জেনেরিক
Captopril
বাজারে 11টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়
এক নজরে
ক্যাপ্টোপ্রিল একটি এসিই ইনহিবিটর ওষুধ যা উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিওর ও হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি রক্তনালী প্রসারিত করে ও হৃদপিণ্ডের কাজের চাপ কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
পরিচিতি
ক্যাপ্টোপ্রিল একটি অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (ACE) ইনহিবিটর যা উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিওর ও হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যাঞ্জিওটেনসিন I-কে অ্যাঞ্জিওটেনসিন II-তে রূপান্তর প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাধা দিয়ে কাজ করে, যার ফলে অ্যাঞ্জিওটেনসিন II ও অ্যালডোস্টেরন নিঃসরণ হ্রাস পায় এবং প্লাজমা রেনিন কার্যকলাপ ও ব্র্যাডিকাইনিন মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অ্যাঞ্জিওটেনসিন II হ্রাস Na ও পানি ধারণ হ্রাস করে, যা ভাসোডিলেটেশন ও রক্তচাপ হ্রাস ঘটায়।
ক্যাপ্টোপ্রিল মৃদু-মাঝারি উচ্চ রক্তচাপ (থিয়াজাইড থেরাপির সহায়ক), গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ (যখন স্ট্যান্ডার্ড থেরাপি ব্যর্থ হয়েছে) ও কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওরে (মূত্রবর্ধক ও প্রয়োজনে ডিজিটালিসের সাথে) নির্দেশিত।
নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
- মৃদু-মাঝারি উচ্চ রক্তচাপ (থিয়াজাইড থেরাপির সহায়ক)
- গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ (যখন স্ট্যান্ডার্ড থেরাপি ব্যর্থ হয়েছে)
- কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর (মূত্রবর্ধক ও ডিজিটালিসের সাথে)
- হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী চিকিৎসা
থেরাপিউটিক ক্লাস
Angiotensin-converting enzyme (ACE) inhibitors
ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস
ACE Inhibitor
ফার্মাকোলজি
ক্যাপ্টোপ্রিল অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (ACE) প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাধা দিয়ে অ্যাঞ্জিওটেনসিন I-কে অ্যাঞ্জিওটেনসিন II-তে রূপান্তর হ্রাস করে, যার ফলে অ্যাঞ্জিওটেনসিন II ও অ্যালডোস্টেরন নিঃসরণ হ্রাস পায় এবং প্লাজমা রেনিন কার্যকলাপ ও ব্র্যাডিকাইনিন মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অ্যাঞ্জিওটেনসিন II হ্রাস Na ও পানি ধারণ হ্রাস করে, যা ভাসোডিলেটেশন ও রক্তচাপ হ্রাস ঘটায়।
কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)
ক্যাপ্টোপ্রিল ACE এনজাইম বাধা দিয়ে অ্যাঞ্জিওটেনসিন I-কে অ্যাঞ্জিওটেনসিন II-তে রূপান্তর প্রতিরোধ করে, ফলে রক্তনালী প্রসারিত হয়, রক্তচাপ কমে ও হৃদপিণ্ডের কাজের চাপ হ্রাস পায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
উচ্চ রক্তচাপ (মৃদু-মাঝারি): প্রাথমিক ১২.৫ মিগ্রা দিনে ২ বার; মেইনটেন্যান্স ২৫ মিগ্রা দিনে ২ বার (সর্বোচ্চ ৫০ মিগ্রা দিনে ২ বার)।
গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ: প্রাথমিক ১২.৫ মিগ্রা দিনে ২ বার; সর্বোচ্চ ৫০ মিগ্রা দিনে ৩ বার।
হার্ট ফেইলিওর: প্রাথমিক ৬.২৫-১২.৫ মিগ্রা দিনে ২-৩ বার; মেইনটেন্যান্স ২৫ মিগ্রা দিনে ৩ বার; সর্বোচ্চ ১৫০ মিগ্রা/দিন।
হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী: হার্ট অ্যাটাকের ৩ দিন পর শুরু; প্রাথমিক ৬.২৫ মিগ্রা/দিন; প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ পর ১৫০ মিগ্রা/দিন পর্যন্ত (বিভক্ত ডোজে)।
ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি: ২৫ মিগ্রা দিনে ৩ বার।
বয়স্ক: প্রাথমিক ৬.২৫ মিগ্রা দিনে ২ বার।
শিশু (নবজাতক ও শিশু): ০.১৫ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ৬ মিগ্রা/কেজি) ২-৩ বিভক্ত ডোজে।
শিশু ও কিশোর: ০.৩ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ৬ মিগ্রা/কেজি) ২-৩ বিভক্ত ডোজে।
হার্ট ফেইলিওর (শিশু): প্রাথমিক ০.২৫ মিগ্রা/কেজি/দিন; ২.৫-৩.৫ মিগ্রা/কেজি/দিন পর্যন্ত (৩ বিভক্ত ডোজে)।
বৃক্কের বৈকল্য (CrCl):
CrCl <১০ মিলি/মিনিট: প্রাথমিক ৬.২৫ মিগ্রা/দিন; সর্বোচ্চ ৩৭.৫ মিগ্রা/দিন।
CrCl ১০-২০: প্রাথমিক ১২.৫ মিগ্রা/দিন; সর্বোচ্চ ৭৫ মিগ্রা/দিন।
CrCl ২১-৪০: প্রাথমিক ২৫ মিগ্রা/দিন; সর্বোচ্চ ১০০ মিগ্রা/দিন।
বিঃদ্রঃ: সর্বোচ্চ শোষণের জন্য খাবারের ১ ঘন্টা আগে সেবন করতে হবে।
সেবন পদ্ধতি
খাবারের ১ ঘন্টা আগে খালি পেটে সেবন করুন (সর্বোচ্চ শোষণের জন্য)। ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন, চিবাবেন না বা চূর্ণ করবেন না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সেবন করা উত্তম।
ডোজ মিস করলে করণীয়
যদি কোনো ডোজ মিস হয়, তা বাদ দিন এবং স্বাভাবিক সময়সূচী অনুসরণ করুন। ডোজ দ্বিগুণ করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রক্তচাপ হ্রাস, কাশি, রক্তে পটাসিয়াম মাত্রা বৃদ্ধি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, নিউট্রোপেনিয়া, অ্যানিমিয়া, প্রোটিনুরিয়া, হাইপোটেনশন, ট্যাকিকার্ডিয়া, চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, পেটের জ্বালা ও পেটে ব্যথা।
সতর্কতা ও সাবধানতা
- প্রথম কয়েক দিন মাথা ঘোরা হতে পারে; দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে থাকার পর ধীরে ধীরে উঠুন।
- কাশি বা গলা জ্বালা থাকলে ডাক্তারকে জানান (এসিই ইনহিবিটর-জনিত কাশি হতে পারে)।
- পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ও পটাসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (কলা, ব্রোকলি) এড়িয়ে চলুন (হাইপারক্যালেমিয়ার ঝুঁকি)।
- গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না (ক্যাটাগরি ডি)।
- অ্যাওরটিক স্টেনোসিস বা আউটফ্লো ট্র্যাক্ট বাধায় ব্যবহার করবেন না।
- বৃক্কের রোগে সতর্কতা প্রয়োজন (নিউট্রোপেনিয়া ও প্রোটিনুরিয়া হতে পারে)।
- যকৃতের রোগে সতর্কতা প্রয়োজন; জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারকে জানান।
প্রতিনির্দেশনা
- ক্যাপ্টোপ্রিলের প্রতি পূর্ববর্তী অতিসংবেদনশীলতা
- গর্ভাবস্থা
- দ্বিপাক্ষিক রেনাল আর্টারি স্টেনোসিস
- বংশগত অ্যাঞ্জিওএডিমা
- বৃক্কের বৈকল্য
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
- NSAIDs: হাইপোটেনসিভ প্রভাব হ্রাস করে ও নেফ্রোটক্সিসিটির ঝুঁকি বাড়ায়।
- পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাসিয়াম-স্পেয়ারিং মূত্রবর্ধক, হেপারিন: সংযোজক হাইপারক্যালেমিক প্রভাব।
- প্রোকেইনামাইড, অ্যালোপিউরিনল, সাইটোস্ট্যাটিক বা ইমিউনোসাপ্রেসেন্টস: লিউকোপেনিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- লিথিয়াম: লিথিয়াম বিষাক্ততার ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- গোল্ড (সোডিয়াম অরোথিওম্যালেট): নাইট্রিটয়েড প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- অ্যালিস্কিরেন (ডায়াবেটিস রোগীদের সাথে): হাইপোটেনশন, হাইপারক্যালেমিয়া ও রেনাল ফাংশন পরিবর্তনের ঝুঁকি (প্রাণঘাতী)।
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালকোহল সেবনে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায় না। তবে সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করুন।
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার অনিরাপদ (ক্যাটাগরি ডি)। ভ্রূণের জন্য ঝুঁকির স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। শুধুমাত্র প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থা ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব ওষুধ বন্ধ করুন।
Pregnancy Category: D — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
স্তন্যদানে নিরাপদ (যদি চিকিৎসক পরামর্শ দেন)। মানব গবেষণা অনুযায়ী ওষুধটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বুকের দুধে প্রবেশ করে না এবং শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শিশুদের ডোজ: ০.১৫-০.৩ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ৬ মিগ্রা/কেজি) ২-৩ বিভক্ত ডোজে।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
বয়স্কদের প্রাথমিক ডোজ ৬.২৫ মিগ্রা দিনে ২ বার।
কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার
যকৃতের বৈকল্য: সতর্কতা প্রয়োজন; ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারকে জানান।
ওভারডোজ
ওভারডোজে গুরুতর হাইপোটেনশন হয়। চিকিৎসা: রক্তচাপ সংশোধন (IV তরল, ভাসোপ্রেসর), গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ। ওভারডোজ সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
৩০°C তাপমাত্রার নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
রাসায়নিক গঠন
ক্যাপ্টোপ্রিল