জেনেরিক
Roxithromycin
বাজারে 19টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়
এক নজরে
রক্সিথ্রোমাইসিন একটি ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক যা শ্বাসতন্ত্র, কান-নাক-গলা, ত্বক ও যৌনাঙ্গের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি ৫০এস রাইবোসোমাল সাবইউনিটের সাথে আবদ্ধ হয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ বাধা দেয়।
পরিচিতি
রক্সিথ্রোমাইসিন একটি ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক যা এরিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এটি গ্রাম-পজিটিভ (স্ট্যাফাইলোকক্কাস, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, লিস্টেরিয়া, কোরিনেব্যাকটেরিয়াম) ও গ্রাম-নেগেটিভ (গনোকক্কাস, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, লেজিওনেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর) এবং অ্যাটিপিকাল প্যাথোজেন (মাইকোপ্লাজমা, ক্ল্যামাইডিয়া)-এর বিরুদ্ধে সক্রিয়।
নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)
- শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ (নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস)
- ইএনটি সংক্রমণ (টনসিলাইটিস, ফ্যারিঞ্জাইটিস, সাইনোসাইটিস, ওটিটিস মিডিয়া)
- ত্বকের সংক্রমণ (ফলিকুলাইটিস, ফুরাঙ্কেল, সেলুলাইটিস, ইমপেটিগো)
- যৌনাঙ্গের সংক্রমণ (ইউরেথ্রাইটিস, প্রোস্টাটাইটিস, সার্ভিসাইটিস – বিশেষত ক্ল্যামাইডিয়া ট্র্যাকোমাটিস)
থেরাপিউটিক ক্লাস
ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক
ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস
ম্যাক্রোলাইড
ফার্মাকোলজি
রক্সিথ্রোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার ৫০এস রাইবোসোমাল সাবইউনিটের সাথে অপরিবর্তনীয়ভাবে আবদ্ধ হয়ে ট্রান্সপেপটিডেশন বা ট্রান্সলোকেশন প্রতিক্রিয়া বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়ার কোষ বৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ বিস্তার লাভ করে না।
কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)
৫০এস রাইবোসোমাল সাবইউনিটের সাথে আবদ্ধ হয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ বাধা দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ডোজ (ওরাল):
- সাধারণ সংক্রমণ: ১৫০ মিগ্রা দিনে ২ বার অথবা ৩০০ মিগ্রা দিনে ১ বার (৫-১০ দিন)
- গুরুতর হেপাটিক ইমপেয়ারমেন্ট: ১৫০ মিগ্রা/দিন
শিশু ডোজ (ওরাল):
- ৬-১১ কেজি: ২৫ মিগ্রা ১২ ঘণ্টা পরপর
- ১২-২৩ কেজি: ৫০ মিগ্রা ১২ ঘণ্টা পরপর
- ২৪-৪০ কেজি: ১০০ মিগ্রা ১২ ঘণ্টা পরপর
- ডোজ: ৫-৮ মিগ্রা/কেজি/দিন (৫-১০ দিন)
সেবন পদ্ধতি
- খালি পেটে গ্রহণ করুন (খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে)
- ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন; চিবাবেন না, পিষবেন না বা ভাঙবেন না
- অ্যান্টাসিড গ্রহণের ২ ঘণ্টা আগে বা পরে নেবেন না
ডোজ মিস করলে করণীয়
মনে পড়লে সাথে সাথে গ্রহণ করুন; পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে গেলে বাদ দিন; ডোজ দ্বিগুণ করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- বমি বমি ভাব ও বমি
- পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া
- অ্যালার্জি (ত্বকে ফুসকুড়ি)
- মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা
- ডিসপেপসিয়া, ফ্ল্যাটুলেন্স
- টিনিটাস, ভারটিগো, কোষ্ঠকাঠিন্য
সতর্কতা ও সাবধানতা
- ঔষধের প্রতি অতি সংবেদনশীলতার ইতিহাসে ব্যবহার করবেন না
- হেপাটিক রোগে ডোজ ১৫০ মিগ্রা দিনে ২ বারের বেশি নয়
- গাড়ি চালানোর ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে (তন্দ্রা ও মাথা ঘোরা)
- গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়
প্রতিনির্দেশনা
- রক্সিথ্রোমাইসিন বা ম্যাক্রোলাইডের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা
- পোরফাইরিয়া
ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
- সাইক্লোস্পোরিন ও ডিগক্সিন: সিরাম মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে
- সিমভাস্ট্যাটিন: র্যাবডোমায়োলাইসিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি
- এরগোটামিন বা এর ডেরিভেটিভ: ধমনী স্পাজম ও গুরুতর ইসকেমিয়া হতে পারে (একসঙ্গে দেবেন না)
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া
রক্সিথ্রোমাইসিনের সাথে অ্যালকোহল সেবন নিরাপদ (কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই)।
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার: গর্ভাবস্থায় ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ; প্রাণী研究中 কম বা কোনো বিরূপ প্রভাব দেখা যায়নি; তবে মানব গবেষণা সীমিত; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
স্তন্যদানে ব্যবহার: স্তন্যদানে ব্যবহার নিরাপদ; মানব গবেষণায় ওষুধ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাতৃদুগ্ধে প্রবেশ করে না এবং শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
শিশুদের জন্য নিরাপদ (৬-৪০ কেজি); ডোজ ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার
বয়স্ক রোগীদের সতর্কতা প্রয়োজন; ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।
কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার
রেনাল ইমপেয়ারমেন্ট: কিডনি রোগে নিরাপদ; ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
হেপাটিক ইমপেয়ারমেন্ট: লিভার রোগে সতর্কতা প্রয়োজন; ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে (গুরুতর ক্ষেত্রে ১৫০ মিগ্রা/দিন); ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ওভারডোজ
ওভারডোজের তথ্য সীমিত; অতিরিক্ত মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে; ডাক্তার জানান।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
শীতল ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
রাসায়নিক গঠন
রক্সিথ্রোমাইসিন