osudhkosh

জেনেরিক

Allystrenol

বাজারে 8টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

অ্যালিলেস্ট্রেনল একটি সিন্থেটিক প্রোজেস্টিন (স্ত্রী হরমোন) যা পুনরাবৃত্ত গর্ভপাত ও অকাল প্রসব প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি জরায়ুর পেশি শিথিল করে এবং ভ্রূণের বিকাশে সহায়তা করে।

পরিচিতি

অ্যালিলেস্ট্রেনল একটি সিন্থেটিক প্রোজেস্টিন যা প্রাকৃতিক প্রোজেস্টেরনের মতো কাজ করে। এটি জরায়ুর আস্তরণে ভ্রূণ সংযুক্তি উন্নত করে এবং প্লাসেন্টায় রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। এটি জরায়ুর পেশি শিথিল করে অকাল প্রসব প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি প্লাসেন্টার কার্যকারিতা ও হরমোন উৎপাদনেও সহায়তা করে।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)

পুনরাবৃত্ত গর্ভপাত (২ বা ততোধিক বার); হুমকিস্বরূপ গর্ভপাত; অকাল প্রসবের হুমকি; অন্তঃজরায়ু বৃদ্ধি প্রতিবন্ধকতা (IUGR)।

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

সিন্থেটিক প্রোজেস্টিন

ফার্মাকোলজি

অ্যালিলেস্ট্রেনল একটি সিন্থেটিক প্রোজেস্টিন যা প্রোজেস্টেরনের মতো কাজ করে। এটি জরায়ুর আস্তরণে ভ্রূণ সংযুক্তি উন্নত করে ও প্লাসেন্টায় রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। এটি জরায়ুর পেশি শিথিল করে অকাল প্রসব প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি প্ল্যাসেন্টাল হরমোন (hCG, hPL, ইস্ট্রোজেন) উৎপাদনেও সাহায্য করে।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

অ্যালিলেস্ট্রেনল প্রোজেস্টেরনের মতো কাজ করে। এটি জরায়ুর আস্তরণ প্রস্তুত করে, গর্ভাবস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং অক্সিটোসিনের প্রতি জরায়ুর সংবেদনশীলতা কমিয়ে অকাল প্রসব প্রতিরোধ করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্ক:

  • IUGR: ৫ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার, কমপক্ষে ২ মাস (উন্নতি হলে ডোজ কমিয়ে দিন)
  • হুমকিস্বরূপ গর্ভপাত: ৫ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার, লক্ষণ চলে যাওয়া পর্যন্ত
  • পুনরাবৃত্ত গর্ভপাত: গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হলে ৫-১০ মি.গ্রা./দিন (১-২ টি ট্যাবলেট), সংকটকাল শেষের পর কমপক্ষে ১ মাস পর্যন্ত চালিয়ে যান
  • অকাল প্রসবের হুমকি: সর্বোচ্চ ৪০ মি.গ্রা./দিন (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
সেবন পদ্ধতি

খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া নেওয়া যেতে পারে (পেটের সমস্যা হলে খাবারের সাথে নিন)। ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন, চিবাবেন না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সেবন করুন।

ডোজ মিস করলে করণীয়

যদি কোনো ডোজ নিতে ভুলে যান, মনে পড়ামাত্র নিন। কিন্তু যদি পরবর্তী ডোজের সময় প্রায় হয়ে যায়, তাহলে মিস করা ডোজটি বাদ দিন এবং নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন। কখনো ডাবল ডোজ নেবেন না।

ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
  • এনজাইম-ইন্ডিউসিং ওষুধ (কার্বামাজেপিন, গ্রিসিওফুলভিন, ফেনোবারবিটাল, ফেনাইটোইন, রিফাম্পিসিন): ক্লিয়ারেন্স বাড়ায়
  • কেটোকোনাজোল: জৈব উপলভ্যতা বাড়াতে পারে
  • সাইক্লোস্পোরিন: ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে পারে (জীবন-হানিকারক)
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

অ্যালকোহল সেবনের বিষয়ে তথ্য নেই; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্রতিনির্দেশনা
  • অতি সংবেদনশীলতা
  • থ্রম্বোফ্লেবিটিস
  • নির্ণয় করা হয়নি এমন যোনি রক্তপাত
  • অসম্পূর্ণ গর্ভপাত
  • হরমোন-নির্ভর ক্যান্সার
  • সেরিব্রাল অ্যাপোপ্লেক্সি
  • গুরুতর লিভার রোগ
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: শরীরে পানি জমে ফোলা (এডিমা), পেট ফাঁপা, উদ্বেগ, বিরক্তি, বিষণ্নতা, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, ত্বকে ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, স্তনের পরিবর্তন

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় ক্লিনিক্যালি নিরাপদ বলে প্রমাণিত (কোন টেরাটোজেনিক প্রভাব নেই)। তবে গর্ভাবস্থার যেকোনো ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।

Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

প্রসবের পর ওষুধ বন্ধ করুন। বুকের দুধে ওষুধের প্রভাব সম্পর্কে তথ্য সীমিত।

সতর্কতা ও সাবধানতা
  • প্রসবের পর ওষুধ বন্ধ করুন (শিশুকে প্রভাবিত করতে পারে)
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না
  • গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতা (মাথা ঘোরা হতে পারে)
  • ডায়াবেটিস, মৃগী, হাঁপানি, হার্ট বা কিডনি সমস্যা থাকলে সতর্কতা প্রয়োজন
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বয়স্ক রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ডোজ তথ্য নেই।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

কিডনি বা লিভারের সমস্যায় সতর্কতা প্রয়োজন।

ওভারডোজ

ওভারডোজের লক্ষণ: অস্বাভাবিক তন্দ্রা, দ্রুত নাড়ি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক পেশি নড়াচড়া, খিঁচুনি, চেতনা হারানো।

থেরাপিউটিক ক্লাস

প্রোজেস্টিন (গর্ভাবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ প্রস্তুতি)

সংরক্ষণ পদ্ধতি

৩০°C-এর নিচে তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

রাসায়নিক গঠন

C₂₁H₃₂O (আণবিক ওজন: ৩০০.৪৮ গ্রাম/মোল)

⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।