osudhkosh

জেনেরিক

Artemether

বাজারে 4টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

আর্টেমিথার একটি অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ঔষধ যা ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম দ্বারা সৃষ্ট জটিল নয় এমন ম্যালেরিয়ার জন্য কার্যকর এবং ক্লোরোকুইন-প্রতিরোধী স্ট্রেইনের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

পরিচিতি

আর্টেমিথার একটি অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ঔষধ যা প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম (P. falciparum) এবং মিশ্র সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট তীব্র, জটিল নয় এমন ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি ক্লোরোকুইন-প্রতিরোধী প্যারাসাইটের বিরুদ্ধেও কার্যকর। আর্টেমিথার সাধারণত লুমেফ্যানট্রিনের সাথে সংমিশ্রণে ব্যবহার করা হয় (কোয়ারটেম)।

আর্টেমিথার দ্রুত কাজ করে এবং প্যারাসাইট লোড কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি ম্যালেরিয়ার রক্তের পর্যায়ে (ব্লাড সিজন্টোসাইড) ক্রিয়া করে। এটি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয় না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, পেশী ও জয়েন্টে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব অন্তর্ভুক্ত।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
  • প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম দ্বারা সৃষ্ট তীব্র, জটিল নয় এমন ম্যালেরিয়া (Acute, uncomplicated P. falciparum malaria)
  • মিশ্র ম্যালেরিয়া সংক্রমণ (যাতে P. falciparum অন্তর্ভুক্ত)
  • ক্লোরোকুইন-প্রতিরোধী ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের বিরুদ্ধে কার্যকর
থেরাপিউটিক ক্লাস

Anti-malarial drugs

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

অ্যান্টিম্যালেরিয়াল (আর্টেমিসিনিন ডেরিভেটিভ)

ফার্মাকোলজি

আর্টেমিথার প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত আর্টেমিসিনিনের একটি ডেরিভেটিভ। এটি একটি সেসকুইটারপিন ল্যাকটোন যার একটি এন্ডোপেরক্সাইড সেতু রয়েছে। এই এন্ডোপেরক্সাইড অংশটি তার অ্যান্টিম্যালেরিয়াল কার্যকলাপের জন্য দায়ী।

আর্টেমিথার প্যারাসাইটের খাদ্য শূন্যস্থানে (ফুড ভ্যাকুওল) হিম (আয়রনযুক্ত পোরফাইরিন) এর সাথে বিক্রিয়া করে সাইটোটক্সিক র্যাডিকেল তৈরি করে। এই র্যাডিকেলগুলি প্যারাসাইটের গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন এবং ঝিল্লির ক্ষতি করে এবং প্যারাসাইটকে মেরে ফেলে। লুমেফ্যানট্রিন হেমোজোইন পলিমারাইজেশন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে, যা প্যারাসাইটের জন্য বিষাক্ত হিমকে নিরীহ হেমোজোইনে রূপান্তর করতে বাধা দেয়।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

আর্টেমিথার ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের কোষের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীল অক্সিজেন প্রজাতি (ROS) তৈরি করে, যা প্যারাসাইটের প্রোটিন ও ঝিল্লি ধ্বংস করে। লুমেফ্যানট্রিন প্যারাসাইটের পিগমেন্ট গঠনে বাধা দেয়। উভয় উপাদান প্যারাসাইটের নিউক্লিক অ্যাসিড-প্রোটিন সংশ্লেষণকেও বাধা দেয়। একসাথে তারা প্যারাসাইটকে দ্রুত মেরে ফেলে এবং ম্যালেরিয়ার উপসর্গ দূর করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু (≥৩৫ কেজি): ৬ ডোজের স্ট্যান্ডার্ড কোর্স: প্রথম ডোজ (৪ টি ট্যাবলেট) নির্ণয়ের সময়, দ্বিতীয় ডোজ (৪ টি ট্যাবলেট) ৮ ঘন্টা পরে, তারপর পরবর্তী দুই দিন সকাল ও সন্ধ্যায় (মোট ২৪ টি ট্যাবলেট)।

শিশু (২৫-৩৫ কেজি): প্রতি ডোজ ৩ টি ট্যাবলেট (মোট ১৮ টি ট্যাবলেট)।

শিশু (১৫-২৫ কেজি): প্রতি ডোজ ২ টি ট্যাবলেট (মোট ১২ টি ট্যাবলেট)।

শিশু (৫-১৫ কেজি): প্রতি ডোজ ১ টি ট্যাবলেট (মোট ৬ টি ট্যাবলেট)।

একটি ট্যাবলেটে ২০ মিগ্রা আর্টেমিথার ও ১২০ মিগ্রা লুমেফ্যানট্রিন থাকে। খাবারের সাথে (বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার বা দুধ) গ্রহণ করলে শোষণ বৃদ্ধি পায়। ১ ঘন্টার মধ্যে বমি হলে ডোজ পুনরাবৃত্তি করুন।

সেবন পদ্ধতি

খাবারের সাথে (বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার বা দুধ) গ্রহণ করুন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন।

ডোজ মিস করলে করণীয়

যদি কোনো ডোজ মিস হয়, মনে পড়ার সাথে সাথে গ্রহণ করুন। পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে গেলে মিস করা ডোজ বাদ দিন এবং নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন। ডোজ দ্বিগুণ করবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • মাথাব্যথা (Headache)
  • মাথা ঘোরা (Dizziness)
  • পেশী ও জয়েন্টে ব্যথা (Muscle and joint pain)
  • বমি বমি ভাব ও বমি (Nausea and vomiting)
  • ক্ষুধা হ্রাস (Anorexia)
  • দুর্বলতা (Asthenia)
  • কাশি (Cough)
সতর্কতা ও সাবধানতা

গুরুতর সতর্কতা:

  • আর্টেমিথার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • গুরুতর ম্যালেরিয়া (সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া, পালমোনারি এডিমা, রেনাল ফেইলিওর) এর চিকিৎসার জন্য এটি মূল্যায়ন করা হয়নি।
  • গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ব্যবহার নিষিদ্ধ।
  • স্তন্যদানকালে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন (লুমেফ্যানট্রিনের দীর্ঘ অর্ধ-জীবনের কারণে)।
  • কিউটিসি ব্যবধান দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের (যেমন কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা) সতর্কতা প্রয়োজন।
  • গাড়ি চালানো বা মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন (মাথা ঘোরা হতে পারে)।
  • নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্যারাসাইটের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
  • আর্টেমিথার বা লুমেফ্যানট্রিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা
  • গুরুতর ম্যালেরিয়া (WHO সংজ্ঞা অনুযায়ী)
  • গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস
  • কিউটিসি ব্যবধান দীর্ঘায়িত হওয়ার পারিবারিক ইতিহাস বা ক্লিনিকাল অবস্থা (যেমন কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া, গুরুতর ব্র্যাডিকার্ডিয়া)
  • ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা (হাইপোক্যালেমিয়া বা হাইপোম্যাগনেসেমিয়া)
  • CYP2D6 এনজাইম দ্বারা বিপাকিত ওষুধের সাথে ব্যবহার
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
  • CYP3A4 ইনহিবিটর: আর্টেমিথারের মেটাবোলিজম কমাতে পারে, রক্তের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
  • কিউটিসি ব্যবধান দীর্ঘায়িত করে এমন ওষুধ: পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • ওষুধের বিস্তারিত তালিকার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

চর্বিযুক্ত খাবার বা দুধের সাথে গ্রহণ করলে শোষণ বৃদ্ধি পায়। অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলা উচিত।

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

[ডাক্তারের পরামর্শ নিন] গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে নিষিদ্ধ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ব্যবহার শুধুমাত্র প্রয়োজনে এবং ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে।

Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

[ডাক্তারের পরামর্শ নিন] লুমেফ্যানট্রিনের দীর্ঘ অর্ধ-জীবনের কারণে শেষ ডোজের ২৮ দিন পর্যন্ত স্তন্যদান বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

৫ কেজির কম ওজনের শিশুদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য নেই; সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য নেই; সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

তীব্র রেনাল ফেইলিওর রোগীদের ক্ষেত্রে আর্টেমিথারের এক্সপোজার বৃদ্ধি পেতে পারে; সতর্কতা প্রয়োজন।

হেপাটিক ইমপেয়ারমেন্টে ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই।

ওভারডোজ

অতিরিক্ত মাত্রার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় ও সহায়ক চিকিৎসা দিন। ইসিজি ও রক্তের পটাসিয়াম মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

৩০°C তাপমাত্রার নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

রাসায়নিক গঠন

আর্টেমিথার (C₁₆H₂₆O₅)

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আর্টেমিথার কী?
আর্টেমিথার একটি অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ঔষধ যা প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
আর্টেমিথার কীসের জন্য ব্যবহৃত হয়?
এটি তীব্র, জটিল নয় এমন P. falciparum ম্যালেরিয়া এবং ক্লোরোকুইন-প্রতিরোধী ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
আর্টেমিথারের ডোজ কত?
ওজনভিত্তিক ডোজ; সাধারণত ৬ ডোজের কোর্স (০, ৮, ২৪, ৩৬, ৪৮ ও ৬০ ঘন্টায়) খাবারের সাথে গ্রহণ করতে হয়।
আর্টেমিথারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, পেশী ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও ক্ষুধা হ্রাস সাধারণত দেখা যায়।
গর্ভাবস্থায় আর্টেমিথার নিরাপদ?
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে নিষিদ্ধ। পরবর্তী পর্যায়ে ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আর্টেমিথার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ব্যবহার করা যায়?
না, এটি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
সংরক্ষণ কীভাবে?
৩০°C এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন।
⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।