জেনেরিক
Esomeprazole
বাজারে 14টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়
এক নজরে
Esomeprazole — বাংলাদেশে Esomeprazole এর সব ব্র্যান্ড, দাম ও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেখুন।
পরিচিতি
এসোমেপ্রাজল হলো ওমিপ্রাজলের এস-আইসোমার এবং একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI), যা গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ কার্যকরভাবে দমন করে এবং রেসিমিক ইনহিবিটরের চেয়ে উন্নত অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে।
নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
দীর্ঘস্থায়ী বুকজ্বালা এবং জিইআরডি (GERD) এর লক্ষণ দূর করা, ইরোসিভ এসোফেগাইটিস নিরাময় ও এর পুনরাবৃত্তি রোধ, হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণ নির্মূল, জোলিংগার-এলিসন সিন্ড্রোম, অ্যাসিড-সম্পর্কিত ডিসপেপসিয়া এবং গ্যাস্ট্রিক ও ডিউডেনাল আলসার চিকিৎসায় নির্দেশিত।
থেরাপিউটিক ক্লাস
প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর
ফার্মাকোলজি
এটি গ্যাস্ট্রিক প্যারাইটাল কোষের (H⁺/K⁺-ATPase) এনজাইম সিস্টেমকে বিশেষভাবে বাধা দিয়ে অ্যাসিড নিঃসরণ কমায়। এন্ট্রিক-কোটেড পেলেট ফর্মুলেশনের মাধ্যমে এটি মুখে খাওয়ার পর প্রায় ১.৫ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্লাজমা মাত্রায় পৌঁছায়।
কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)
পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষে প্রোটন পাম্প বা হাইড্রোজেন-পোটাসিয়াম এটিপিেজ এনজাইমকে অপরিবর্তনীয়ভাবে অবরুদ্ধ করে অ্যাসিড উৎপাদনের শেষ ধাপটি বন্ধ করে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ওরাল: ইরোসিভ এসোফেগাইটিস নিরাময়ে ২০-৪০ মিগ্রা দৈনিক ১ বার (৪-৮ সপ্তাহ); রক্ষণাবেক্ষণে ২০ মিগ্রা দৈনিক ১ বার। জিইআরডি-তে ২০ মিগ্রা দৈনিক ১ বার। এইচ. পাইলোরি নির্মূলে ট্রিপল থেরাপি: ৪০ মিগ্রা দৈনিক ১ বার (১০ দিন)। জোলিংগার-এলিসন সিন্ড্রোমে ২০-৮০ মিগ্রা দৈনিক। আইভি ইনফিউশন বা ইঞ্জেকশনে শরীরের ওজন ও বয়স ভেদে ১০ থেকে ৮০ মিগ্রা পর্যন্ত।
সেবন পদ্ধতি
ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল চিবিয়ে বা গুঁড়ো না করে সম্পূর্ণ গিলে খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে খেতে হবে। ওরাল সাসপেনশন পানিতে গুলে ২-৩ মিনিট রেখে ঘন করে ৩০ মিনিটের মধ্যে সেব্য। আইভি ইনজেকশন কমপক্ষে ৩ মিনিটে এবং ইনফিউশন ১০-৩০ মিনিটে দিতে হবে।
ডোজ মিস করলে করণীয়
কোনো ডোজ ভুলে গেলে মনে পড়ার সাথে সাথে গ্রহণ করুন। তবে পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে গেলে পূর্বের ডোজ বাদ দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে চলুন; কখনোই ডাবল ডোজ খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ভাব, গ্যাস বা পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।
সতর্কতা ও সাবধানতা
থেরাপিতে লক্ষণ উপশম হলেও গ্যাস্ট্রিক ম্যালিগন্যান্সির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করা যায় না। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে হাড়ের দুর্বলতা ও ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতি হতে পারে। রেনাল বা হেপাটিক সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
প্রতিনির্দেশনা
এসোমেপ্রাজল বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি পরিচিত অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি থাকলে এটি সেবন করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
এটি লিভারের CYP2C19 এবং CYP3A4 দ্বারা বিপাকিত হয়। এটি ডায়াজিপামের ক্লিয়ারেন্স কমিয়ে এর মাত্রা বাড়াতে পারে। কম গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটির কারণে কিটোকোনাজল, আয়রন সল্ট ও ডিগক্সিনের শোষণে বাধা দিতে পারে।
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া
খাবার গ্রহণের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ওষুধটি সেবন করা উচিত, কারণ খাদ্য এর শোষণকে প্রভাবিত করতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার
গর্ভাবস্থায় এর পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত মানব গবেষণা নেই, তবে প্রাণীদেহে কোনো টেরাটোজেনিক প্রভাব দেখা যায়নি। স্পষ্ট প্রয়োজন ছাড়া গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
এসোমেপ্রাজল মাতৃদুগ্ধে নিসৃত হয় কিনা তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা নেই, তাই এটি সেবনকালে স্তন্যদান বন্ধ রাখা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আইভি ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও ১ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ডোজ ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ওরাল ব্যবহারের নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সার্বিক কোনো বড় পার্থক্য দেখা যায়নি, তবে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার
হালকা থেকে মাঝারি লিভার অকার্যকারিতায় ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে গুরুতর লিভার সমস্যায় দৈনিক ২০ মিগ্রার বেশি দেওয়া যাবে না। রেনাল সমস্যায় সাধারণত মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।
ওভারডোজ
অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ফলে চলাফেরায় অনীহা, শ্বাসপ্রশ্বাসের হার পরিবর্তন, কাঁপুনি, অটাক্সিয়া এবং খিঁচুনি হতে পারে। ওভারডোজ হলে লক্ষণভিত্তিক ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা দিতে হবে।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
রাসায়নিক গঠন
C₁₇H₁₉N₃O₃S (মলিকিউলার ফর্মুলা)