জেনেরিক
Acemetacin
বাজারে 1টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়
এক নজরে
- মূল উপাদান: অ্যাসেমেটাসিন (Acemetacin)
- ব্যবহারের ক্ষেত্র: বাতের ব্যথা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, পিঠের নিচের ব্যথা ও অস্ত্রোপচার পরবর্তী ব্যথা
- সেবনমাত্রা: দৈনিক ১২০ মিগ্রা থেকে ১৮০ মিগ্রা বিভক্ত মাত্রায় (খাবারের সাথে)
পরিচিতি
অ্যাসেমেটাসিন (Acemetacin) হলো একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID)। এটি ইন্ডোমেথাসিন (Indomethacin)-এর একটি গ্লাইকোলিক অ্যাসিড এস্টার যা শরীরে প্রদাহ, ফোলাভাব এবং ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।
নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
পেশি ও হাড়ের প্রদাহজনিত ব্যথা যেমন: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis), অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis), পিঠের নিচের ব্যথা (Low Back Pain), অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস এবং অস্ত্রোপচার পরবর্তী ব্যথার চিকিৎসায় নির্দেশিত।
থেরাপিউটিক ক্লাস
নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs)
ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস
ইনডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড ডেরিভেটিভ (Indole Acetic Acid Derivative)
ফার্মাকোলজি
অ্যাসেমেটাসিন একটি প্রড্রাগ (Pro-drug) হিসেবে কাজ করে যা শরীরে মেটাবোলাইজড হয়ে ইন্ডোমেথাসিনে রূপান্তরিত হয়। এটি সাইক্লোঅক্সিজেনেস (COX-1 ও COX-2) এনজাইমকে বাধা দিয়ে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (Prostaglandin) তৈরিতে বাধা প্রদান করে, যা ব্যথা ও প্রদাহের মূল কারণ।
কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)
সাইক্লোঅক্সিজেনেস এনজাইম নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে ব্যথাদায়ক ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী কেমিক্যাল প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাথমিক মাত্রা: প্রতিদিন ১২০ মিগ্রা (বিভক্ত মাত্রায় সেব্য)। রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে মাত্রা বাড়িয়ে প্রতিদিন ১৮০ মিগ্রা পর্যন্ত (বিভক্ত মাত্রায়) দেওয়া যেতে পারে।
সেবন পদ্ধতি
পাকস্থলীর অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে এটি সবসময় খাবার, দুধ অথবা এন্টাসিড সেবনের সাথে/পরে সেবন করা উচিত।
ডোজ মিস করলে করণীয়
মনে পড়ার সাথে সাথেই মিস করা ডোজটি সেবন করুন। তবে পরবর্তী ডোজের সময় কাছাকাছি হলে তা বাদ দিয়ে স্বাভাবিক সময়সূচী অনুসরণ করুন। একবারে দুটি ডোজ নেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা/আলসার, মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরা। কদাচিৎ বিভ্রান্তি, বিষণ্ণতা, বুকে ব্যথা, শরীরে পানি আসা (Oedema) এবং রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
সতর্কতা ও সাবধানতা
বয়স্ক ব্যক্তি, গ্যাস্ট্রিক বা পেটের আলসারের ইতিহাস, আইবিডি (ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস), কিডনি বা লিভারের রোগ এবং হার্ট ফেইলিওর রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
প্রতিনির্দেশনা
অ্যাসেমেটাসিন বা ইন্ডোমেথাসিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা, সক্রিয় পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাত এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ নিষেধ।
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
বিটা-ব্লকারের রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা হ্রাস করে। কুইনোলন অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে সেবনে খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ে। অ্যাস্পিরিন, অন্যান্য NSAID বা স্টেরয়েডের সাথে সেবনে পাকস্থলীতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। মেথোট্রেক্সেটের বিষাক্ততা বাড়াতে পারে।
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া
খাবারের সাথে সেবন করলে গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি কমে। অ্যালকোহল সেবনে পেপটিক আলসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার
প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি C (তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে D)। গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকালে এই ওষুধের নিরাপত্তা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, তাই ব্যবহার অনুচিত।
Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে এটি সেবন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যাসেমেটাসিনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনও সুপ্রতিষ্ঠিত নয়।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না, তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি বেশি থাকায় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার
মাঝারি থেকে তীব্র কিডনি বা লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে এটি পরিহার করা উচিত।
ওভারডোজ
অতিরিক্ত সেবনের ফলে তীব্র মাথা ব্যথা, বমি ভাব, পেট ব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাত হতে পারে। ওভারডোজ হলে তাৎক্ষণিক গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
রাসায়নিক গঠন
C21H18ClNO6