (একই গবেষণায় প্রায় ৬৫% ক্ষেত্রে সংযুক্ত)।
- খালি পায়ে হাঁটা, একই মোজা বারবার পরা।
- ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা।
- পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্যদেরও ঝুঁকি বাড়ে, কারণ একই তোয়ালে-কাপড় ভাগাভাগি করলে সহজে ছড়ায়।
লক্ষণ বিস্তারিত ভাবে
দাদর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- তীব্র চুলকানি, বিশেষত ঘামলে বা গরমে বেশি বাড়ে
- গোলাকার বা বৃত্তাকার লালচে-বাদামি দাগ, যার কিনারা উঁচু ও স্পষ্ট
- দাগের মাঝের অংশ তুলনামূলক কম লালচে বা স্বাভাবিক ত্বকের মতো দেখতে
- ত্বকের উপরিভাগ শুষ্ক, খসখসে বা চামড়া ওঠা
- একাধিক দাগ পাশাপাশি জোড়া লেগে বড় আকার নিতে পারে
- মাথায় হলে গোলাকার স্থানে চুল পড়া; নখে হলে নখ হলদে, পুরু ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া
কেন অনেক সময় দাদ সারতেই চায় না — স্টেরয়েড ক্রিমের বিপদ
বাংলাদেশের ফার্মেসিতে অনেক সময় এমন মিশ্র ক্রিম পাওয়া যায় যাতে একসাথে স্টেরয়েড, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিবায়োটিক মেশানো থাকে। এগুলো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করলে প্রথমে চুলকানি কমে গিয়ে ভালো লাগার মতো অনুভূতি হয়, কিন্তু আসলে স্টেরয়েড ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থানীয়ভাবে কমিয়ে দেয় — ফলে ছত্রাক ভেতরে ভেতরে আরও ছড়িয়ে পড়ে, দাগের চেহারা বদলে যায় এবং চেনা কঠিন হয়ে ওঠে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় "টিনিয়া ইনকগনিটো" (tinea incognito)।
গবেষকরা আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় চিহ্নিত করেছেন: ২০১৪-২০১৭ সালে উত্তর ভারতে প্রথম এমন এক ধরনের ছত্রাক (বৈজ্ঞানিক নাম Trichophyton indotineae) শনাক্ত হয়, যার জিনে (SQLE জিন) পরিবর্তনের কারণে এটি সাধারণ টারবিনাফাইন ওষুধে সহজে সারে না। গবেষণায় দেখা গেছে এই প্রতিরোধী ছত্রাক ছড়ানোর পেছনে বড় কারণ ছিল স্টেরয়েড-অ্যান্টিফাঙ্গাল-অ্যান্টিবায়োটিক মিশ্র ক্রিমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ভুল ডোজে/মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া। এই প্রতিরোধী ছত্রাক এখন ভারতের বাইরে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও পাওয়া গেছে — দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এই ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সুখবর হলো, এই প্রতিরোধী ছত্রাকের বিরুদ্ধে ইট্রাকোনাজল এখনও কার্যকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে।
সহজ কথায়: চুলকানি কমে গেলেও যদি দাগের চেহারা অস্বাভাবিক দেখায়, ছড়িয়ে পড়ে বা সাধারণ ক্রিমে ২-৩ সপ্তাহে না সারে, তাহলে স্টেরয়েড-মিশ্রিত কোনো ক্রিম ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা ডাক্তারকে জানানো জরুরি।
নির্ণয় কীভাবে করা হয়
সাধারণত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসক দাগ দেখেই ক্লিনিক্যালি দাদ চিনতে পারেন। তবে দাগের চেহারা অস্বাভাবিক হলে, বা আগে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহারের ইতিহাস থাকলে, নিশ্চিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা করা হয়:
- KOH (পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড) প্রস্তুতি/স্ক্র্যাপিং: ত্বকের সামান্য আঁশ তুলে মাইক্রোস্কোপের নিচে ছত্রাকের সুতার মতো গঠন (হাইফা) দেখা হয় — এটি সবচেয়ে সহজ ও সাধারণ পরীক্ষা।
- ফাঙ্গাল কালচার: নির্দিষ্ট প্রজাতি শনাক্ত করতে বা ওষুধ-প্রতিরোধী সন্দেহ হলে প্রয়োজন হতে পারে।
- উড'স ল্যাম্প: কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণে সহায়ক হলেও টিনিয়া ভার্সিকলারে এর সংবেদনশীলতা সীমিত বলে গবেষণায় উল্লেখ আছে।
চিকিৎসা: কোন ক্ষেত্রে কী প্রয়োজন
দাদর চিকিৎসা মূলত সংক্রমণের স্থান ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে:
- সীমিত, শরীরের চামড়ার দাদ (করপোরিস/ক্রুরিস/পেডিস): সাধারণত টপিক্যাল অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম — ক্লোট্রিমাজল, মাইকোনাজল বা টারবিনাফাইন — দিনে ১-২ বার, সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ ব্যবহার করতে হয়। দাগ চোখে দেখতে ভালো হয়ে গেলেও চিকিৎসকের বলা পূর্ণ মেয়াদ শেষ না করে বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ ছত্রাক ত্বকের নিচে এখনও থাকতে পারে।
- মাথার ত্বকের দাদ (ক্যাপিটিস): টপিক্যাল ক্রিম চুলের গোড়া পর্যন্ত পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাতে পারে না, তাই এখানে মুখে খাওয়ার ওষুধ (ওরাল অ্যান্টিফাঙ্গাল যেমন টারবিনাফাইন বা ফ্লুকোনাজল, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) প্রয়োজন হয়।
- বিস্তৃত, বারবার ফিরে আসা বা সাধারণ ক্রিমে না-সারা ক্ষেত্রে: চিকিৎসক মুখে খাওয়ার ওষুধ (ইট্রাকোনাজল, টারবিনাফাইন, গ্রিসিওফুলভিন) টপিক্যাল চিকিৎসার সাথে যুক্ত করতে পারেন।
- কখনোই করবেন না: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড-মিশ্রিত কম্বিনেশন ক্রিম ব্যবহার, বা উপসর্গ একটু কমলেই চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া।
পরিবারে একজনের দাদ হলে অন্য সদস্যদেরও পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনে একসাথে চিকিৎসা শুরু করা উচিত, কারণ একই তোয়ালে-কাপড় ব্যবহারে এটি সহজেই একজনের থেকে আরেকজনে যায়।
ঘরোয়া পরিচর্যা ও কখন ডাক্তার দেখাবেন
হালকা ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি এই বিষয়গুলো মেনে চললে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়:
- আক্রান্ত স্থান শুকনো ও পরিষ্কার রাখা; ঘাম হলে দ্রুত মুছে ফেলা বা স্নান করা
- ঢিলেঢালা, সুতি কাপড় পরা, একই কাপড়/মোজা না ধুয়ে বারবার না পরা
- ব্যক্তিগত তোয়ালে, চিরুনি, কাপড় আলাদা রাখা, কারো সাথে শেয়ার না করা
- বিছানার চাদর, তোয়ালে গরম পানিতে ধুয়ে নেওয়া
- পোষা প্রাণীর শরীরে দাগ দেখা গেলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত:
- মাথার ত্বক বা নখে সংক্রমণ হয়েছে বলে সন্দেহ হলে
- ২-৩ সপ্তাহ নিয়মিত টপিক্যাল ক্রিম ব্যবহারের পরও দাগ না কমলে বা ছড়িয়ে পড়লে
- আগে কোনো স্টেরয়েড বা মিশ্র ক্রিম ব্যবহারের পর দাগের চেহারা বদলে গেলে
- ডায়াবেটিস, এইচআইভি বা অন্য কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে
- বারবার একই জায়গায় সংক্রমণ ফিরে এলে
শিশু, গর্ভবতী নারী ও বিশেষ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়
শিশুদের মধ্যে, বিশেষত স্কুল বা ডে-কেয়ারে যাওয়া শিশুদের মধ্যে, মাথার ত্বকের দাদ (টিনিয়া ক্যাপিটিস) তুলনামূলক বেশি দেখা যায় এবং এতে সাধারণত মুখে খাওয়ার ওষুধ প্রয়োজন হয় বলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ সাধারণত এড়িয়ে চলা হয় এবং চিকিৎসক-নির্ধারিত নিরাপদ টপিক্যাল চিকিৎসাই অগ্রাধিকার পায় — নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ সারতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং জটিলতার ঝুঁকিও বেশি, তাই তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
একজিমা বা সোরিয়াসিসের সাথে পার্থক্য
দাদর দাগ অনেক সময় একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো দেখতে লাগে, যার কারণে ভুল চিকিৎসা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দাদর দাগ সাধারণত স্পষ্ট বৃত্তাকার, কিনারা উঁচু এবং মাঝখানটা তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে, আর ধীরে ধীরে বাইরের দিকে বড় হয়। একজিমায় সাধারণত কিনারা এতটা স্পষ্ট থাকে না এবং ত্বক বেশি শুষ্ক-ফাটা থাকে, আর সোরিয়াসিসে রুপালি-সাদা আঁশযুক্ত পুরু দাগ দেখা যায় যা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় (কনুই, হাঁটু, মাথার ত্বক) বেশি হয়। সন্দেহ হলে KOH পরীক্ষা দিয়ে সহজেই দাদকে অন্য দুটি থেকে আলাদা করা যায় — তাই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
প্রতিরোধের উপায়
- ঘাম হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শরীর শুকনো করে নেওয়া, বিশেষত কুঁচকি, আঙুলের ফাঁক ও ত্বকের ভাঁজে
- প্রতিদিন পরিষ্কার, শুকনো কাপড়-মোজা পরা
- তোয়ালে, চিরুনি, কাপড় ব্যক্তিগত রাখা — পরিবারে বা হোস্টেলে কারো সাথে ভাগাভাগি না করা
- পাবলিক গোসলখানা, সুইমিংপুলের আশপাশে খালি পায়ে না হাঁটা
- পোষা প্রাণীর ত্বকে দাগ দেখলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো
- চুলকানি হলেই ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছেমতো স্টেরয়েড বা মিশ্র ক্রিম না কেনা — এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক সিদ্ধান্তগুলোর একটি
উপসংহার
দাদ বা ছত্রাকজনিত ত্বকের সংক্রমণ বাংলাদেশের মতো গরম-আর্দ্র দেশে অত্যন্ত সাধারণ এবং সঠিক চিকিৎসায় সারানো সম্ভব একটি সমস্যা। কিন্তু এটিকে অবহেলা করে ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েড-মিশ্রিত ক্রিম কিনে নিজে নিজে চিকিৎসা করলে তা জটিল, দীর্ঘস্থায়ী ও কঠিন-চিকিৎসাযোগ্য হয়ে উঠতে পারে — যা দক্ষিণ এশিয়ায় এখন একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্য সমস্যা। চুলকানি ও দাগ দেখা দিলে দ্রুত সঠিক ক্রিম ব্যবহার শুরু করা, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা এবং না সারলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের CDC (Centers for Disease Control and Prevention), American Academy of Family Physicians (AAFP)-এর পর্যালোচনা, Trichophyton indotineae বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালিত স্থানীয় গবেষণার তথ্য অনুসরণে লেখা।
Frequently Asked Questions
দাদ কি ছোঁয়াচে রোগ, একজনের থেকে আরেকজনের হতে পারে?
দাদ হতে কত দিন সময় লাগে সারতে?
দাদর জন্য স্টেরয়েড ক্রিম লাগালে কী সমস্যা হয়?
দাদর দাগ মাঝখান থেকে ঠিক হয়ে গেলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত কি?
দাদ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?
টিনিয়া ভার্সিকলার কি অন্য দাদর মতোই?
কখন দাদর জন্য ডাক্তার দেখানো জরুরি?
দাদ হলে কি গোসল বন্ধ রাখতে হবে?
Comments
No comments yet. Be the first to comment.
Leave a comment
Please don't ask for or give personal medical advice in comments — consult a registered physician for your specific situation.


