osudhkosh

জেনেরিক

Aminophylline

বাজারে 11টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

এক নজরে

অ্যামিনোফাইলিন একটি ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধ যা হাঁপানি (অ্যাজমা) এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)-এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি শ্বাসনালীর পেশি শিথিল করে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ করে।

পরিচিতি

অ্যামিনোফাইলিন থিওফাইলিন এবং ইথিলিনেডিয়ামিনের সংমিশ্রণ। ইথিলিনেডিয়ামিন নিষ্ক্রিয় এবং এটি থিওফাইলিনের পানিতে দ্রবণীয়তা বৃদ্ধি করে। থিওফাইলিন ব্রঙ্কিয়াল স্মুথ পেশি শিথিল করে। এর কর্মপ্রণালী ফসফোডাইস্টেরেজ ইনহিবিশনের মাধ্যমে অন্তঃকোষীয় cAMP বৃদ্ধি, অ্যাডেনোসিন রিসেপ্টর প্রতিপক্ষতা, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন প্রতিপক্ষতা এবং অন্তঃকোষীয় ক্যালসিয়ামের উপর প্রভাবের মাধ্যমে ঘটে বলে মনে করা হয়।

নির্দেশনা (কোন রোগে ব্যবহৃত হয়)

হাঁপানি (অ্যাজমা), এমফিসিমা ও ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের সাথে সম্পর্কিত ব্রঙ্কোস্পাজমের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ; প্রাপ্তবয়স্কদের কার্ডিয়াক অ্যাজমা ও বাম ভেন্ট্রিকুলার বা কনজেস্টিভ কার্ডিয়াক ফেইলিউরের চিকিৎসা।

ফার্মাকোলজিক্যাল ক্লাস

মিথাইল জ্যান্থিন ডেরিভেটিভ

ফার্মাকোলজি

অ্যামিনোফাইলিন থিওফাইলিন এবং ইথিলিনেডিয়ামিনের সংমিশ্রণ। ইথিলিনেডিয়ামিন নিষ্ক্রিয় এবং এটি থিওফাইলিনের পানিতে দ্রবণীয়তা বৃদ্ধি করে। থিওফাইলিন ব্রঙ্কিয়াল স্মুথ পেশি শিথিল করে। কর্মপ্রণালী ফসফোডাইস্টেরেজ ইনহিবিশনের মাধ্যমে অন্তঃকোষীয় cAMP বৃদ্ধি, অ্যাডেনোসিন রিসেপ্টর প্রতিপক্ষতা, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন প্রতিপক্ষতা এবং অন্তঃকোষীয় ক্যালসিয়ামের উপর প্রভাবের মাধ্যমে ঘটে।

কার্যপদ্ধতি (Mechanism of Action)

অ্যামিনোফাইলিন ফসফোডাইস্টেরেজ এনজাইমকে বাধা দিয়ে অন্তঃকোষীয় cAMP বৃদ্ধি করে, যা ব্রঙ্কিয়াল স্মুথ পেশির শিথিলতা ঘটায় এবং শ্বাসনালী প্রসারিত করে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মৌখিক (ক্রনিক ব্রঙ্কোস্পাজম):

  • প্রাপ্তবয়স্ক: প্রাথমিক ২২৫-৪৫০ মি.গ্রা. দিনে ২ বার; প্রয়োজনে ডোজ বৃদ্ধি
  • শিশু (>৩ বছর): ১২ মি.গ্রা./কেজি/দিন, ২ ভাগে; ১ সপ্তাহ পর ২৪ মি.গ্রা./কেজি/দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি

ইনট্রাভেনাস (তীব্র ব্রঙ্কোস্পাজম):

  • প্রাপ্তবয়স্ক: লোডিং ডোজ: ৫ মি.গ্রা./কেজি (আদর্শ শরীরের ওজন) বা ২৫০-৫০০ মি.গ্রা. (২৫ মি.গ্রা./মি.লি.) ২০-৩০ মিনিটে ধীর ইনজেকশন/ইনফিউশন; রক্ষণাবেক্ষণ: ০.৫ মি.গ্রা./কেজি/ঘন্টা
  • শিশু: লোডিং ডোজ প্রাপ্তবয়স্কের মতো; রক্ষণাবেক্ষণ: ৬ মাস-৯ বছর: ১ মি.গ্রা./কেজি/ঘন্টা; ১০-১৬ বছর: ০.৮ মি.গ্রা./কেজি/ঘন্টা
সেবন পদ্ধতি

খালি পেটে (খাবারের ১ ঘন্টা আগে বা ২ ঘন্টা পরে) গ্রহণ করুন।

ট্যাবলেট পুরো গিলে ফেলুন, চিবাবেন না (ট্যাবলেটের গঠনের কারণে)।

ডোজ মিস করলে করণীয়

যদি কোনো ডোজ নিতে ভুলে যান, মনে পড়ামাত্র নিন। কিন্তু যদি পরবর্তী ডোজের সময় প্রায় হয়ে যায়, তাহলে মিস করা ডোজটি বাদ দিন এবং নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন। কখনো ডাবল ডোজ নেবেন না।

ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন
  • অ্যান্টিবায়োটিক (এরিথ্রোমাইসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন): থিওফাইলিনের ক্লিয়ারেন্স কমাতে পারে
  • অ্যান্টি-এপিলেপটিক ওষুধ (ফেনাইটোইন, কার্বামাজেপিন): থিওফাইলিনের ক্লিয়ারেন্স বাড়াতে পারে
  • সিমেটিডিন: থিওফাইলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে
  • বিটা-ব্লকার: ব্রঙ্কোডাইলেটরি প্রভাব কমাতে পারে
  • অ্যালোপিউরিনল: থিওফাইলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে
খাবারের সাথে প্রতিক্রিয়া

অ্যালকোহল সেবনে সতর্কতা প্রয়োজন; অ্যালকোহল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা
  • জ্যান্থিন বা ইথিলিনেডিয়ামিনের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা
  • সক্রিয় পেপটিক আলসার (গ্যাস্ট্রিক সিক্রেশন বৃদ্ধি করতে পারে)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: গ্যাস্ট্রিক জ্বালা, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, হেমাটেমেসিস, এপিগ্যাস্ট্রিক ব্যথা, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বিরক্তি, অস্থিরতা, অনিদ্রা, পেশি টান, ধড়ফড়, টাকিকার্ডিয়া, হাইপোটেনশন, ফ্লাশিং, অ্যালবুমিনুরিয়া, ডাইউরেসিস, হেমাটুরিয়া।

গুরুতর (উচ্চ মাত্রায়): ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিথমিয়া, খিঁচুনি, পেপটিক আলসারের পুনঃসক্রিয়তা, সংবহন ব্যর্থতা, রিফ্লেক্স হাইপারএক্সাইটেবিলিটি।

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় অ্যামিনোফাইলিন ব্যবহারের ঝুঁকি ও সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে; অনিয়ন্ত্রিত রোগের ঝুঁকির বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

Pregnancy Category: C — গর্ভাবস্থায় সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার

স্তন্যদানকালে নিরাপদ; উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মায়ের দুধে যায় না এবং শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়।

সতর্কতা ও সাবধানতা
  • হাঁপানি ও সিওপিডি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়
  • তাৎক্ষণিক ক্রিয়া করে না; জরুরি অবস্থার জন্য রেসকিউ ইনহেলার সাথে রাখুন
  • নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (পটাসিয়াম স্তর ও ওষুধের মাত্রা পর্যবেক্ষণ)
  • কিডনি, লিভার বা হৃদরোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান
  • ধূমপানের ইতিহাস থাকলে ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না
  • উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (কফি, চা, ডার্ক চকলেট) এড়িয়ে চলুন
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

৩ বছরের বেশি শিশু: ১২ মি.গ্রা./কেজি/দিন (২ ভাগে), ১ সপ্তাহ পর ২৪ মি.গ্রা./কেজি/দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি

৬ মাস-৯ বছর (IV): ১ মি.গ্রা./কেজি/ঘন্টা; ১০-১৬ বছর (IV): ০.৮ মি.গ্রা./কেজি/ঘন্টা

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বয়স্ক রোগীদের ডোজ কমাতে হতে পারে (থিওফাইলিন ক্লিয়ারেন্স হ্রাস পায়)।

কিডনি/লিভার সমস্যায় ব্যবহার

কিডনি সমস্যা: সতর্কতা প্রয়োজন; ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

লিভার সমস্যা: সতর্কতা প্রয়োজন; ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে (লিভারের রোগে থিওফাইলিন ক্লিয়ারেন্স হ্রাস পায়)।

ওভারডোজ

ওভারডোজের লক্ষণ: বমি বমি ভাব, বমি, অনিদ্রা, কাঁপুনি, টাকিকার্ডিয়া, খিঁচুনি, ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিথমিয়া। চিকিৎসা: লক্ষণভিত্তিক ও সহায়ক ব্যবস্থা।

থেরাপিউটিক ক্লাস

ব্রঙ্কোডাইলেটর

সংরক্ষণ পদ্ধতি

৩০°C-এর নিচে তাপমাত্রায়, শীতল ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

রাসায়নিক গঠন

C₁₆H₂₄N₁₀O₄ (থিওফাইলিন + ইথিলিনেডিয়ামিন)

⚠️ এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে — চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ওষুধ সেবনের আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।