জেনেরিক
Cyclosporine
বাজারে 7টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়
এক নজরে
সাইক্লোস্পোরিন একটি ইমিউনোসপ্রেসেন্ট ওষুধ যা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরে শরীর নতুন অঙ্গ প্রত্যাখ্যান করা প্রতিরোধে, এবং গুরুতর রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও সোরিয়াসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
পরিচিতি
সাইক্লোস্পোরিন একটি ইমিউনোসপ্রেসেন্ট ওষুধ। এটি ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে দেয় যাতে শরীর নতুন প্রতিস্থাপিত অঙ্গ (যেমন- লিভার, কিডনি বা হার্ট) আক্রমণ না করে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে এটি জয়েন্টের প্রদাহ কমায় এবং জয়েন্টের ক্ষতি সীমিত করে। সোরিয়াসিসে এটি নির্দিষ্ট ইমিউন কোষের কার্যকলাপ হ্রাস করে যা ত্বকের কোষের অতিরিক্ত উৎপাদন ঘটায়, ফলে স্কেলিং ও লালভাব উন্নত হয়।
নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
- অঙ্গ প্রতিস্থাপন রোগীদের অঙ্গ প্রত্যাখ্যান প্রতিরোধ
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
- সোরিয়াসিস
- অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস
- নেফ্রোটিক সিনড্রোম
থেরাপিউটিক ক্লাস
Immunosuppressants
ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস
ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটার
ফার্মাকোলজি
সাইক্লোস্পোরিন একটি শক্তিশালী ইমিউনোসপ্রেসেন্ট যা প্রধানত হেল্পার টি-কোষে কাজ করে। এটি ক্যালসিনিউরিনের সক্রিয়করণ এবং ইন্টারলিউকিন-২ উৎপাদন বাধা দেয়, ফলে কোষ-মধ্যস্থ ইমিউন প্রতিক্রিয়া হ্রাস পায়।
কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)
সাইক্লোস্পোরিন হেল্পার টি-কোষে ক্যালসিনিউরিন সক্রিয়করণ এবং ইন্টারলিউকিন-২ উৎপাদন বাধা দিয়ে কোষ-মধ্যস্থ ইমিউন প্রতিক্রিয়া হ্রাস করে, যা অঙ্গ প্রত্যাখ্যান প্রতিরোধে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক - অঙ্গ প্রতিস্থাপনে ইমিউনোসপ্রেশন (মৌখিক): প্রাথমিক: ১০-১৫ মি.গ্রা./কেজি/দিন, পদ্ধতির ৪-১২ ঘন্টা আগে শুরু করে ১-২ সপ্তাহ চলতে থাকে; রক্ষণাবেক্ষণ: ২-৬ মি.গ্রা./কেজি/দিন।
প্রাপ্তবয়স্ক - সোরিয়াসিস: প্রাথমিক: ২.৫ মি.গ্রা./কেজি/দিন, ২ ভাগে বিভক্ত। সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজে কমিয়ে আনুন। ৬ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি না হলে বন্ধ করুন। সর্বোচ্চ: ৫ মি.গ্রা./কেজি/দিন।
প্রাপ্তবয়স্ক - রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: ২.৫ মি.গ্রা./কেজি/দিন, ২ ভাগে বিভক্ত। ৬-৮ সপ্তাহ চালিয়ে যান। প্রয়োজনে ধীরে ধীরে ডোজ বৃদ্ধি করুন। সর্বোচ্চ: ৪ মি.গ্রা./কেজি/দিন।
প্রাপ্তবয়স্ক - নেফ্রোটিক সিনড্রোম: ৫ মি.গ্রা./কেজি/দিন, ২ ভাগে বিভক্ত।
প্রাপ্তবয়স্ক - অঙ্গ প্রতিস্থাপনে ইমিউনোসপ্রেশন (IV): প্রাথমিক: ৫-৬ মি.গ্রা./কেজি/দিন একক ডোজ হিসেবে, ২-৬ ঘন্টার মধ্যে ইনফিউশন। যত দ্রুত সম্ভব মৌখিক ফর্মে পরিবর্তন করুন।
শিশু - নেফ্রোটিক সিনড্রোম: ৬ মি.গ্রা./কেজি/দিন, ২ ভাগে বিভক্ত।
সেবন পদ্ধতি
খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে প্রতিদিন একই সময়ে একইভাবে গ্রহণ করা উত্তম। ট্যাবলেটটি চিবাবেন না, পিষবেন না বা ভাঙবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ ও সময়কালে গ্রহণ করুন।
ডোজ মিস করলে করণীয়
যদি আপনি সাইক্লোস্পোরিনের একটি ডোজ মিস করেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি গ্রহণ করুন। তবে পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে গেলে মিস করা ডোজ বাদ দিন। ডোজ দ্বিগুণ করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- মাথাব্যথা
- বমি বমি ভাব
- বমি
- অতিরিক্ত লোম বৃদ্ধি
- উচ্চ রক্তচাপ
- কিডনির কর্মহীনতা
- ক্ষুধা হ্রাস
- ডায়রিয়া
- কম্পন
- সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি
গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- নেফ্রোটক্সিসিটি
- হেপাটোটক্সিসিটি
- ম্যালিগন্যান্সি (বিশেষত ত্বকের ক্যান্সার)
- হাইপারটেনশন
- নিউরোটক্সিসিটি
সতর্কতা ও সাবধানতা
- ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সংক্রমণ হলে ডাক্তারকে জানান।
- ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, তাই সূর্যের আলো এড়িয়ে চলুন।
- গাড়ি চালানোর ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান (রক্তচাপ, লিভার ও কিডনি ফাংশন, মিনারেল লেভেল)।
- প্রচুর পানি পান করুন (দিনে ৮-১০ গ্লাস)।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
প্রতিনির্দেশনা
- অতিসংবেদনশীলতা
- ম্যালিগন্যান্ট নিওপ্লাজম
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
- সোরিয়াসিস (কিছু ক্ষেত্রে)
- স্তন্যদান
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
সাইক্লোস্পোরিনের মাত্রা বৃদ্ধিকারী ওষুধ: ডিলটিয়াজেম, ডক্সিসাইক্লিন, এরিথ্রোমাইসিন, কিটোকোনাজল, মিথাইলপ্রেডনিসোলন (উচ্চ ডোজ), নিকার্ডিপিন, ভেরাপামিল, মৌখিক গর্ভনিরোধক।
সাইক্লোস্পোরিনের মাত্রা হ্রাসকারী ওষুধ: কার্বামাজেপিন, আইসোনিয়াজিড, ফেনোবারবিটোন, ফেনাইটোইন ও রিফাম্পিসিন।
উচ্চ-ডোজ মিথাইলপ্রেডনিসোলনের সাথে: খিঁচুনির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
প্রাণঘাতী: অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড, অ্যামফোটেরিসিন বি, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, কোলচিসিন, মেলফালান, কো-ট্রাইমক্সাজল ও NSAIDs-এর সাথে অ্যাডিটিভ নেফ্রোটক্সিসিটি।
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাইক্লোস্পোরিনের সাথে অ্যালকোহল সেবনে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায় না। খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া গ্রহণ করা যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার নিরাপদ নাও হতে পারে। প্রাণী গবেষণায় উন্নয়নশীল শিশুর জন্য ক্ষতিকারক প্রভাব দেখা গেছে। ডাক্তার উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রেসক্রাইব করবেন। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
স্তন্যদানের সময় ব্যবহার নিরাপদ নয়। সাইক্লোস্পোরিন মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় এবং শিশুর জন্য টক্সিসিটি হতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোমে ৬ মি.গ্রা./কেজি/দিন, ২ ভাগে বিভক্ত ডোজ ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে শিশু রোগীদের তথ্য সীমিত।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
বয়স্ক রোগীদের ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন নেই। তবে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার
কিডনি রোগ: সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিয়মিত কিডনি ফাংশন টেস্ট করান।
লিভার রোগ: সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করান।
ওভারডোজ
সাইক্লোস্পোরিনের অতিরিক্ত ডোজ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। অতিরিক্ত ডোজে নেফ্রোটক্সিসিটি, হেপাটোটক্সিসিটি ও অন্যান্য বিষাক্ত প্রভাব দেখা দিতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
৩০°C তাপমাত্রার নীচে, শুকনো ও অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
রাসায়নিক গঠন
সাইক্লোস্পোরিন