টাইফয়েড জ্বর: লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও নতুন টিকা (TCV)-র সম্পূর্ণ গাইড
Published: September 25, 2026

২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) মাধ্যমে UNICEF, Gavi ও WHO-র সহযোগিতায় দেশব্যাপী এক ঐতিহাসিক টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। ১৩ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশুর মধ্যে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিশুকে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) দেওয়া হয়—যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৭ শতাংশ। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে TCV স্থায়ীভাবে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) অংশ হয়ে গেছে—এখন থেকে প্রতিটি শিশু ১৫ মাস বয়সে বাম উরুতে এক ডোজ টাইফয়েড টিকা নিয়মিতভাবেই পাবে, প্রয়োজনে একই দিনে MMR-2 টিকার সাথে। বর্ষা-পরবর্তী এই সময়ে, যখন দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে, তখন টাইফয়েড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা বিশেষভাবে জরুরি।
Global Burden of Disease-এর ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষ এতে মারা যান—যাদের প্রায় ৬৮% শিশু। প্রতি লাখে ২৯০-৩৯৫ জন আক্রান্তের এই হার বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ, এবং ঢাকার শহুরে বস্তি এলাকায় করা গবেষণায় দেখা গেছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। ঠিক এই কারণেই সরকার টাইফয়েড টিকাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছে।
টাইফয়েড জ্বর কী এবং কেন হয়?
টাইফয়েড জ্বর মূলত Salmonella enterica সেরোটাইপ Typhi ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় Salmonella Paratyphi A, B ও C প্যারাটাইফয়েড জ্বর সৃষ্টি করে, যার লক্ষণ প্রায় একই রকম হলেও সাধারণত কিছুটা কম তীব্র হয়। জীবাণুটি মূলত মুখ-মলপথে (fecal-oral route) ছড়ায়—অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির মল দ্বারা দূষিত পানি বা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে অনিরাপদ পানীয় জল, রাস্তার খোলা খাবার, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বর্ষা মৌসুমে পানির উৎস দূষিত হওয়ার কারণে টাইফয়েডের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
যদিও যেকোনো বয়সের মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হতে পারেন, নিচের ক্ষেত্রগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি:
- যেসব এলাকায় নিরাপদ পানীয় জলের সংকট রয়েছে বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল
- ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোর, যাদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যায়
- যারা রাস্তার খোলা খাবার বা অনিরাপদ পানির ওপর নির্ভরশীল
- টাইফয়েড রোগীর পরিবারের সদস্য বা তার সংস্পর্শে থাকা মানুষ
- যেসব এলাকায় সম্প্রতি বন্যা বা জলাবদ্ধতা হয়েছে, যা পানির উৎস দূষিত করতে পারে
ধাপে ধাপে লক্ষণ: সপ্তাহ অনুযায়ী অগ্রগতি
চিকিৎসা না করালে টাইফয়েড জ্বর সাধারণত তিনটি স্বতন্ত্র ধাপে অগ্রসর হয়—এই ধাপগুলো চেনা থাকলে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা সহজ হয়।
প্রথম সপ্তাহ
- প্রতিদিন ধাপে ধাপে (স্টেপ-ল্যাডার প্যাটার্নে) বাড়তে থাকা জ্বর, যা প্রথমে হালকা থেকে শুরু হয়ে ক্রমেই তীব্র হয়
- মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি ও খাবারে অরুচি
- আপেক্ষিক ব্র্যাডিকার্ডিয়া—উচ্চ জ্বর থাকা সত্ত্বেও নাড়ির গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকা, যা টাইফয়েডের একটি বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণ
- শুরুতে কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পাতলা পায়খানা—দুটোই হতে পারে
- শুকনো কাশি
দ্বিতীয় সপ্তাহ
- ক্রমাগত উচ্চ জ্বর (প্রায়ই ১০৩-১০৪°ফা পর্যন্ত)
- পেটে ও বুকে হালকা গোলাপি রঙের ছোপ ছোপ দানা (rose spots)—যদিও ফর্সা ত্বকে বেশি স্পষ্ট বোঝা যায়
- পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং যকৃত-প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া (hepatosplenomegaly)
- প্রচুর পাতলা পায়খানা (একে অনেক সময় "পি-সুপ" ডায়রিয়া বলা হয়)
তৃতীয় সপ্তাহ—সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ
চিকিৎসা না হলে তৃতীয় সপ্তাহেই সবচেয়ে বিপজ্জনক জটিলতাগুলো দেখা দেয়, কারণ ততদিনে অন্ত্রের লিম্ফয়েড টিস্যুতে (বিশেষত ইলিয়ামের নিচের অংশে) ক্ষত তৈরি হয়ে যায়।
বিপদ চিহ্ন ও গুরুতর জটিলতা
- অন্ত্রে ছিদ্র (Intestinal perforation): প্রায় ১-২% রোগীর ক্ষেত্রে ঘটে, সাধারণত ইলিয়ামের নিচের অংশে, তৃতীয় সপ্তাহে। হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথা, পেট শক্ত হয়ে যাওয়া ও পেরিটোনাইটিসের লক্ষণ দেখা দিলে এটি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় অবস্থা।
- অন্ত্রে রক্তক্ষরণ: মলের সাথে রক্ত যাওয়া বা হঠাৎ রক্তশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
- এনসেফালোপ্যাথি: তীব্র ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
- রিল্যাপস (পুনরাবৃত্তি): সঠিক চিকিৎসার পরেও প্রায় ১৫-২০% রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর জ্বর আবার ফিরে আসতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার অবস্থা: প্রায় ২-৫% আক্রান্ত ব্যক্তির (বিশেষত মধ্যবয়সীদের) শরীরে, বিশেষত পিত্তথলিতে, জীবাণু দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে এবং তারা উপসর্গ ছাড়াই মল-মূত্রের মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন।
রোগ নির্ণয়: কোন পরীক্ষা কতটা নির্ভরযোগ্য?
রক্তের কালচার (Blood culture) টাইফয়েড নির্ণয়ের স্বর্ণমান হিসেবে বিবেচিত হয়—এটি প্রায় ১০০% নির্দিষ্ট (specific)। তবে এর সংবেদনশীলতা (sensitivity) রোগের সময়ের ওপর নির্ভরশীল: প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা করলে ৮৫-৯০% রোগীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়, কিন্তু রোগ যত পুরনো হয় ততই এই হার কমে ২০-৩০%-এ নেমে আসে। তাই জ্বরের শুরুতেই রক্ত কালচার করানো সবচেয়ে কার্যকর। যেসব ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু হয়ে গেছে, সেখানে বোন ম্যারো কালচার অ্যান্টিবায়োটিক শুরুর পাঁচ দিন পর্যন্তও প্রায় ৯০% সংবেদনশীল থাকে।
বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত Widal টেস্ট সস্তা ও সহজলভ্য হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা একে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না—এতে মিথ্যা পজিটিভ ও মিথ্যা নেগেটিভ উভয় ফলাফলই হরহামেশা আসতে পারে, বিশেষত আগে টাইফয়েড হয়ে থাকলে বা টিকা নেওয়া থাকলে। তাই শুধুমাত্র Widal টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতে টাইফয়েড নির্ণয় বা চিকিৎসা শুরু করা উচিত নয়—চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত কালচার বা Typhidot-এর মতো র্যাপিড ইমিউনোক্রোমাটোগ্রাফিক টেস্ট করানোই শ্রেয়।
চিকিৎসা ও ঘরোয়া যত্ন
টাইফয়েডের মূল চিকিৎসা অ্যান্টিবায়োটিক। তবে বাংলাদেশে Salmonella Typhi-র মধ্যে ফ্লুরোকুইনোলোন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিকের (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন) প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরা এখন প্রায়ই অ্যাজিথ্রোমাইসিন অথবা তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন যেমন সেফট্রায়াক্সোন ও সেফিক্সিম-কে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে বেছে নেন। প্রতিবেশী পাকিস্তানে ইতিমধ্যে extensively drug-resistant (XDR) টাইফয়েড স্ট্রেইন প্রধান হয়ে উঠেছে, যা এই অঞ্চলে অ্যান্টিবায়োটিক-সংবেদনশীলতা যাচাই করে চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। কখনোই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু বা বন্ধ করবেন না—ডাক্তারের পরামর্শ ও পূর্ণ কোর্স মেনে চলা জরুরি।
বাড়িতে যত্নের ক্ষেত্রে:
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ (ফুটানো বা বিশুদ্ধ) পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, বিশেষত জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা এড়াতে
- জ্বর ও ব্যথার জন্য সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়; অন্ত্রে ক্ষত ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া NSAID জাতীয় ব্যথানাশক এড়িয়ে চলা উচিত
- হালকা, কম আঁশযুক্ত, সহজপাচ্য খাবার—নরম ভাত, খিচুড়ি, সেদ্ধ সবজি, স্যুপ, সেদ্ধ ডিম—অন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে সহায়ক
- কাঁচা সালাদ, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত, তেলে ভাজা ও আঁশযুক্ত খাবার সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো অন্ত্রের ক্ষতস্থানে বাড়তি চাপ ফেলতে পারে
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক শুরুর পর সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। তবে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়া জরুরি:
- হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথা, বিশেষত পেট শক্ত ও স্পর্শকাতর হয়ে যাওয়া (অন্ত্রে ছিদ্রের আশঙ্কা)
- মলের সাথে রক্ত যাওয়া বা কালচে মল
- তীব্র বমি হওয়ার কারণে কোনো তরল বা ওষুধ পেটে না থাকা
- প্রচণ্ড দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা
- ৩-৫ দিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরও জ্বর না কমা
বিশেষ সতর্কতা: শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্করা
শিশুদের ক্ষেত্রে টাইফয়েডের লক্ষণ প্রায়ই অস্পষ্ট বা ভিন্নরকম হতে পারে—শুধু দীর্ঘস্থায়ী জ্বর ও খাওয়ায় অনীহাই একমাত্র লক্ষণ হতে পারে, যা সহজেই অন্য সাধারণ ভাইরাল জ্বর বলে ভুল হতে পারে। ছোট শিশুদের মধ্যে ধাপে ধাপে জ্বর বাড়ার ধরনটিও সবসময় স্পষ্ট নাও থাকতে পারে, তাই শিশুর জ্বর তিন-চার দিনের বেশি স্থায়ী হলে বিলম্ব না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গর্ভবতী নারীদের টাইফয়েড হলে গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে দ্রুত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি, এবং অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচনেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন যাতে গর্ভস্থ শিশুর কোনো ক্ষতি না হয়। বয়স্ক ব্যক্তি বা যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ কিংবা অন্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
টাইফয়েড নাকি ডেঙ্গু? পার্থক্য বোঝা জরুরি
বর্ষা-পরবর্তী এই সময়ে ডেঙ্গু ও টাইফয়েড—দুটোই একসাথে ছড়াতে পারে, এবং শুরুতে দুটোর লক্ষণ (জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা) কাছাকাছি মনে হতে পারে। তবে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করার মতো:
- জ্বরের ধরন: ডেঙ্গুতে জ্বর সাধারণত হঠাৎ ও তীব্রভাবে ওঠে, টাইফয়েডে জ্বর ধাপে ধাপে বাড়ে
- ব্যথা: ডেঙ্গুতে তীব্র মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথা ("ব্রেক-বোন ফিভার") প্রকট থাকে, টাইফয়েডে সাধারণত পেটে ব্যথা ও অন্ত্রের উপসর্গ বেশি প্রকট
- পালস: টাইফয়েডে উচ্চ জ্বরের সাথে আপেক্ষিকভাবে কম পালস রেট দেখা যেতে পারে, ডেঙ্গুতে সাধারণত তা হয় না
- পরীক্ষা: ডেঙ্গু NS1/IgM/প্লাটিলেট কাউন্ট দিয়ে, টাইফয়েড রক্ত কালচার দিয়ে নিশ্চিত করা হয়
দুটোর উপসর্গই একে অপরের সাথে গুলিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকায়, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, নিজে থেকে অনুমান করে চিকিৎসা শুরু করা উচিত নয়। এমনকি একই ব্যক্তির শরীরে দুটি সংক্রমণ একসাথেও দেখা দিতে পারে, যা রোগ নির্ণয়কে আরও জটিল করে তোলে—তাই জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া কেবল লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়।
প্রতিরোধ: টিকা, নিরাপদ পানি ও খাদ্যাভ্যাস
টাইফয়েড প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV)। বাংলাদেশে ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে এক ডোজের ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, এবং ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে এটি স্থায়ীভাবে EPI-এর নিয়মিত সময়সূচিতে যুক্ত হয়েছে—প্রতিটি শিশু এখন ১৫ মাস বয়সে বাম উরুর মাংসপেশিতে এক ডোজ TCV পাবে, প্রয়োজনে একই দিনে MMR-2 টিকার সাথেই। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই টিকা প্রায় ৮৫% কার্যকারিতা দেখিয়েছে। টিকা নেওয়ার জন্য নিকটস্থ EPI কেন্দ্রে 'Vax:EPI' অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যায়।
টিকার পাশাপাশি নিচের অভ্যাসগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ:
- ফুটানো বা নিরাপদভাবে বিশুদ্ধ করা পানি পান করা
- খাবার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
- রাস্তার খোলা খাবার, না ধোয়া কাঁচা ফল-সবজি এড়িয়ে চলা
- খাবার ভালোভাবে রান্না করে গরম গরম খাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা খাবার এড়ানো
- পরিবারে কারও টাইফয়েড ধরা পড়লে তার ব্যবহৃত থালা-বাসন ও টয়লেট আলাদাভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বিশেষত ক্যারিয়ার অবস্থা এড়াতে চিকিৎসা সম্পূর্ণ শেষ করা
টাইফয়েড একটি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে তা প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, এবং শিশুর টিকার তালিকায় TCV অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) ও Gavi, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-এর তথ্য অনুসরণে লেখা।
Frequently Asked Questions
টাইফয়েড জ্বর কীভাবে ছড়ায়?
টাইফয়েডের প্রথম লক্ষণ কী?
Widal টেস্ট কি টাইফয়েড নির্ণয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য?
টাইফয়েড হলে সেরে উঠতে কত দিন সময় লাগে?
নতুন টাইফয়েড টিকা (TCV) কারা পাবে এবং কীভাবে দেওয়া হয়?
টাইফয়েড ও ডেঙ্গু জ্বরের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে বুঝব?
টাইফয়েডে কী খাওয়া উচিত এবং কী এড়ানো উচিত?
টাইফয়েড কি সেরে যাওয়ার পরেও আবার ছড়াতে পারে?
Comments
No comments yet. Be the first to comment.
Leave a comment
Please don't ask for or give personal medical advice in comments — consult a registered physician for your specific situation.


