জেনেরিক
Biotin
বাজারে 51টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়
এক নজরে
বায়োটিন হলো একটি অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন যা ভিটামিন এইচ (Vitamin H) নামেও পরিচিত। এটি চুল পড়া রোধ, ভঙ্গুর নখ এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন একজিমা ও ডার্মাটাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
পরিচিতি
বায়োটিন হলো একটি অত্যাবশ্যকীয় জল-দ্রবণীয় ভিটামিন, যা ভিটামিন এইচ (Vitamin H) নামেও পরিচিত। এটি ফ্যাটি অ্যাসিড সংশ্লেষণ, অ্যামিনো অ্যাসিড ক্যাটাবলিজম এবং গ্লুকোনিউজেনেসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মাইটোকন্ড্রিয়াল কার্বক্সিলেসের একটি অপরিহার্য কোএনজাইম হিসেবে কাজ করে, যা সরাসরি এপিডার্মাল কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং চুল ও নখের মূলের কেরাটিন গঠন উন্নত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে চুল পড়া রোধ করা, দুর্বল বা ভঙ্গুর নখ শক্ত করা এবং একজিমা বা ডার্মাটাইটিসের মতো ত্বকের সমস্যা দূর করতে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
চুল পড়া, দুর্বল, ভঙ্গুর বা নরম নখ এবং একজিমা ও ডার্মাটাইটিসের চিকিৎসায় বায়োটিন নির্দেশিত।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ভেষজ ও পুষ্টিকর উপাদান (Herbal and Nutraceuticals)
ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস
ওয়াটার-সলিউবল ভিটামিন / কোএনজাইম (Water-soluble Vitamin / Coenzyme)
ফার্মাকোলজি
বায়োটিন একটি অপরিহার্য ভিটামিন যা ফ্যাটি অ্যাসিড সংশ্লেষণ, অ্যামিনো অ্যাসিড ক্যাটাবলিজম এবং গ্লুকোনিউজেনেসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়। এটি এপিডার্মাল কোষের বৃদ্ধি ও গঠনে সহায়তা করে এবং চুল, ত্বক ও নখের পুনর্নবীকরণে ভূমিকা রাখে। চুলকূপের (hair roots) মাইটোকন্ড্রিয়াল কার্বক্সিলেসের কোএনজাইম হিসেবে কাজ করে কেরাটিনের গঠন উন্নত করে।
কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)
এটি এনজাইমেটিক কার্বক্সিলেশনের (যেমন পাইরুভেট এবং অ্যাসিটাইল-কোএ) কোফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। এটি কেরাটিনের কাঠামো শক্তিশালী করে এবং ত্বক, চুল ও নখের কোষগুলোর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতিদিন ১-৩টি ট্যাবলেট বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থাভেদে দৈনিক ৫-১০টি ট্যাবলেট গুঁড়ো করে পানি বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে সেব্য। প্রস্তাবিত দৈনিক খাদ্যতালিকা (RDA): প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ মাইক্রোগ্রাম/দিন এবং গর্ভবতী/স্তন্যদানকারী মায়েদের ৩০-৩৫ মাইক্রোগ্রাম/দিন।
সেবন পদ্ধতি
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মুখে সেব্য (Oral)। শিশুদের ক্ষেত্রে ট্যাবলেট গুঁড়ো করে পানি বা ফলের জুসের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
ডোজ মিস করলে করণীয়
কোনো ডোজ নিতে ভুলে গেলে মনে পড়ার সাথে সাথেই তা গ্রহণ করুন। তবে পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে গেলে বাদ পড়া ডোজটি এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত সময়সূচি বজায় রাখুন। ডাবল ডোজ নেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রস্তাবিত মাত্রায় এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও সহনশীল। উচ্চ মাত্রায় (যেমন দৈনিক ২০০ মিলিগ্রাম মুখে বা ২০ মিলিগ্রাম ইন্ট্রাভেনাস পর্যন্ত) বায়োটিন ব্যবহারের পরেও কোনো বিষাক্ততার (toxicity) রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
সতর্কতা ও সাবধানতা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় সেবন করা উচিত। কাঁচা ডিমের সাদা অংশ অতিরিক্ত সেবন করলে বায়োটিন শোষণ ব্যাহত হতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
বায়োটিন বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (Hypersensitivity) থাকলে এটি সেবন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
মৃগীর রোগের ওষুধ (Anticonvulsants) রক্তের প্লাজমায় বায়োটিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বায়োটিন তৈরির ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া
কাঁচা ডিমের সাদা অংশে থাকা অ্যাভিডিন (Avidin) নামক প্রোটিন বায়োটিনের সাথে আবদ্ধ হয়ে এর শোষণ বাধাগ্রস্ত করে। তাই অতিরিক্ত কাঁচা ডিমের সাদা অংশ খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত ক্লিনিকাল ডেটা উপলব্ধ নেই। তবে গর্ভাবস্থায় প্রস্তাবিত দৈনিক চাহিদা ৩০ মাইক্রোগ্রাম। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
স্তন্যদানকালে বায়োটিনের প্রস্তাবিত দৈনিক চাহিদা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
শিশুদের জন্মগত বায়োটিন ঘাটতিজনিত সমস্যায় (যেমন খিঁচুনি, হাইপোটোনিয়া, বিকাশজনিত বিলম্ব) চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৫-১০টি ট্যাবলেট গুঁড়ো করে পানি বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মাত্রায় বায়োটিন নিরাপদ এবং সহনশীল। তবে যেকোনো পরিপূরক গ্রহণের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার
কিডনি বা লিভারের সমস্যায় বায়োটিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের কথা জানা যায়নি, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য।
ওভারডোজ
বায়োটিনের ওভারডোজের ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো বিষাক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি, কারণ এটি একটি জল-দ্রবণীয় ভিটামিন (Water-soluble vitamin) যা অতিরিক্ত মাত্রায় শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
রাসায়নিক গঠন
য়োটিন একটি হেটারোসাইক্লিক কার্বক্সিলিক অ্যাসিড যা একটি টেট্রাহাইড্রোথিওফেন রিংয়ের সাথে যুক্ত ইউরিয়া (ইমিডাজোলোন) রিং নিয়ে গঠিত।