osudhkosh

জেনেরিক

Adefovir Dipivoxil

বাজারে 5টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

  • মূল উপাদান: অ্যাডেনোফোভির ডিপাইভক্সিল (Adefovir Dipivoxil) ১০ মিগ্রা
  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্রনিক হেপাটাইটিস বি (Chronic Hepatitis B) ভাইরাসের সংক্রমণ
  • সেবনমাত্রা: প্রতিদিন ১০ মিগ্রা (১টি ট্যাবলেট) দিনে ১ বার খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া সেব্য
পরিচিতি

অ্যাডেনোফোভির ডিপাইভক্সিল হলো একটি অ্যাসাইক্লিক নিউক্লিওটাইড এনালগ অ্যান্টিভাইরাল প্রড্রাগ, যা ক্রনিক হেপাটাইটিস বি (HBV) ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি সেলুলার কাইনেজ দ্বারা সক্রিয় হয়ে ডিএনএ চেইন বন্ধ করে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)

প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্রনিক হেপাটাইটিস বি (Chronic Hepatitis B) সংক্রমণের চিকিৎসায় নির্দেশিত, যাদের সক্রিয় ভাইরাল রেপ্লিকেশন এবং সিরাম অ্যামিনোট্রান্সফারেজ (ALT/AST) বৃদ্ধি অথবা লিভারে সক্রিয় প্রদাহের উপস্থিতি রয়েছে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

হেপাটিক ভাইরাল ইনফেকশন ওষুধ (Hepatic viral infections / Hepatitis B)

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

নিউক্লিওটাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ ইনহিবিটর (Nucleotide Reverse Transcriptase Inhibitor - NtRTI)

ফার্মাকোলজি

অ্যাডেনোফোভির ডিপাইভক্সিল একটি ডাইএস্টার প্রড্রাগ। শরীরে এটি রূপান্তরিত হয়ে সক্রিয় অ্যাডেনোফোভির ডাইফসফেটে পরিণত হয়। এটি ডিওক্সিয়াডেনোসিন ট্রাইফসফেটের সাথে প্রতিযোগিতা করে HBV DNA পলিমারেজ (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ) এনজাইমকে বাধা দেয় এবং ভাইরাল ডিএনএ শৃঙ্খলে যুক্ত হয়ে ভাইরাসের গঠন প্রতিহত করে। এর বায়োঅ্যাভেলেবিলিটি প্রায় ৫৯% এবং মূল অংশ কিডনির মাধ্যমে বের হয়ে যায়।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

সেলুলার কাইনেজ দ্বারা অ্যাডেনোফোভির ডাইফসফেটে রূপান্তরিত হওয়ার পর এটি সংক্রামিত কোষে HBV DNA পলিমারেজকে ইনহিবিট করে এবং ভাইরাল DNA চেইন টার্মিনেশন ঘটায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

স্বাভাবিক কিডনি কার্যক্ষমতা সম্পন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ মিগ্রা (১টি ট্যাবলেট) দিনে ১ বার, খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া। কিডনি জটিলতায় ডোজ বিন্যাস: - CrCl ৫০ মি.লি./মি.: ১০ মিগ্রা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১ বার - CrCl ২০-৪৯ মি.লি./মি.: ১০ মিগ্রা প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় ১ বার - CrCl ১০-১৯ মি.লি./মি.: ১০ মিগ্রা প্রতি ৭২ ঘণ্টায় ১ বার - হেমোডায়ালাইসিস রোগী: ডায়ালাইসিসের পর প্রতি ৭ দিনে ১০ মিগ্রা ১ বার।

সেবন পদ্ধতি

মুখ দিয়ে সেব্য। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ট্যাবলেটটি পানি দিয়ে সেবন করতে হয়। খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া সেবন করা যাবে।

ডোজ মিস করলে করণীয়

মনে পড়ার সাথে সাথেই মিসড ডোজটি খেয়ে নিন। তবে পরবর্তী ডোজের সময় হয়ে গেলে মিসড ডোজটি বাদ দিন। একসাথে দুই ডোজ গ্রহণ করা নিষেধ।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পেট ব্যথা এবং বমি বমি ভাব। দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস (Nephrotoxicity), ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস এবং লিভার বড় হয়ে যাওয়া (Hepatomegaly with steatosis) হতে পারে। ওষুধ বন্ধ করলে হেপাটাইটিস তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

সতর্কতা ও সাবধানতা

ওষুধ বন্ধ করার পর রোগীদের লিভারের কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করতে হবে এবং মাত্রা পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

প্রতিনির্দেশনা

অ্যাডেনোফোভির ডিপাইভক্সিল বা এর কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (Hypersensitivity) থাকলে এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন

আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen 800 mg) এর সাথে সহ-প্রয়োগে অ্যাডেনোফোভিরের রক্তে ঘনত্বের পরিমাণ (Cmax ৩৩% ও AUC ২৩%) বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ল্যামিভুডিন, ট্রাইমিথোপ্রিম/সালফামেথক্সাজল এবং প্যারাসিটামলের সাথে কোনো উল্লেখযোগ্য ইন্টারঅ্যাকশন নেই।

খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

খাদ্যের সাথে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া নেই; খাবারের আগে বা পরে নিশ্চিন্তে গ্রহণ করা যায়।

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি C। গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে এবং ঝুঁকির তুলনায় উপকারিতা বেশি নিশ্চিত না হয়ে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

অ্যাডেনোফোভির মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা তা নিশ্চিত নয়। এই ওষুধ সেবনকালীন মায়েদের স্তন্যদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনি ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি বেশি থাকায় সতর্কতার সাথে মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

কিডনি রোগীদের সেবনমাত্রার ব্যবধান (CrCl অনুযায়ী) সংশোধন করতে হবে। লিভার বিকলতার রোগীদের লিভার ফাংশন নিবিড়ভাবে মনিটর করতে হবে।

ওভারডোজ

অতিরিক্ত মাত্রায় (প্রতিদিন ২৫০-৫০০ মিগ্রা) পাকস্থলী ও অন্ত্রের তীব্র সমস্যা হতে পারে। ওভারডোজ হলে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও সাপোর্টিভ কেয়ার প্রদান করতে হবে।

সংরক্ষণ পদ্ধতি

আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, ঠাণ্ডা ও শুষ্ক স্থানে (৩০° সে.-এর নিচে) সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

রাসায়নিক গঠন

C14H21N5O8P

সাধারণ জিজ্ঞাসা

অ্যাডেনোফোভির ডিপাইভক্সিল (Adefovir Dipivoxil) কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
এটি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্রনিক হেপাটাইটিস বি (Chronic Hepatitis B) ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ।
এটি সেবনের সঠিক নিয়ম কী?
স্বাভাবিক কিডনি কার্যক্ষমতা সম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ মাত্রা হলো প্রতিদিন ১০ মিগ্রা একটি করে ট্যাবলেট। খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া খাওয়া যায়।
ওষুধটি হঠাৎ বন্ধ করলে কী সমস্যা হতে পারে?
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের পুনরুত্থান বা লিভারের প্রদাহ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজের কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন আছে কি?
হ্যাঁ, ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স (CrCl) ৫০ মি.লি./মিনিটের কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবনমাত্রার বিরতি বাড়াতে হয়।
⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।