osudhkosh

জেনেরিক

Levamisole

বাজারে 22টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

লেভামিসোল একটি অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ যা কৃমি সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি কৃমির পেশিতে এনজাইম কার্যকলাপ দমন করে প্যারালাইসিস ও মৃত্যু ঘটায়।

পরিচিতি

লেভামিসোল টেট্রামিসোলের সক্রিয় লেভো-আইসোমার। এটি সংবেদনশীল অন্ত্রের কৃমি প্যারালাইজ করে যা পরে অন্ত্র থেকে নির্গত হয়। লেভামিসোল মানবদেহে সেলুলার ইমিউন প্রতিক্রিয়াও বৃদ্ধি করে। এটি অ্যাসকেরিয়াসিস, হুকওয়ার্ম সংক্রমণ, এন্টারোবিয়াসিস, ট্রাইকিউরিয়াসিস, স্ট্রংগাইলোয়েডিয়াসিস ও ট্রাইকোস্ট্রংগাইলাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
  • অ্যাসকেরিয়াসিস (রাউন্ডওয়ার্ম সংক্রমণ)
  • হুকওয়ার্ম সংক্রমণ (অ্যানসাইলোস্টোমিয়াসিস)
  • মিশ্র অ্যাসকেরিয়াসিস-হুকওয়ার্ম সংক্রমণ
  • এন্টারোবিয়াস ভার্মিকুলারিস (পিনওয়ার্ম)
  • ট্রাইকিউরিস ট্রাইকিউরা (হুইপওয়ার্ম)
  • স্ট্রংগাইলোয়েডিস স্টারকোরালিস
  • ট্রাইকোস্ট্রংগাইলাস কলুব্রিফর্মিস
থেরাপিউটিক ক্লাস

অ্যান্থেলমিন্টিক

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক

ফার্মাকোলজি

লেভামিসোল সংবেদনশীল অন্ত্রের কৃমি প্যারালাইজ করে যা পরে অন্ত্র থেকে নির্গত হয়। এটি সেলুলার ইমিউন প্রতিক্রিয়াও বৃদ্ধি করে।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

কৃমির পেশি প্যারালাইজ করে এবং মৃত্যু ঘটায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্ক ডোজ (ওরাল):

  • অ্যাসকেরিয়াসিস: ১৫০ মিলিগ্রাম একক ডোজ
  • মিশ্র অ্যাসকেরিয়াসিস-হুকওয়ার্ম/অ্যানসাইলোস্টোমিয়াসিস: ২.৫ মিগ্রা/কেজি একক ডোজ, গুরুতর ক্ষেত্রে ৭ দিন পর পুনরাবৃত্তি

শিশু ডোজ (ওরাল):

  • অ্যাসকেরিয়াসিস: ৩ মিগ্রা/কেজি একক ডোজ
  • মিশ্র অ্যাসকেরিয়াসিস-হুকওয়ার্ম/অ্যানসাইলোস্টোমিয়াসিস: ২.৫ মিগ্রা/কেজি একক ডোজ, গুরুতর ক্ষেত্রে ৭ দিন পর পুনরাবৃত্তি
  • বয়সভিত্তিক ডোজ: ১-৪ বছর: ১ ট্যাবলেট/৫ মিলি সিরাপ; ৫-১৫ বছর: ২ ট্যাবলেট/১০ মিলি; ১৬+ বছর: ৩ ট্যাবলেট/১৫ মিলি
সেবন পদ্ধতি
  • ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন; চিবাবেন না, পিষবেন না বা ভাঙ্গবেন না
  • হালকা খাবারের সাথে গ্রহণ করুন
  • নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহণ করুন
ডোজ মিস করলে করণীয়

সাধারণত প্রযোজ্য নয় (একক ডোজ); প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • বমি
  • মাথাব্যথা
  • মাথা ঘোরা
  • বমি বমি ভাব
  • পেটে ব্যথা
  • পেটে ক্র্যাম্প

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা ও অস্থায়ী।

সতর্কতা ও সাবধানতা
  • গাড়ি চালানো বা মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজে সতর্কতা (মাথা ঘোরা হতে পারে)
  • গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না
  • রক্তের ব্যাধি থাকলে ব্যবহার করবেন না
  • সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন, এমনকি ভালো অনুভব করলেও
প্রতিনির্দেশনা
  • প্রাক-বিদ্যমান রক্তের ব্যাধি
  • গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
  • গুরুতর রেনাল ইমপেয়ারমেন্ট
  • লেভামিসোলের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
  • ফেনিটোইনের টক্সিসিটি বৃদ্ধি করতে পারে
  • আইভারমেকটিনের জৈব উপলভ্যতা বৃদ্ধি করে; অ্যালবেন্ডাজোলের জৈব উপলভ্যতা হ্রাস করে
  • অ্যালকোহল ডিসালফিরাম-সদৃশ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

অ্যালকোহলের সাথে নিরাপত্তা জানা নেই; ডাক্তারের পরামর্শ নিন (অ্যালকোহল ডিসালফিরাম-সদৃশ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে)।

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার: লেভামিসোল গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নাও হতে পারে; প্রাণী গবেষণায় টেরাটোজেনিক প্রভাব দেখা যায়নি তবে ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

স্তন্যদানে ব্যবহার: লেভামিসোল সম্ভবত স্তন্যদানে নিরাপদ। সীমিত মানব তথ্য অনুযায়ী ওষুধটি শিশুর জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে না।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশুদের জন্য ডোজ নির্ধারিত (ওজন ও বয়স ভিত্তিক)।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বিশেষ ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন নেই; গাড়ি চালানোর ক্ষমতার উপর প্রভাব নেই।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

রেনাল ইমপেয়ারমেন্ট: কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সীমিত তথ্য রয়েছে; গুরুতর রেনাল ইমপেয়ারমেন্টে নিষিদ্ধ।

হেপাটিক ইমপেয়ারমেন্ট: লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সীমিত তথ্য রয়েছে; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ওভারডোজ

ওভারডোজের নির্দিষ্ট তথ্য নেই; লক্ষণভিত্তিক সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

শিশুদের নাগালের বাইরে, শীতল ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন।

রাসায়নিক গঠন

লেভামিসোল

সাধারণ জিজ্ঞাসা

লেভামিসোল কী কাজ করে?
এটি কৃমি সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে ব্যবহার করতে হয়?
হালকা খাবারের সাথে একক ডোজ হিসেবে গ্রহণ করুন।
কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
বমি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে।
⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।