জেনেরিক
Acetaminophen
বাজারে 1টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়
এক নজরে
অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) একটি ব্যথানাশক ও জ্বর কমানোর ওষুধ যা মৃদু থেকে মাঝারি ব্যথা এবং জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ বাধা দিয়ে কাজ করে।
পরিচিতি
অ্যাসিটামিনোফেন, যা প্যারাসিটামল নামেও পরিচিত, একটি ব্যথানাশক ও জ্বর কমানোর ওষুধ। এর সঠিক কর্মপ্রণালী সম্পূর্ণরূপে জানা না গেলেও, এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে সাইক্লোঅক্সিজিনেজ এনজাইমকে নির্বাচনীভাবে বাধা দিয়ে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ কমায়। এতে দুর্বল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রয়েছে। এটি মৌখিক, রেকটাল ও ইনট্রাভেনাস পথে দেওয়া যেতে পারে। স্বল্পমেয়াদী ব্যবহার নিরাপদ ও কার্যকর, তবে ওভারডোজে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
জ্বর (অ্যান্টিপাইরেটিক) এবং মৃদু থেকে মাঝারি ব্যথা (ব্যথানাশক) যেমন মাথাব্যথা, দাঁতের ব্যথা, পেশি ব্যথা, মাসিকের ব্যথা, গলা ব্যথা এবং টিকা-পরবর্তী জ্বর।
থেরাপিউটিক ক্লাস
ব্যথানাশক ও জ্বর কমানোর ওষুধ (Analgesic & Antipyretic)
ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস
পি-অ্যামিনোফেনল ডেরিভেটিভ
ফার্মাকোলজি
অ্যাসিটামিনোফেন একটি ব্যথানাশক ও জ্বর কমানোর ওষুধ। এর সঠিক কর্মপ্রণালী সম্পূর্ণরূপে জানা না গেলেও, এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ বাধা দেয় এবং সাইক্লোঅক্সিজিনেজ (COX) এনজাইমের ওপর নির্বাচনী প্রভাব ফেলে। এতে দুর্বল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রয়েছে। মৌখিক দ্রবণের জৈব উপলভ্যতা প্রায় ৮০%। প্লাজমা অর্ধ-জীবন প্রায় ২-৩ ঘন্টা।
কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)
অ্যাসিটামিনোফেন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ বাধা দিয়ে ব্যথা ও জ্বর কমায়। এটি সাইক্লোঅক্সিজিনেজ এনজাইমের ওপর নির্বাচনী প্রভাব ফেলে এবং দুর্বল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: ৬৫০-১০০০ মি.গ্রা. প্রতি ৪-৬ ঘন্টা পরপর; সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ ৪০০০ মি.গ্রা.।
শিশু (ওজনভিত্তিক):
- ২-৪ বছর: ১৬০ মি.গ্রা. প্রতি ৪-৬ ঘন্টা
- ৪-৬ বছর: ২৪০ মি.গ্রা. প্রতি ৪-৬ ঘন্টা
- ৬-৯ বছর: ৩২০ মি.গ্রা. প্রতি ৪-৬ ঘন্টা
- ৯-১১ বছর: ৩২০-৪০০ মি.গ্রা. প্রতি ৪-৬ ঘন্টা
- ১১-১২ বছর: ৩২০-৪৮০ মি.গ্রা. প্রতি ৪-৬ ঘন্টা
- শিশু: প্রতি ৪ ঘন্টা পরপর, ২৪ ঘন্টায় ৫ বারের বেশি নয়
২ বছরের কম শিশু: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
সেবন পদ্ধতি
খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া নেওয়া যেতে পারে। ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন; চিবাবেন না। তরল দ্রবণের জন্য ডোজ সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন।
সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ: প্রাপ্তবয়স্ক: ৪০০০ মি.গ্রা.।
ডোজ মিস করলে করণীয়
যদি কোনো ডোজ নিতে ভুলে যান, মনে পড়ামাত্র নিন। কিন্তু যদি পরবর্তী ডোজের সময় প্রায় হয়ে যায়, তাহলে মিস করা ডোজটি বাদ দিন এবং নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন। কখনো ডাবল ডোজ নেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বিরল; সাধারণত ভালো সহ্য হয়।
গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ওভারডোজে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি (হেপাটোনেক্রোসিস)
- গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া (বিরল)
- উচ্চ অ্যানিয়ন গ্যাপ মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস (ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের)
সতর্কতা ও সাবধানতা
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নিরাপদ বলে মনে করা হয়। লিভার বা গুরুতর কিডনি রোগে সতর্কতা প্রয়োজন। অ্যালকোহল সেবনের ইতিহাস থাকলে সতর্কতা প্রয়োজন। ফিনাইলকেটোনুরিয়া (PKU) রোগীদের অ্যাসপারটেমযুক্ত ব্র্যান্ড এড়িয়ে চলুন।
প্রতিনির্দেশনা
অ্যাসিটামিনোফেন বা এর কোনো উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা। গুরুতর লিভার রোগ।
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
কার্বামাজেপিন, ফেনাইটোইন, ফেনোবারবিটাল, রিফাম্পিসিন: এনজাইম-ইনডিউসার ওষুধ অ্যাসিটামিনোফেনের ক্লিয়ারেন্স বাড়ায় এবং বিষাক্ততার ঝুঁকি বাড়ায়।
ওয়ারফারিন: অ্যাসিটামিনোফেন অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট প্রভাব বাড়াতে পারে।
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালকোহল সেবনে সতর্কতা প্রয়োজন; অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার
গর্ভাবস্থা বিভাগ: B। গর্ভাবস্থায় নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্বর ও ব্যথা চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ; তবে দীর্ঘমেয়াদি বা বেশি মাত্রায় ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
Pregnancy Category: B — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
স্তন্যদানকালে নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে। অল্প পরিমাণে মায়ের দুধে যায় এবং শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
২ বছরের কম: চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
২-১২ বছর: ওজনভিত্তিক ডোজ প্রযোজ্য (উপরে দেখুন)।
১২ বছরের বেশি: প্রাপ্তবয়স্ক ডোজ প্রযোজ্য।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
বয়স্ক রোগীদের ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই; তবে লিভার ও কিডনি ফাংশন হ্রাসের কারণে সতর্কতা প্রয়োজন।
কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার
কিডনি সমস্যা: গুরুতর রেনাল ইমপেয়ারমেন্টে (CrCl <৩০ মি.লি./মিনিট) ডোজ ব্যবধান ৬ ঘন্টা পর্যন্ত বাড়াতে হবে।
লিভার সমস্যা: লিভার রোগে ডোজ কমাতে হবে।
ওভারডোজ
ওভারডোজের লক্ষণ: বমি বমি ভাব, বমি, অ্যানোরেক্সিয়া, ঘাম, অলসতা।
বিষাক্ত ডোজ: প্রাপ্তবয়স্ক: ≥১০ গ্রাম/২৪ ঘন্টা; শিশু: ≥১৫০ মি.গ্রা./কেজি।
চিকিৎসা: এন-অ্যাসিটাইলসিস্টেইন (NAC) যত দ্রুত সম্ভব শুরু করুন (৮ ঘন্টার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর)। সক্রিয় চারকোল, লক্ষণভিত্তিক সহায়ক ব্যবস্থা।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
শীতল ও শুষ্ক স্থানে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। ৩০°C-এর নিচে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
রাসায়নিক গঠন
C₈H₉NO₂