osudhkosh

জেনেরিক

Esomeprazole + Naproxen

বাজারে 110টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

এসোমেপ্রাজল + ন্যাপ্রোক্সেন একটি সংমিশ্রণ ওষুধ যা ব্যথা ও প্রদাহ উপশমে ব্যবহৃত হয়। এটি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, পেশি ব্যথা, পিঠে ব্যথা ও দাঁতের ব্যথায় কার্যকর। ন্যাপ্রোক্সেন ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে এবং এসোমেপ্রাজল পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে ন্যাপ্রোক্সেনের কারণে পেটের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

পরিচিতি

এই ওষুধটি ন্যাপ্রোক্সেন ও এসোমেপ্রাজলের সমন্বয়ে গঠিত। ন্যাপ্রোক্সেন একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ (NSAID) যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণের জন্য দায়ী সাইক্লোঅক্সিজিনেজ (COX) এনজাইমকে বাধা দিয়ে ব্যথা, প্রদাহ ও জ্বর কমায়। এসোমেপ্রাজল একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) যা পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষের H+/K+ ATPase এনজাইমকে অপরিবর্তনীয়ভাবে বাধা দিয়ে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণের চূড়ান্ত ধাপটি বন্ধ করে দেয়। এই সংমিশ্রণ ন্যাপ্রোক্সেনের ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক প্রভাব বজায় রাখে এবং এসোমেপ্রাজল পাকস্থলীর অ্যাসিড কমিয়ে ন্যাপ্রোক্সেন-প্ররোচিত গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি হ্রাস করে।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)

ব্যথা ও প্রদাহ উপশম: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, পেশি ব্যথা, পিঠে ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, কান ও গলার ব্যথা।

থেরাপিউটিক ক্লাস

ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

NSAID + প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর

ফার্মাকোলজি

ন্যাপ্রোক্সেন একটি NSAID যা সাইক্লোঅক্সিজিনেজ (COX-1 ও COX-2) এনজাইমকে বাধা দিয়ে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ কমায়, ফলে ব্যথা, প্রদাহ ও জ্বর হ্রাস পায়। এসোমেপ্রাজল পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণের চূড়ান্ত ধাপে H+/K+ ATPase (প্রোটন পাম্প) এনজাইমকে বাধা দিয়ে পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদন কমায়, যা ন্যাপ্রোক্সেনের কারণে পেটের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

ন্যাপ্রোক্সেন সাইক্লোঅক্সিজিনেজ এনজাইম বাধা দিয়ে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ কমায়, ফলে ব্যথা ও প্রদাহ হ্রাস পায়। এসোমেপ্রাজল প্রোটন পাম্প বাধা দিয়ে পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদন কমায়, যা ন্যাপ্রোক্সেনের কারণে পেটের আস্তরণের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্ক: ১টি ট্যাবলেট (ন্যাপ্রোক্সেন ৩৭৫ মি.গ্রা. বা ৫০০ মি.গ্রা. + এসোমেপ্রাজল ২০ মি.গ্রা.) দিনে ২ বার, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। খাবারের কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে খালি পেটে সেবন করতে হবে। বয়স্ক রোগীদের উচ্চ মাত্রায় সতর্কতা প্রয়োজন।

সেবন পদ্ধতি

খাবারের কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে খালি পেটে সেবন করুন। ট্যাবলেটটি পুরো গিলে ফেলুন, চিবাবেন না, গুঁড়ো করবেন না বা ভাঙবেন না। এক গ্লাস পানি সহ সেবন করুন। অ্যান্টাসিড ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডোজ মিস করলে করণীয়

যদি কোনো ডোজ নিতে ভুলে যান, মনে পড়ামাত্র নিন। কিন্তু যদি পরবর্তী ডোজের সময় প্রায় হয়ে যায়, তাহলে মিস করা ডোজটি বাদ দিন এবং নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন। কখনো ডাবল ডোজ নেবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ডিসপেপসিয়া, গ্যাস্ট্রাইটিস, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক আলসার, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ফ্ল্যাটুলেন্স, মাথাব্যথা। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কার্ডিওভাসকুলার থ্রম্বোটিক ইভেন্ট (হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক), উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিউর, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাত, কিডনি ক্ষতি, লিভার এনজাইম বৃদ্ধি, গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া (স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম, টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস), অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া।

সতর্কতা ও সাবধানতা

গর্ভাবস্থায় (বিশেষ করে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে) ব্যবহার নিরাপদ নয়। স্তন্যদানকালে সতর্কতা প্রয়োজন। বয়স্ক রোগী, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা লিভার রোগে সতর্কতা প্রয়োজন। গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতা প্রয়োজন কারণ ওষুধ মাথা ঘোরা, তন্দ্রা বা দৃষ্টি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে হাড় ভাঙার ঝুঁকি ও ভিটামিন বি১২ ঘাটতি হতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

ন্যাপ্রোক্সেন, এসোমেপ্রাজল বা অন্য কোনো NSAID/PPI-এর প্রতি অতি সংবেদনশীলতা। অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানি। সাম্প্রতিক হার্ট বাইপাস সার্জারি। গুরুতর কিডনি বা লিভার রোগ। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাত বা আলসারের ইতিহাস।

ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন

ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অন্যান্য NSAIDs, অ্যাসপিরিন, কর্টিকোস্টেরয়েড, ডাইইউরেটিকস, এসিই ইনহিবিটর, অ্যাঞ্জিওটেনসিন II রিসেপ্টর ব্লকার, লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট, সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, ডিগক্সিন, সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI) এর সাথে মিথস্ক্রিয়া হতে পারে। নেলফিনাভির, অ্যাটাজানাভির, রিলপিভিরিনের সাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

অ্যালকোহল সেবনে সতর্কতা প্রয়োজন কারণ এটি পেটে রক্তপাত ও আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ব্যবহার নিরাপদ নয়। গর্ভাবস্থার ২০-৩০ সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার সীমিত করতে হবে এবং ৩০ সপ্তাহের পরে ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে। প্রাণী গবেষণায় ভ্রূণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে।

Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

স্তন্যদানকালে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মায়ের দুধে যায় না, তবে সতর্কতা প্রয়োজন।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বয়স্ক রোগীদের (৬৫ বছরের বেশি) গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি, তাই কম ডোজ ব্যবহার করতে হবে এবং সতর্কতা প্রয়োজন।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

কিডনি রোগে সতর্কতা প্রয়োজন; মাঝারি থেকে গুরুতর কিডনি রোগে (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স <৩০ মি.লি./মিনিট) ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না। লিভার রোগে সতর্কতা প্রয়োজন; গুরুতর লিভার রোগে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

ওভারডোজ

ওভারডোজের লক্ষণ: তন্দ্রা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা। ওভারডোজ সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

৩০°C-এর নিচে তাপমাত্রায়, শীতল ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

রাসায়নিক গঠন

ন্যাপ্রোক্সেন + এসোমেপ্রাজল

⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।