খিঁচুনি হলে প্রাথমিক করণীয়: কী করবেন, কী করবেন না
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

আপনার সামনে কেউ আচমকা মাটিতে পড়ে কাঁপতে শুরু করলে প্রথম কয়েক মিনিটে আপনি কী করেন তা জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশে জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NINS) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র ২০১৭ সালের প্রথম জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৮.৪ জন মৃগীরোগে (এপিলেপসি) আক্রান্ত, এবং শহর-গ্রাম নির্বিশেষে এই হার প্রায় সমান। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সক্রিয় মৃগীরোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬৩.৪% কোনো চিকিৎসাই পান না, এবং যারা চিকিৎসা নেন তাদের মধ্যেও ৭২.৫% নিয়মিত ওষুধ খান না। ভুল ধারণা, কুসংস্কার ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে এই বিশাল চিকিৎসা-ফাঁক তৈরি হয়েছে। এই নিবন্ধে খিঁচুনি কেন হয়, কীভাবে চিনবেন, খিঁচুনির সময় ঠিক কী করতে হবে এবং কী কখনোই করা উচিত নয়, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
খিঁচুনি কী এবং কেন হয়?
খিঁচুনি (Seizure) হলো মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর আকস্মিক, অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ফল, যার ফলে শরীরে কাঁপুনি, অচেতনতা, বা আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। একটি খিঁচুনি হওয়া মাত্রই কাউকে "মৃগীরোগী" বলা ঠিক নয় — মৃগীরোগ (Epilepsy) নির্ণয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ বিরোধী লিগ (ILAE)-র মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজন: (১) ২৪ ঘণ্টার বেশি ব্যবধানে কমপক্ষে দুটি অনুদ্দীপ্ত (unprovoked) খিঁচুনি, বা (২) একটি খিঁচুনি হওয়ার পর আগামী ১০ বছরে পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমপক্ষে ৬০% হওয়া, অথবা (৩) নির্দিষ্ট কোনো মৃগীরোগ সিনড্রোম নির্ণয় হওয়া।
খিঁচুনির সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— মৃগীরোগ নিজেই, মস্তিষ্কে আঘাত, স্ট্রোক, মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো সংক্রমণ, রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), মস্তিষ্কের টিউমার, দীর্ঘদিন অ্যালকোহল পানের পর আকস্মিক বন্ধ করা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর।
খিঁচুনির ধরন
ILAE-র বর্তমান শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী খিঁচুনি মূলত দুই ধরনের:
- জেনারেলাইজড (Generalized) খিঁচুনি: মস্তিষ্কের দুই দিকেই একসাথে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে আছে টনিক-ক্লোনিক (শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া এবং তারপর ছন্দময় কাঁপুনি), অ্যাটোনিক (আকস্মিক পেশি-শক্তি হারানো) এবং অ্যাবসেন্স সিজার (কয়েক সেকেন্ডের জন্য শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, বিশেষত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়)।
- ফোকাল (Focal) খিঁচুনি: মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে। "ফোকাল অ্যাওয়্যার" খিঁচুনিতে রোগী সজাগ থাকেন, আর "ফোকাল ইমপেয়ারড অ্যাওয়্যারনেস" খিঁচুনিতে (আগে যাকে কমপ্লেক্স পার্শিয়াল বলা হতো) চেতনা আংশিক লোপ পায় এবং ঠোঁট চাটা বা হাত ঘষার মতো অস্বাভাবিক পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ (automatism) দেখা যেতে পারে।
শিশুদের জ্বরজনিত খিঁচুনি (Febrile Seizure)
৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা ৩৮°C-এর বেশি হলে যে খিঁচুনি হয় এবং যার কারণ মস্তিষ্কের সংক্রমণ বা পূর্ববর্তী কোনো খিঁচুনির ইতিহাস না থাকে, তাকে ফেব্রিল সিজার বলা হয়। এটি সাধারণত ভয়ংকর দেখতে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর নয় এবং মৃগীরোগ নয়। সাধারণ (simple) ফেব্রিল সিজারের ক্ষেত্রে জ্বরের উৎস খুঁজে বের করার পরীক্ষা ছাড়া আলাদা করে ইইজি (EEG) করার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি সাধারণত কোনো অস্বাভাবিকতা দেখায় না বা ভবিষ্যতের পুনরাবৃত্তি নির্ধারণ করতে পারে না। তবে খিঁচুনি জটিল (১৫ মিনিটের বেশি, একই অসুখে একাধিকবার, বা শরীরের একপাশে সীমাবদ্ধ) হলে, স্নায়বিক পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে, বা মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর অসুখের সন্দেহ হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন জরুরি।
খিঁচুনি হলে প্রাথমিক করণীয়
খিঁচুনি চলাকালীন রোগীকে রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, খিঁচুনি থামানোর চেষ্টা নয়:
- রোগীকে একটি নিরাপদ, খোলা জায়গায় রাখুন এবং আশেপাশের শক্ত, ধারালো বা গরম বস্তু (চেয়ার, টেবিলের কোণ, আগুন, গরম পানি) সরিয়ে ফেলুন।
- সম্ভব হলে রোগীকে আলতো করে একপাশে কাত করে শোয়ান (রিকভারি পজিশন), যাতে মুখের লালা বা বমি বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে এবং শ্বাসনালীতে বাধা না হয়।
- মাথার নিচে নরম কিছু — একটি বালিশ, ভাঁজ করা কাপড় বা জ্যাকেট — দিয়ে দিন যাতে মাথায় আঘাত না লাগে।
- গলা বা বুকের আশেপাশে আঁটসাঁট কাপড়, স্কার্ফ বা বেল্ট থাকলে ঢিলা করে দিন।
- খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে তা সময় ধরে দেখুন — এটি জরুরি চিকিৎসার সিদ্ধান্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
- খিঁচুনি থেমে যাওয়ার পরেও রোগী সম্পূর্ণ সজাগ ও স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তার পাশে থাকুন, কারণ এই সময়ে রোগী বিভ্রান্ত বা অবসন্ন থাকতে পারেন।
কী করবেন না
বাংলাদেশে প্রচলিত কিছু ভুল প্রথা আসলে রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে:
- মুখে চামচ, আঙুল, চাবি বা কাপড় ঢুকিয়ে দেবেন না। "জিভ কেটে ফেলবে" বা "জিভ গিলে ফেলবে" — এটি একটি প্রচলিত কিন্তু ভুল বিশ্বাস। বাস্তবে মুখে কিছু ঢোকানোর চেষ্টায় দাঁত ভেঙে যাওয়া, মুখ-চোয়ালে আঘাত, বা সাহায্যকারীর আঙুল কামড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- রোগীকে জোর করে ধরে রেখে খিঁচুনি থামানোর চেষ্টা করবেন না বা হাত-পা চেপে ধরবেন না।
- মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেওয়ার (মাউথ-টু-মাউথ) প্রয়োজন নেই, যদি না খিঁচুনি থামার পরও রোগী শ্বাস নিচ্ছেন না বলে নিশ্চিত হন।
- রোগী সম্পূর্ণ সজাগ হওয়ার আগে মুখে কোনো খাবার, পানি বা ওষুধ দেবেন না — অচেতন অবস্থায় এগুলো শ্বাসনালী বা ফুসফুসে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কখন জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেবেন
নিচের কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান বা জরুরি সেবায় কল করুন:
- খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে — চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে "স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস"-এর পূর্বাবস্থা ধরা হয় এবং জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। পূর্ণ চেতনা না ফিরে ৫ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় খিঁচুনি হলেও তা একই গুরুত্বপূর্ণ জরুরি অবস্থা।
- খিঁচুনি চলাকালীন রোগী আঘাত পেলে (মাথায় আঘাত, পোড়া, হাড় ভাঙা)।
- পানিতে খিঁচুনি হলে — ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- খিঁচুনি থামার পরেও শ্বাসকষ্ট হলে, বা রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না এলে।
- রোগী গর্ভবতী হলে, বা হৃদরোগ/ডায়াবেটিসের মতো আগে থেকে কোনো জটিল রোগ থাকলে।
- এটি যদি রোগীর জীবনের প্রথম খিঁচুনি হয় — কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন অপরিহার্য।
মোবাইলে ভিডিও করা কি সাহায্য করে?
রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর, যদি অন্য কেউ পাশে থাকেন এবং এটি রোগীর সেবায় বিলম্ব না করে, তাহলে মোবাইল ফোনে ৩০-৬০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রেকর্ড করা চিকিৎসকের জন্য মূল্যবান হতে পারে। খিঁচুনি কীভাবে শুরু হয়েছিল, শরীরের কোন অংশে কী রকম কাঁপুনি হচ্ছিল এবং তা কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল — এই তথ্য দেখেই স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অনেক সময় খিঁচুনির ধরন (ফোকাল নাকি জেনারেলাইজড) সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পান, যা পরীক্ষার রিপোর্টে সবসময় স্পষ্ট হয় না। তবে এটি কখনোই রোগীকে একা ছেড়ে দিয়ে বা সাহায্য বিলম্বিত করে করা উচিত নয়।
বয়স্কদের মধ্যে নতুন খিঁচুনি
শুধু শিশু বা তরুণরাই নয়, বয়স্কদের মধ্যেও নতুন করে খিঁচুনি শুরু হতে পারে, এবং এর পেছনে প্রায়ই থাকে স্ট্রোক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, বা আগের কোনো স্ট্রোকের ক্ষতচিহ্ন। বয়স্ক ব্যক্তির জীবনের প্রথম খিঁচুনিকে কখনোই "সাধারণ দুর্বলতা" বলে উপেক্ষা করা উচিত নয় — এটি অন্তর্নিহিত স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার বা অন্য কোনো গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার প্রথম লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য দ্রুত ইমেজিং পরীক্ষা (সিটি স্ক্যান বা এমআরআই) ও বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ভুল ধারণা ও সামাজিক কলঙ্ক
বাংলাদেশে মৃগীরোগ নিয়ে গভীরভাবে প্রচলিত কুসংস্কার রয়েছে। অনেকেই এটিকে "জিনে ধরা", "ভূতে আসর করা" বা অতিপ্রাকৃত অভিশাপ মনে করেন এবং চিকিৎসার বদলে ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসার দিকে ছোটেন — যা মূল্যবান সময় নষ্ট করে এবং রোগ আরও জটিল করে তোলে। একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় অনুমান করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ১.২ থেকে ২ মিলিয়ন মানুষ মৃগীরোগকে অভিশাপ বা মানসিক রোগ ভেবে ভুল করেন। এই কুসংস্কার ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে রোগীরা প্রায়ই শিক্ষা, চাকরি ও বিয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন, যা তাদের চিকিৎসা নিতে আরও নিরুৎসাহিত করে। বাস্তবে মৃগীরোগ সম্পূর্ণভাবে মস্তিষ্কের একটি স্নায়বিক সমস্যা, কোনো অতিপ্রাকৃত বিষয় নয়, এবং সঠিক চিকিৎসায় অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
চিকিৎসা
মৃগীরোগ নির্ণয়ের পর স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টি-এপিলেপটিক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত কিছু জেনেরিক ওষুধের মধ্যে রয়েছে ফেনাইটোইন (Phenytoin), সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট (Sodium Valproate), কার্বামাজেপিন (Carbamazepine) এবং লেভেটিরাসিটাম (Levetiracetam); তীব্র খিঁচুনি বা স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাসের জরুরি চিকিৎসায় ডায়াজেপাম (Diazepam)-এর মতো ওষুধ হাসপাতালে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রায় ৬৫-৭৫% রোগীর খিঁচুনি একমাত্র ওষুধের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণে আসে; যাদের ক্ষেত্রে ওষুধ কাজ করে না (ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট এপিলেপসি), তাদের জন্য নিউরোসার্জারির মাধ্যমে নিরাময়ের সুযোগও থাকে। এই ওষুধগুলো সবসময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খাওয়া উচিত, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে (বিশেষত ফেনাইটোইনের ক্ষেত্রে), এবং উপসর্গ ভালো হয়ে গেলেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আকস্মিকভাবে ওষুধ বন্ধ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে পুনরায় খিঁচুনি বা স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস হতে পারে। প্রায় অর্ধেক রোগীর ক্ষেত্রে ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত সময়ের সাথে কমে আসে বা ডোজ সমন্বয় করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বিশেষ বিবেচনা: গর্ভাবস্থা, গাড়ি চালানো ও ওষুধের মিথস্ক্রিয়া
মৃগীরোগে আক্রান্ত নারীদের গর্ভাবস্থায় সাধারণত চিকিৎসক ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি মা ও শিশু দুজনের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কিছু অ্যান্টি-এপিলেপটিক ওষুধে জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি থাকে, তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগেই স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও গাইনোকোলজিস্টের সাথে আলোচনা করা জরুরি। কিছু অ্যান্টি-এপিলেপটিক ওষুধ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ইনজেকশনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, যা নারীদের জন্য বিশেষভাবে জানা প্রয়োজন। গাড়ি বা মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন — আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছর) সম্পূর্ণ খিঁচুনিমুক্ত থাকার পরই গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও নির্দিষ্ট নিয়ম দেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
গ্যাস্ট্রিক বা হার্টের সমস্যা থেকে পার্থক্য
খিঁচুনিকে প্রায়ই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (সিনকোপ), স্ট্রোক বা হিস্টেরিক্যাল আক্রমণের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়। সিনকোপে সাধারণত রক্তচাপ বা হৃদস্পন্দন কমে যাওয়ার কারণে কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারানো হয় এবং দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া যায়, কাঁপুনি সাধারণত থাকে না বা খুবই সংক্ষিপ্ত হয়। স্ট্রোকে সাধারণত একপাশের শরীর দুর্বল হয়ে যায় বা মুখ বেঁকে যায়, কিন্তু সাধারণত কাঁপুনি থাকে না। সঠিক নির্ণয়ের জন্য ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা (কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল, কী রকম কাঁপুনি হয়েছিল, পরে কেমন অনুভব করেছেন) চিকিৎসককে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরোধ
- শিশুর জ্বর হলে দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যাতে ফেব্রিল সিজারের ঝুঁকি কমে।
- মৃগীরোগ নির্ণীত হলে নিয়মিত ও নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করুন — চিকিৎসার ধারাবাহিকতাই পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ ঘুমের অভাব অনেক রোগীর ক্ষেত্রে খিঁচুনির একটি সাধারণ ট্রিগার।
- অ্যালকোহল পান করলে তা আকস্মিকভাবে বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমান, বা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করুন।
- মোটরসাইকেল চালানো বা নির্মাণকাজের সময় হেলমেট ব্যবহার করে মাথায় আঘাত প্রতিরোধ করুন, যা ভবিষ্যতে খিঁচুনির একটি কারণ হতে পারে।
- গর্ভকালীন নিয়মিত চেকআপ ও প্রসবকালীন সঠিক পরিচর্যা শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবজনিত ক্ষতি এবং পরবর্তীতে খিঁচুনির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
খিঁচুনি দেখতে ভীতিকর মনে হলেও, সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা জানা থাকলে আপনি একজন রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলে সময়মতো যোগ্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্যের জন্য লেখা; ব্যক্তিগত সমস্যায় সর্বদা একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NINS) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র জাতীয় মৃগীরোগ জরিপ, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC)-র খিঁচুনি প্রাথমিক চিকিৎসা নির্দেশিকা এবং আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ বিরোধী লিগ (ILAE)-র নির্ণয় মানদণ্ড অনুসরণে লেখা।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
খিঁচুনির সময় মুখে চামচ বা আঙুল দেওয়া উচিত কি?
খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হবে?
মৃগীরোগ কি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়?
শিশুর জ্বরে খিঁচুনি হলে কি সবসময় মৃগীরোগ ধরা হয়?
মৃগীরোগ কি বংশগত বা জিনে ধরা রোগ?
মৃগীরোগীরা কি গাড়ি বা মোটরবাইক চালাতে পারেন?
গর্ভবতী নারীর মৃগীরোগ থাকলে ওষুধ খাওয়া কি নিরাপদ?
মৃগীরোগের ওষুধ ভালো লাগলে নিজে থেকে বন্ধ করা যাবে কি?
পাঠকের মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
মন্তব্য লিখুন
মন্তব্যে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ চাওয়া বা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন — নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।


