osudhkosh

জেনেরিক

Aspirin

বাজারে 33টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

অ্যাসপিরিন একটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ যা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অ্যাঞ্জাইনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে।

পরিচিতি

অ্যাসপিরিন একটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ যা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত বুকে ব্যথা (অ্যাঞ্জাইনা) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে হৃদযন্ত্র সুরক্ষায় সহায়তা করে।

অ্যাসপিরিন একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID) যা অ্যান্টি-প্লেটলেট ক্রিয়া সম্পন্ন। এটি সাইক্লোঅক্সিজেনেজ (COX) এনজাইমকে বাধা দিয়ে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ও থ্রোমবক্সেন সংশ্লেষণ কমায়। এটি প্লেটলেট একত্রিত হওয়া প্রতিরোধ করে ক্ষতিকর রক্ত জমাট বাঁধার গঠন কমায়, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা হ্রাস করে।

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে অম্বল, বমি বমি ভাব, বমি ও পেটের সমস্যা অন্তর্ভুক্ত। খাবারের সাথে গ্রহণ করলে পেটের সমস্যা কম হয়।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
  • হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ (Myocardial infarction prophylaxis)
  • হার্ট অ্যাটাকের পর পুনরায় ইনফার্কশন প্রতিরোধ
  • বাইপাস সার্জারির পর রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ
  • তীব্র ইস্কেমিক স্ট্রোক ও ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA)
  • অ্যাঞ্জাইনা (Angina)
  • মৃদু থেকে মাঝারি ব্যথা (মাথাব্যথা, পেশির ব্যথা, ডিসমেনোরিয়া, দাঁতের ব্যথা)
  • অস্টিওআর্থারাইটিস
  • জ্বর ও সর্দি-কাশি (অ্যান্টিপাইরেটিক)
থেরাপিউটিক ক্লাস

Anti-platelet drugs

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

অ্যান্টিপ্লেটলেট (NSAID)

ফার্মাকোলজি

অ্যাসপিরিন একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID) যা সাইক্লোঅক্সিজেনেজ (COX-1 ও COX-2) এনজাইমকে অপরিবর্তনীয়ভাবে বাধা দেয়। এর ফলে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ও থ্রোমবক্সেন A2-এর সংশ্লেষণ কমে যায়।

প্লেটলেটে COX-1 বাধা দেওয়ার মাধ্যমে অ্যাসপিরিন থ্রোমবক্সেন A2 উৎপাদন কমায়, যা প্লেটলেট একত্রিতকরণ (aggregation) প্রতিরোধ করে। এই কারণে অ্যাসপিরিন রক্ত জমাট বাঁধা (থ্রম্বাস) গঠন কমায়, বিশেষ করে ধমনীর অংশে যেখানে প্লেটলেট একত্রিতকরণের মাধ্যমে থ্রম্বাস তৈরি হয়।

এন্টেরিক-কোটেড অ্যাসপিরিন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা ও আলসারেশন কমায়।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

অ্যাসপিরিন সাইক্লোঅক্সিজেনেজ (COX) এনজাইমকে অপরিবর্তনীয়ভাবে বাধা দিয়ে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ও থ্রোমবক্সেন A2-এর সংশ্লেষণ কমায়। থ্রোমবক্সেন A2 প্লেটলেট একত্রিতকরণ ও রক্তনালী সংকোচন ঘটায়। অ্যাসপিরিন প্লেটলেটের COX-1 বাধা দিয়ে থ্রোমবক্সেন A2 উৎপাদন কমায়, ফলে প্লেটলেট একত্রিত হয় না এবং রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ব্যাথা, প্রদাহ ও জ্বর: ৩০০ মিগ্রা ১-৩ টি ট্যাবলেট প্রতি ৬ ঘন্টা, সর্বোচ্চ দৈনিক ৪ গ্রাম।

সন্দেহজনক তীব্র করোনারি সিন্ড্রোম: ১৫০-৩০০ মিগ্রা তাৎক্ষণিকভাবে (যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে)।

হার্ট অ্যাটাকের পর: ১৫০ মিগ্রা দৈনিক ১ মাস, পরে ৭৫ মিগ্রা দৈনিক দীর্ঘমেয়াদে।

তীব্র ইস্কেমিক স্ট্রোক/TIA: প্রথমে ১৫০-৩০০ মিগ্রা দৈনিক, পরে ৭৫ মিগ্রা দৈনিক।

বাইপাস সার্জারির পর: প্রক্রিয়ার ৬ ঘন্টা পর ৭৫-৩০০ মিগ্রা দৈনিক।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (শিশু): ২৫ কেজি: ২.৪-৩.৬ গ্রাম/দিন।

সেবন পদ্ধতি

খাবারের সাথে গ্রহণ করুন (পেটের সমস্যা কমাতে)। ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন, চিবাবেন না বা ভাঙ্গবেন না। এন্টেরিক-কোটেড ট্যাবলেট চিবানো বা ভাঙ্গা উচিত নয়।

ডোজ মিস করলে করণীয়

যদি কোনো ডোজ মিস হয়, মনে পড়ার সাথে সাথে গ্রহণ করুন। পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে গেলে মিস করা ডোজ বাদ দিন এবং নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন। ডোজ দ্বিগুণ করবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • অম্বল (Heartburn)
  • পেট খারাপ (Upset stomach)
  • বমি বমি ভাব (Nausea)
  • বমি (Vomiting)
  • রক্তপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি (Increased bleeding tendency)
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল আলসারেশন
  • ব্রঙ্কোস্পাজম
  • ডিসপেপসিয়া (Dyspepsia)
সতর্কতা ও সাবধানতা

গুরুতর সতর্কতা:

  • অ্যাসপিরিন ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের রেই'স সিন্ড্রোমের কারণ হতে পারে - ব্যবহার করবেন না
  • গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না (ভ্রুণের সমস্যা ও প্রসবকালীন জটিলতা হতে পারে)
  • অ্যাসপিরিন মাতৃদুধে নিঃসৃত হয় - সতর্কতা প্রয়োজন
  • পেপটিক আলসার, হিমোফিলিয়া, হেমোরেজিক ডিসঅর্ডার, গুরুতর রেনাল/হেপাটিক ইমপেয়ারমেন্টে নিষিদ্ধ
  • অ্যাজমা, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, নাকের পলিপ ও অ্যালার্জি রোগীদের সতর্কতা
  • রক্তপাতের ঝুঁকি - শেভিং, ধারালো বস্তু ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
  • অ্যালকোহল সেবন পেটে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায় - এড়িয়ে চলুন
প্রতিনির্দেশনা
  • অ্যাসপিরিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (অ্যাজমা, অ্যাঞ্জিওএডিমা, ছত্রাক বা রাইনাইটিসের আক্রমণ)
  • সক্রিয় পেপটিক আলসারেশন
  • গর্ভাবস্থা (৩য় ট্রাইমেস্টার)
  • ১২ বছরের কম বয়সী শিশু (রেই'স সিন্ড্রোমের ঝুঁকি)
  • হিমোফিলিয়া বা হেমোরেজিক ডিসঅর্ডার
  • গাউট
  • গুরুতর রেনাল বা হেপাটিক ইমপেয়ারমেন্ট
  • স্তন্যদানকাল
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
  • অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (ওয়ারফারিন, হেপারিন): অ্যাসপিরিন রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়
  • ওরাল হাইপোগ্লাইসেমিক এজেন্ট: প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে
  • ফেনিটোইন ও সোডিয়াম ভালপ্রোয়েট: অ্যাসপিরিন তাদের প্রভাব বাড়াতে পারে
  • প্রোবেনেসিড: অ্যাসপিরিন এর ইউরিকোসুরিক প্রভাব কমায়
  • সালফোনামাইড: অ্যাসপিরিন তাদের বিষাক্ততা বাড়াতে পারে
  • অন্যান্য NSAIDs: পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

[অসুরক্ষিত] অ্যাসপিরিনের সাথে অ্যালকোহল সেবন নিরাপদ নয়। অ্যালকোহল পেটে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

[ডাক্তারের পরামর্শ নিন] গর্ভাবস্থায় অ্যাসপিরিন ব্যবহার নিরাপদ নয় (গর্ভাবস্থা বিভাগ সি, ৩য় ট্রাইমেস্টারে বিভাগ ডি)। ভ্রুণের জন্য ঝুঁকির স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে শেষ ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।

Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

[ডাক্তারের পরামর্শ নিন] অ্যাসপিরিন মাতৃদুধে নিঃসৃত হয় এবং শিশুর ক্ষতি করতে পারে। সতর্কতার সাথে এবং ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ (রেই'স সিন্ড্রোমের ঝুঁকি)। জুভেনাইল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের জন্য ডোজ: ২৫ কেজি ওজনের জন্য ২.৪-৩.৬ গ্রাম/দিন।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বয়স্ক রোগীদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন; ডোজ সামঞ্জস্যের প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

[সতর্কতা] কিডনি রোগে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। গুরুতর কিডনি রোগে ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না।

[সতর্কতা] লিভার রোগে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। গুরুতর লিভার রোগে ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না।

ওভারডোজ

লক্ষণ: মাথা ঘোরা, টিনিটাস (কানে বাজানো), ঘাম, বমি বমি ভাব ও বমি, বিভ্রান্তি ও হাইপারভেন্টিলেশন। গুরুতর অতিরিক্ত মাত্রায় CNS বিষণ্নতা, কোমা, কার্ডিওভাসকুলার কলাপ্স ও শ্বাসযন্ত্রের বিষণ্নতা হতে পারে।

চিকিৎসা: গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ, ফোর্সড অ্যালকালাইন ডাইউরেসিস। গুরুতর ক্ষেত্রে হিমোডায়ালাইসিস প্রয়োজন হতে পারে। ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ৩০°C তাপমাত্রার নিচে, শুকনো ও ঠান্ডা স্থানে, আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন।

রাসায়নিক গঠন

অ্যাসিটিলস্যালিসিলিক অ্যাসিড (C₉H₈O₄)

সাধারণ জিজ্ঞাসা

অ্যাসপিরিন কী?
অ্যাসপিরিন একটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ যা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অ্যাঞ্জাইনা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
অ্যাসপিরিন কীসের জন্য ব্যবহৃত হয়?
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ, স্ট্রোক প্রতিরোধ, অ্যাঞ্জাইনা, ব্যথা, জ্বর ও প্রদাহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
অ্যাসপিরিনের ডোজ কত?
হার্ট সুরক্ষায় ৭৫-১৫০ মিগ্রা দৈনিক। ব্যথা ও জ্বরে ৩০০ মিগ্রা প্রতি ৬ ঘন্টা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করুন।
অ্যাসপিরিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
অম্বল, পেট খারাপ, বমি বমি ভাব, রক্তপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল আলসার।
শিশুদের অ্যাসপিরিন দেওয়া যায়?
১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয় (রেই'স সিন্ড্রোমের ঝুঁকি)।
গর্ভাবস্থায় অ্যাসপিরিন নিরাপদ?
গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে অ্যাসপিরিন ব্যবহার করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
অ্যাসপিরিন কীভাবে গ্রহণ করতে হয়?
খাবারের সাথে গ্রহণ করুন। ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন, চিবাবেন না।
সংরক্ষণ কীভাবে?
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও ঠান্ডা স্থানে, আলো থেকে দূরে রাখুন।
⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।