osudhkosh

কিডনি রোগের ১২টি লক্ষণ: কখন সতর্ক হবেন ও কোন পরীক্ষা করবেন?

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেয়ার করুন:
কিডনি রোগের ১২টি লক্ষণ: কখন সতর্ক হবেন ও কোন পরীক্ষা করবেন?

সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখের নিচে ফোলা ভাব, সারাদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন—এসবকে অনেক সময় আমরা সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। ঘুম কম হওয়া, পানিশূন্যতা বা অন্য কোনো সাধারণ কারণেও এসব হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এগুলো কিডনির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কিডনি আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল বের করে দিতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই শুধু লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকি থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কিডনি রোগের সম্ভাব্য লক্ষণগুলো কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কিডনি রোগের লক্ষণ কী কী?

কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল, বর্জ্য পদার্থ বা বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্যে পরিবর্তন হতে পারে। এর ফলে কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, নিচের কোনো একটি লক্ষণ থাকলেই কিডনি রোগ হয়েছে—এমন নয়। একই লক্ষণ অন্য অনেক কারণেও হতে পারে।

কিডনি সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণগুলো এক নজরে

লক্ষণ

কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে

প্রস্রাবের পরিবর্তন

পরিমাণ, ঘনত্ব, রং বা অভ্যাসে পরিবর্তন

প্রস্রাবে ফেনা

দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ফেনা

শরীর ফুলে যাওয়া

পা, গোড়ালি বা চোখের চারপাশে ফোলা

অতিরিক্ত ক্লান্তি

বিশ্রামের পরও দুর্বল লাগা

ক্ষুধা কমে যাওয়া

খাবারে অনীহা বা অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া

বমি বমি ভাব

বারবার গা গুলানো বা বমি

ত্বকে চুলকানি

দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক চুলকানি

শ্বাসকষ্ট

বিশেষ করে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমলে

পেশিতে ক্র্যাম্প

বারবার পেশিতে টান বা খিঁচুনি

মাথাব্যথা

বিভিন্ন কারণে হতে পারে, বিশেষ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে

স্বাদে পরিবর্তন

মুখে ধাতব বা অস্বাভাবিক স্বাদ

ওজনের পরিবর্তন

অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা বা তরল জমে ওজন বাড়া

১. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন

কিডনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে প্রস্রাব তৈরি করা। তাই কিডনি বা মূত্রনালির সমস্যায় প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

যেমন—

  • স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম প্রস্রাব হওয়া

  • রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া

  • দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হওয়া

  • প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিকভাবে গাঢ় হওয়া

  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা

  • প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অনুভূতি

তবে এসব পরিবর্তনের সবগুলোই কিডনি রোগের কারণে হয় না। পানিশূন্যতা, মূত্রনালির সংক্রমণ, কিছু ওষুধ বা কিডনিতে পাথরের কারণেও প্রস্রাবের পরিবর্তন হতে পারে।

২. পা, গোড়ালি বা চোখের নিচে ফোলা

কিডনি শরীরের অতিরিক্ত পানি ও সোডিয়াম বের করতে সাহায্য করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে কিছু ক্ষেত্রে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে।

ফলে দেখা যেতে পারে—

  • পায়ের পাতা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া

  • মোজা বা জুতা আগের তুলনায় বেশি আঁটসাঁট লাগা

  • সকালে চোখের চারপাশ বা নিচে ফোলাভাব

  • অল্প সময়ে অস্বাভাবিক ওজন বেড়ে যাওয়া

তবে শরীর ফুলে যাওয়ার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলাভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কিডনি দীর্ঘদিন ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তস্বল্পতা বা শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের মধ্যে—

  • সারাদিন ক্লান্ত লাগা

  • সামান্য কাজেই দুর্বল হয়ে যাওয়া

  • হাঁটাচলায় সহজে হাঁপিয়ে ওঠা

  • মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা

  • মাথা ঝিমঝিম করা

  • ত্বক ফ্যাকাশে দেখানো

ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তবে ক্লান্তির কারণ শুধু কিডনি রোগ নয়; রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন কারণেও এমন হতে পারে।

৪. বমি বমি ভাব বা বমি

কিডনির কার্যক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেলে রক্তে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ জমতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের—

  • বমি বমি ভাব

  • খাবারে অনীহা

  • বমি

  • মুখে অস্বাভাবিক স্বাদ

ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বারবার বমি হলে পানিশূন্যতাও হতে পারে, যা কিডনির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।

৫. ক্ষুধা কমে যাওয়া ও ওজন কমা

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের কিছু পর্যায়ে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমার কারণে ক্ষুধা কমে যেতে পারে।

এর ফলে—

  • খাবার খেতে ইচ্ছা না করা

  • অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি

  • খাবারের স্বাদ পরিবর্তন

  • দীর্ঘদিন ধরে ওজন কমে যাওয়া

দেখা যেতে পারে।

তবে অকারণে ওজন কমার অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই এমন পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৬. ত্বক শুষ্ক হওয়া বা চুলকানি

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে শরীরের বিভিন্ন খনিজ ও বর্জ্য পদার্থের ভারসাম্যে পরিবর্তন হতে পারে। এর সঙ্গে ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানির সম্পর্ক থাকতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সারা শরীরে চুলকানি থাকলে বিষয়টি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

৭. শ্বাসকষ্ট

কিডনির কার্যক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত তরল ফুসফুসেও প্রভাব ফেলতে পারে এবং শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষ করে—

  • হঠাৎ শ্বাসকষ্ট

  • শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া

  • পা বা শরীর ফুলে যাওয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট

থাকলে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।

তীব্র বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।

৮. পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প

কিডনি শরীরের বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে কিছু মানুষের পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প হতে পারে।

বিশেষ করে বারবার বা অস্বাভাবিকভাবে পেশিতে টান পড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো।

তবে সাধারণ পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ব্যায়াম বা অন্যান্য কারণেও পেশিতে ক্র্যাম্প হতে পারে।

৯. মাথাব্যথা

মাথাব্যথা একা কিডনি রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। তবে কিডনি রোগের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতা বা শরীরের রাসায়নিক ভারসাম্যের পরিবর্তন থাকলে মাথাব্যথা হতে পারে।

তাই শুধু মাথাব্যথা দেখে কিডনি রোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

যদি বারবার মাথাব্যথার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, শরীর ফুলে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

১০. চুল পড়া বা চুলের পরিবর্তন

কিডনি রোগে আক্রান্ত কিছু মানুষের চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে। এর পেছনে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, পুষ্টির ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা বা অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তন ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে চুল পড়া কিডনি রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। তাই শুধু চুল পড়ার ওপর ভিত্তি করে কিডনি রোগের সন্দেহ করা উচিত নয়।

১১. মুখে ধাতব বা অস্বাভাবিক স্বাদ

কিডনির কার্যক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের মুখে অস্বাভাবিক, তেতো বা ধাতব ধরনের স্বাদ অনুভূত হতে পারে।

কখনো খাবারের স্বাদও আগের মতো মনে নাও হতে পারে।

তবে মুখের স্বাদ পরিবর্তনের পেছনে দাঁতের সমস্যা, মুখের সংক্রমণ, ওষুধ বা অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।

১২. ত্বকের রঙে পরিবর্তন

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের উন্নত পর্যায়ে কিছু মানুষের ত্বকের রঙ বা চেহারায় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ত্বক ফ্যাকাশে, ধূসর বা হলদে ধরনের দেখাতে পারে।

তবে ত্বকের রঙ পরিবর্তন কিডনি রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয় এবং এর অনেক অন্য কারণ থাকতে পারে।

কিডনি ভালো আছে কিনা জানতে কোন পরীক্ষা করা হয়?

শুধু লক্ষণ দেখে কিডনির কার্যক্ষমতা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত ও প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।

পরীক্ষা

কী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়

Serum Creatinine

রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা

eGFR

কিডনির ফিল্টার করার আনুমানিক ক্ষমতা

Urine Albumin/Creatinine Ratio (UACR)

প্রস্রাবে অ্যালবুমিন/প্রোটিনের উপস্থিতি

Urinalysis

প্রস্রাবে রক্ত, প্রোটিন, সংক্রমণসহ বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা

BUN

রক্তে ইউরিয়া নাইট্রোজেনের মাত্রা

Electrolytes

সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য

Kidney Function Test

কিডনির কার্যকারিতা মূল্যায়নে একাধিক পরীক্ষার সমন্বয়

কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে তা ব্যক্তির বয়স, উপসর্গ, অন্যান্য রোগ এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

কারা কিডনি রোগের ঝুঁকিতে বেশি?

কিছু মানুষের কিডনি রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যেমন—

  • ডায়াবেটিস আছে

  • দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ আছে

  • হৃদ্‌রোগ রয়েছে

  • পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস রয়েছে

  • আগে কিডনিতে পাথর বা অন্য কিডনি সমস্যা হয়েছে

  • দীর্ঘদিন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করতে হয়

  • বয়স বাড়ার সঙ্গে অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে

বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনি সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন?

কিডনি সুস্থ রাখার জন্য দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু বিষয় গুরুত্ব দেওয়া যায়।

করণীয়

  1. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  2. ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন।

  3. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

  4. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

  5. নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করুন।

  6. ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

  7. প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

  8. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

  9. কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করুন।

  10. কোনো ভেষজ বা “কিডনি ক্লিনজ” পণ্যকে কিডনি রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন:

  • প্রস্রাবে স্পষ্ট রক্ত দেখা গেলে

  • হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ অনেক কমে গেলে

  • দ্রুত শরীর ফুলে গেলে

  • তীব্র বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে

  • বারবার বমি হয়ে পানি বা খাবার রাখতে না পারলে

  • উচ্চ জ্বরের সঙ্গে পিঠের এক পাশে বা কোমরের দিকে তীব্র ব্যথা হলে

  • অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা চেতনার পরিবর্তন হলে

  • অত্যন্ত দুর্বল বা নিস্তেজ হয়ে গেলে

গুরুত্বপূর্ণ কথা

কিডনি রোগের অনেক লক্ষণ সাধারণ অন্যান্য সমস্যার সঙ্গেও মিলতে পারে। তাই চোখের নিচে ফোলা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, ক্লান্তি বা মাথাব্যথার মতো একটি মাত্র লক্ষণ দেখেই কিডনি রোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

আবার কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ না থাকাও সম্ভব। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পারিবারিক ইতিহাস বা অন্য ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

নিজে থেকে কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না এবং কিডনি রোগের সন্দেহ হলে “কিডনি ক্লিনজ” বা অপ্রমাণিত চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র

  • National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases (NIDDK)

  • National Kidney Foundation (NKF)

  • Kidney Disease: Improving Global Outcomes (KDIGO)

  • National Institute for Health and Care Excellence (NICE)

  • Centers for Disease Control and Prevention (CDC)

Disclaimer: এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। কিডনি রোগের সন্দেহ বা গুরুতর উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. কোনো লক্ষণ ছাড়াই কি কিডনি রোগ হতে পারে?
হ্যাঁ। কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। এজন্য ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
২. প্রস্রাবে ফেনা দেখা দিলে কি কিডনি রোগ হয়েছে?
সবসময় নয়। দ্রুত প্রস্রাব করা বা পানিশূন্যতার কারণেও সাময়িক ফেনা হতে পারে। তবে নিয়মিত ও অতিরিক্ত ফেনা থাকলে প্রস্রাবে প্রোটিন আছে কি না পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
৩. প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হলে কি কিডনি রোগ হয়েছে?
না। পানিশূন্যতা, খাবার, কিছু ওষুধ বা মূত্রনালির সমস্যাতেও প্রস্রাবের রং পরিবর্তিত হতে পারে। তবে প্রস্রাব লাল, বাদামি বা অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. কোমর ব্যথা মানেই কি কিডনির সমস্যা?
না। কোমর ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে। পেশি, মেরুদণ্ড, কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে ব্যথা হতে পারে
৫. বেশি ব্যথানাশক খেলে কি কিডনির ক্ষতি হতে পারে?
কিছু ব্যথানাশক, বিশেষ করে NSAID ধরনের ওষুধ, দীর্ঘদিন বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করলে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত নয়।
৬. কম পানি খেলে কি কিডনির সমস্যা হয়?
দীর্ঘসময় পানিশূন্য থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে কিডনি স্টোন বা অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে কিডনি বা হৃদ্‌রোগ থাকলে পানির পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
৭. কিডনি পাথর আর কিডনি ফেলিউর কি একই?
না। কিডনি পাথর হলো কিডনিতে বা মূত্রনালিতে শক্ত পদার্থের পাথর তৈরি হওয়া। অন্যদিকে কিডনি ফেলিউর হলো কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া।
৮. বারবার UTI হলে কি কিডনির ক্ষতি হতে পারে?
কিছু ক্ষেত্রে মূত্রনালির সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বারবার UTI হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৯. কিডনি রোগীদের কি ডাল বা প্রোটিন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হয়?
না। সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা প্রযোজ্য নয়। কিডনি রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টির পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। নিজের সিদ্ধান্তে প্রোটিন বা ডাল সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত নয়।
১০. কিডনি রোগে ভেষজ বা কবিরাজি ওষুধ খাওয়া কি নিরাপদ?
সব ভেষজ বা বিকল্প চিকিৎসা নিরাপদ—এমন প্রমাণ নেই। কিছু অজানা উপাদান কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
১১. ডায়াবেটিস থাকলে কিডনি পরীক্ষা করা কি জরুরি?
ডায়াবেটিস কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত ও প্রস্রাবের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
১২. উচ্চ রক্তচাপ কি কিডনির ক্ষতি করতে পারে?
হ্যাঁ। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সময়ের সঙ্গে কিডনির কার্যক্ষমতা কমাতে পারে।
১৩. কিডনি রোগে কি সবসময় শরীর ফুলে যায়?
না। শরীর ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হলেও সবার ক্ষেত্রে এটি দেখা যায় না।
১৪. কিডনি রোগে কি সবসময় ক্রিয়েটিনিন বেশি থাকে?
কিডনির কার্যক্ষমতা কমলে ক্রিয়েটিনিন বাড়তে পারে, তবে শুধু ক্রিয়েটিনিনের একটি ফল দিয়ে কিডনির সম্পূর্ণ অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী eGFR, প্রস্রাবের পরীক্ষা এবং অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করেন।
১৫. কিডনি রোগ কি পুরোপুরি ভালো হয়?
কিডনি রোগের ধরন ও কারণের ওপর চিকিৎসা ও ফলাফল নির্ভর করে। কিছু কিডনি সমস্যা চিকিৎসায় ভালো হতে পারে, আবার দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে রোগের অগ্রগতি ধীর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হতে পারে।
শেয়ার করুন:

পাঠকের মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্যে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ চাওয়া বা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন — নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

প্রকাশ করা হবে না

যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।

আরও খবর

কোন বয়সে কত প্রেসার স্বাভাবিক? ১২০/৮০, ১৩০/৮০ নাকি ১৪০/৯০

কোন বয়সে কত প্রেসার স্বাভাবিক? ১২০/৮০, ১৩০/৮০ নাকি ১৪০/৯০

বয়স অনুযায়ী প্রেসার কত থাকা উচিত? ১২০/৮০ কি স্বাভাবিক, ১৩০/৮০ বা ১৪০/৯০ হলে কী বোঝায়? জেনে নিন রক্তচাপের সঠিক মাত্রা, উচ্চ-নিম্ন প্রেসারের লক্ষণ এবং বাড়িতে সঠিকভাবে BP মাপার নিয়ম।

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Period Odour: Causes, Prevention, Hygiene Tips & When to See a Doctor

Period Odour: Causes, Prevention, Hygiene Tips & When to See a Doctor

A mild odour during menstruation is usually normal. However, a strong or persistent smell accompanied by itching, burning, unusual discharge, or pelvic pain may indicate an underlying infection. This comprehensive guide explains the causes of period odour, hygiene tips, prevention strategies, and when to seek medical attention.

৩১ আগস্ট, ২০২৬

ওয়াশরুমে টুথব্রাশ রাখা কি নিরাপদ? সঠিকভাবে রাখার নিয়ম জানুন

ওয়াশরুমে টুথব্রাশ রাখা কি নিরাপদ? সঠিকভাবে রাখার নিয়ম জানুন

ওয়াশরুমে টুথব্রাশ রাখা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। টয়লেটের কাছে রাখলে কি জীবাণু টুথব্রাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে? জেনে নিন টুথব্রাশ পরিষ্কার ও নিরাপদে রাখার সঠিক নিয়ম।

৩০ আগস্ট, ২০২৬